টেবিল টেনিসের চেহারা বদলে দিতে চান নতুন সাধারণ সম্পাদক

রফিকুল ইসলাম
রফিকুল ইসলাম রফিকুল ইসলাম , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৮:৫৪ পিএম, ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

টেবিল টেনিস ফেডারেশনের নির্বাচনের তারিখ ছিল ৪ ফেব্রুয়ারি; কিন্তু নির্বাচনে একটি প্যানেল হওয়ায় ভোটের আর প্রয়োজন নেই। বৃহস্পতিবার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ২৪ সদস্যের কমিটির ২৩ জনের নাম বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত ঘোষণা করেছে।

সহসভাপতি চারজনের জায়গায় তিনজন প্রার্থী থাকায় একটি পদ খালি। টেবিল টেনিস ফেডারেশনের নতুন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন গত তিন মেয়াদে সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করা শেখ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম। তিনি আবাহনীর পরিচালক এবং ক্লাবটির টেবিল টেনিস কমিটির চেয়ারম্যান।

দেশের একটি বড় ক্লাবের দীর্ঘদিন ধরে টেবিল টেনিস কমিটির চেয়ারম্যান এবং ফেডারেশনের সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করায় খেলাটি নখদর্পণে শেখ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের। দেশের টেবিল টেনিসের উন্নয়নে নিজস্ব কিছু চিন্তাধারা এবং পরিকল্পনা নিয়েই বসতে যাচ্ছেন ফেডারেশনের প্রধান নির্বাহীর চেয়ারে। দায়িত্ব নেয়ার আগেই জাগো নিউজের সঙ্গে বিশেষ সাক্ষাৎকারে নিজের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন নতুন সাধারণ সম্পাদক। তার সাক্ষাৎকারের চৌম্বুক অংশ পাঠকদের সামনে তুলে ধরা হলো।

জাগো নিউজ : বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় বাংলাদেশ টেবিল টেনিস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় আপনাকে অভিনন্দন।

জাহাঙ্গীর আলম : আপনাকে ধন্যবাদ। তদেরকেও ধন্যবাদ, যাদের সহযোগিতায় আমি সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হতে পেরেছি।

জাগো নিউজ : দীর্ঘদিন টেবিল টেনিসে কাজ করছেন। এখন কী ভিশন নিয়ে সাধারণ সম্পাদক হলেন? টেবিল টেনিস আপনার কাছ থেকে নতুন কী দেখতে পাবে?

জাহাঙ্গীর আলম : দেখুন, আমি সাধারণ সম্পাদক; কিন্তু এই খেলাটির উন্নয়নে সবার সহযোগিতা লাগবে। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। আমি টেবিল টেনিসের সাবেক খেলোয়াড় যারা আছেন, যারা সংগঠক আছেন সবার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবো। দায়িত্বটা একজনের হাতে রাখতে চাই না। যারা দায়িত্ব পালন করতে আগ্রহী, তারা কী কী দায়িত্ব পালন করতে চান আমি সেটাই তাদের দেবো এবং কাজটাও আদায় করে নেবো। এক কথায় একটা টিম হিসেবে আমরা কাজ করে টেবিল টেনিসের উন্নতি করতে চাই।

জাগো নিউজ : সেটা কিভাবে? দায়িত্ব নিয়ে সবাই এ কথাগুলো বলেন; কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই দেখা যায় খেলাগুলোই ঠিকমতো চলে না। আপনার মেয়াদে আমরা কী দেখবো?

জাহাঙ্গীর আলম : টেবিল টেনিস এখন থেকে একটা ক্যালেন্ডারের মাধ্যমে চলবে। আমরা একটা বর্ষপঞ্জি তৈরি করবো। সেটা হবে ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক খেলার সঙ্গে সমন্বয় করে। ঘরোয়াভাবে যে প্রতিযোগিতাগুলো হয়ে থাকে সেগুলোর পাশপাশি নতুন কিছু টুর্নামেন্টও দেখবেন আপনারা।

জাগো নিউজ : সেটা কী ঘরোয়া পর্যায়ে? নাকি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টও দেখা যাবে?

জাহাঙ্গীর আলম : দুই ক্ষেত্রেই। এখন আমাদের বছরে দুটি ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপ হয়। প্রিমিয়ার লিগ, স্বাধীনতা কাপ, ফেডারেশন কাপের পাশাপাশি র্যাংকিং টুর্নামেন্টও হয়। এগুলো নিয়মিত চালিয়ে গেলে সেটা কম নয়। খেলোয়াড়রা যাতে আর্থিকভাবে সুযোগ-সুবিধা পেতে পারেন সে জন্য প্রাইজমানি টুর্নামেন্ট নিয়মিত করার ইচ্ছে আছে আমাদের। এছাড়া আমরা স্কুল টুর্নামেন্টে জোর দেবো। স্কুল টুর্নামেন্ট নিয়মিত হলে বাচ্চারা টেবিল টেনিস খেলায় আগ্রহী হবে। আমরা যে ক্যালেন্ডার তৈরি করবো সেখানে স্কুল টুর্নামেন্ট থাকবে। বাচ্চাদের এ টুর্নামেন্টটি আমি বড় করেই করতে চাই।

Tenis

জাগো নিউজ : আপনার সময়ে কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট দেখা যাবে কি না?

জাহাঙ্গীর আলম : হ্যাঁ। আমি জাতীয় দলভিত্তিক বড় মাপের একটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট করবো। আমার লক্ষ্য আছে এ বছরের শেষ দিকে, অর্থাৎ সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের দিকে ১২ থেকে ১৫ টি দেশ নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট করবো।

জাগো নিউজ : কোন মানের আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট দেখবে দর্শক?

জাহাঙ্গীর আলম : অবশ্যই ভালো মানের। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর পাশাপাশি আমরা টেবিলে টেনিসে বিখ্যাত কিছু দেশও আনবো। এই যেমন চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, উত্তর কোরিয়া এবং আফ্রিকারও যে দেশগুলো ভালো টেবিল টেনিস খেলে তাদের মধ্যে থেকে দল আনার চেষ্টা করবো। তবে এটা ঠিক, চাইলেই সব দল পাওয়া যাবে না। আমাদের টুর্নামেন্টের সঙ্গে দেশগুলোর ক্যালেন্ডার মিলিয়ে তারপর তো আসতে হবে।

জাগো নিউজ : কী নামে টুর্নামেন্ট হতে পারে?

জাহাঙ্গীর আলম : সব কিছুই আমরা নির্বাহী কমিটির সভায় ঠিক করবো। তবে ব্যক্তিগতভাবে আমি শেখ কামাল বা শেখ রাসেলের নামে এ টুর্নামেন্ট করতে আগ্রহী। এই নামে টুর্নামেন্ট করবো বলেই আমরা চাইবো ভালো মানের দেশ আনতে।

জাগো নিউজ : এ বছরই হাঙ্গেরিতে টেবিল টেনিসের ওয়ার্ল্ডকাপ আছে। বাংলাদেশ কী সেখানে খেলতে যাবে? আর গেলেও সেখানে যাওয়ার আগে ভালো কোনো প্রস্তুতি থাকবে কি না খেলোয়াড়দের?

জাহাঙ্গীর আলম : হ্যাঁ। আপনি ঠিকই বলেছেন। এ বছর মার্চের শেষ কিংবা এপ্রিলের প্রথম দিকে ওয়ার্ল্ডকাপ হবে হাঙ্গেরিতে। আমরা কিন্তু এই ওয়ার্ল্ডকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছি গত বছর শ্রীলংকায় একটি টুর্নামেন্ট খেলে। তখন আমরা ৭ টি ব্রোঞ্জ জিতেছিলাম। ওয়ার্ল্ডকাপে আমরা কতজন খেলোয়াড় পাঠাতে পারবো তা এখনো জানায়নি আয়োজকরা। তবে যাদেরই পাঠাই, তাদের ভালো প্রশিক্ষণ দিয়েই পাঠাবো। আমার ইচ্ছে আছে, ওয়ার্ল্ডকাপের আগে ৫ জন ছেলে ও ৫ জন মেয়েকে ভারতে পাঠিয়ে ট্রেনিং করাতে।

Tenis

জাগো নিউজ : বাইরে গিয়ে কোচিং করানো এবং বিদেশি কোচ এনে কোচিং করানোটা ব্যয়বহুল। তো দেশের কোচের মান বৃদ্ধির কোনো পরিকল্পনা আছে কি না?

জাহাঙ্গীর আলম : গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নই করেছেন। আমি এই জায়গাটায় অনেক গুরুত্ব দেবো। ভালো কোচ না থাকলে ভালো খেলোয়াড় আশা করা যায় না। উন্নতমানের বিদেশি কোচ আনতে গেলে অনেক টাকা লাগে। তাই আমার অন্যতম কাজ হলো স্থানীয় কোচদের ডেভেলপমেন্ট। দেশে যে টেবিল টেনিস কোচ আছেন, যারা এই পেশায় আসতে চান তাদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাই হবে আমাদের কমিটির অন্যতম একটা কাজ।

জাগো নিউজ : আন্তর্জাতিক টেবিল টেনিস ফেডারেশন তো বিভিন্ন দেশে কোচ পাঠিয়ে থাকে। আমরা সে সুযোগ নিতে পারবো কি না?

জাহাঙ্গীর আলম : অবশ্যই। আপনাকে জানিয়ে রাখি, বর্তমানে ভারতের একজন কোচ আমাদের ৬ জন ছেলে ও ৬ জন মেয়েকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। তাকে কিন্তু আমরা পেয়েছি আন্তর্জাতিক টেবিল টেনিস ফেডারেশনের মাধ্যমে।

জাগো নিউজ : টেবিল টেনিস দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে কী কী পরিকল্পনা নেবেন?

জাহাঙ্গীর আলম : যে সব জেলায় টেবিল টেনিসের বেশি চর্চা হয়, যে সব জেলা থেকে অতীতে অনেক খেলোয়াড় উঠে এসেছেন সেগুলোকে আমরা এমনিতেই প্রাধান্য দিয়ে থাকি। এই যেমন নড়াইলের কথাই বলবো। আমরা অন্যান্য জেলাগুলোতে টেবিল টেনিসের যে পরিমান সরঞ্জাম দিয়ে থাকি তার চেয়ে বেশি দিয়ে থাকি নড়াইলে। এভাবে যেখানে টেবিল টেনিসের বেশি চর্চা হবে সেখানে বেশি সুযোগ সুবিধা দেবো।

জাগো নিউজ : কিছু টুর্নামেন্ট ঢাকার বাইরে করা যায় কি না?

জাহাঙ্গীর আলম : আমরা কিন্তু ঢাকার বাইরে টুর্নামেন্ট করি। যেমন দিনাজপুর, চট্টগ্রাম ও পটুয়াখালীতে আগে ন্যাশনাল হয়েছে। বিভাগ বা জেলা শহরে টুর্নামেন্ট হলে স্থানীয় খেলোয়াড়দের আগ্রহ বাড়ে। যে কারণে, আমরা ঢাকার বাইরে আমরা ঘরোয়া খেলাধুলা করতে আগ্রহী।

জাগো নিউজ : ঘরোয়া প্রতিযোগীতাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে মর্যদার প্রিমিয়ার লিগ। এই লিগকে আরো আকর্ষণীয় করতে কোনো পরিকল্পনা কি নেবেন?

জাহাঙ্গীর আলম : আমাদের সর্বশেষ প্রিমিয়ার লিগটা কিন্তু বেশ জমজমাট হয়েছিল। আসলে বিদেশি খেলোয়াড় ভালো আসলেই লিগ আকর্ষণীয় হয়। তবে আমি ২ জনের বেশি বিদেশির পক্ষে না। কারণ, তাহলে আমাদের স্থানীয়দের খেলার সুযোগ কমে যায়। আমরা ক্লাবগুলোকে অনুরোধ করবো যাতে তারা ভালো মানের বিদেশি খেলোয়াড় আনে।

জাগো নিউজ : আপনার মেয়াদ শেষে বাংলাদেশের টেবিল টেনিসকে কোন জায়গায় দেখতে চান?

জাহাঙ্গীর আলম : আমরা যারা নির্বাহী কমিটিতে আছি তারা একটা টিম হিসেবে কাজ করে টেবিল টেনিসের উন্নতি করতে চাই। মেয়াদ শেষে আমি বাংলাদেশের টেবিল টেনিসকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় একটি ভালো অবস্থানে দেখতে চাই। এ জন্য আমার সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

জাগো নিউজ : অনেকক্ষণ সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

জাহাঙ্গীর আলম : আপনাকে ও জাগো নিউজকেও ধন্যবাদ।

আরআই/আইএইচএস/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :