টেবিল টেনিসের সমঝোতার নির্বাচনে শেষ মুহূর্তে কোন্দল

রফিকুল ইসলাম
রফিকুল ইসলাম রফিকুল ইসলাম , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৯:২৭ পিএম, ৩০ জানুয়ারি ২০১৯

সব ঠিকঠাকই ছিল। বাংলাদেশ টেবিল টেনিস ফেডারেশনের নির্বাচনে সমঝোতার একটি প্যানেলই জমা পড়েছিল। মনোনয়পত্র বৈধ হয়েছিল ২৪ জনেরই। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ গঠিত নির্বাচন কমিশন বৃহস্পতিবার চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করলেই সবাই নির্বাচিত হয়ে যাবেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়।

হচ্ছেও তাই। তবে ফেডারেশনের সমঝোতার এ নির্বাচনে কোন্দল ছুঁয়ে গেলো শেষ মুহূর্তে। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাওয়াদের এক সহ-সভাপতি প্রার্থী বুধবার প্রত্যাহার করে নিয়েছেন তার মনোনয়নপত্র। তিনি দেশের কিংবদন্তী টেবিল টেনিস খেলোয়াড় জোবেরা রহমান লিনু। ১৬ বার জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হয়ে তিনি নাম উঠিয়েছেন গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে। এক সময় ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদকও ছিলেন।

হঠাৎ করে কেন লিনুর নির্বাচন থেকে সরে যাওয়া? এ প্রশ্নের উত্তরে দুই যুগ নারীদের টেবিল টেনিসে রাজত্ব করা লিনু জাগো নিউজকে দিলেন ব্যাখ্যা, ‘আমাকে সহ-সভাপতির তালিকায় রাখা হয়েছে দুই নম্বরে। এক নম্বর সহ-সভাপতি করা হয়েছে খোন্দকার হাসান মুনীর সুমনকে। আমি এটা মেনে নিতে পারি না। যেখানে আমার সম্মান থাকবে না সেখানে আমার থেকেও লাভ নেই। তাই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালাম, প্রত্যাহার করে নিলাম মনোনয়নপত্র।’

লিনুর এমন অভিযোগ অবশ্য মানতে পারছেন না সমঝোতার কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী আবাহনীর পরিচালক শেখ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম। শেষ মুহূর্তে লিনুর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারকে দুঃখজনক উল্লেখ করে নতুন সাধারণ সম্পাদক হতে যাওয়া জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘নির্বাচনের ৭৬ জন কাউন্সিলরের মধ্যে ৬৭ জনই চেয়েছিলেন খোন্দকার হাসান মুনীর সুমন সাধারণ সম্পাদক পদে থাকুক। আমিও এ দায়িত্ব নিতে চাইনি। কারণ সময় দিতে পারবো না। কিন্তু খোন্দকার হাসান মুনীর সুমন নাছোরবান্দা, আমাকেই সাধারণ সম্পাদক বানাবেন। পরে আমরা একটি সমঝোতার প্যানেল করে জমা দিয়েছি।’

জোবেরা রহমান লিনুর অভিযোগ প্রসঙ্গে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘বুধবার বিকেলে সে (লিনু) আমাকে ফোন করে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের কথা জানালেন। আমি কারণ জনাতে চাইলে বললেন তাকে কেন দুই নম্বরে রাখা হয়েছে? আমি বোঝানোর চেষ্টা করলাম- এখানে নম্বর কোনো বিষয় নয়। চারজনই সহসভাপতি, কোনো সিনিয়র নেই। ক্ষুদ্র বিষয় নিয়ে মন খারাপ না করার কথা বললাম তাকে। তারপরও মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিলো।’

খোন্দকার হাসান মুনীর সুমনকে এক নম্বর সহ-সভাপতি রাখার ব্যাখ্যা দিয়ে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘সে বিদায়ী কমিটির সাধারণ সম্পাদক। বেশিরভাগ কাউন্সিলর তাকেই আবার এ পদে দেখতে চেয়েছিলেন। আমরা সম্মান দিয়েই তাকে সবার উপরে নাম রেখেছি। সহ-সভাপতি চারজনের মধ্যে লিনুর বড় বোন মুনিরা মোর্শেদ হেলেন আছে তিন নম্বরে। হেলেন দেশের প্রথম জাতীয় চ্যাম্পিয়ন। আমরা সবাই বসেই সব সিদ্ধান্ত নিলাম। এখন সে কাদের বুদ্ধিতে মনোনয়নপত্র প্রত্যহার করে নিলেন বুঝতে পারছি না।’

বাংলাদেশ টেবিল টেনিস ফেডারেশনের নির্বাচনে ভোটের তারিখ নির্ধারণ আছে ৫ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু ভোটের আর প্রয়োজন হচ্ছে না। ২৫ সদস্যের কমিটির ২৪ পদে নির্বাচন হয়ে থাকে। সরকার মনোনীত সভাপতি আছেন সাবেক অর্থ সচিব হেদায়েতউল্লাহ আল-মামুন। জোবেরা রহমান লিনু মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেয়ায় একজন সহসভাপতি নির্বাচিত করতে আবার আনুষ্ঠানিকতা সারতে হবে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে।

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন যারা

সহ-সভাপতি: খোন্দকার হাসান মুনীর সুমন, মুনিরা মোর্শেদ হেলেন ও মো. মাসুদুর রহমান।

সাধারণ সম্পাদক: শেখ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম।

যুগ্ম সম্পাদক: এসএম জাহাঙ্গীর ও কে এম তৌহিদুল ইসলাম।

কোষাধ্যক্ষ: আহসান আহমেদ অমিত।

সদস্য: শামসুল আলম আনু, সাইদুল হক সাদী, আনোয়ার কবীর চৌধুরী বাবু, তাজউদ্দিন পাপ্পু, চৌধুরী আশিকুল হাসান শিমুল, কাজী মাইনুজ্জামান পিলা, আ.ন.ম আমিনুল হক মামুন, হাসান জহির মুকুল, গোলাম মারুফ মনা, গোলাম রব্বানী, এনামুল হক সেলিম, আসিফ আহমেদ, শামসুজ্জামান, মোহাম্মদ আলী, সাইফফ’ল আলম ও এ কে এম কামরুজ্জামান।

আরআই/এসএএস/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :