‘বিশ্বকাপে একটাই স্বপ্ন’

ক্রীড়া প্রতিবেদক ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:৩৯ পিএম, ২৩ মে ২০১৯

লাগাতার পরিশ্রম করে সুযোগ পাওয়া, কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়ে বাদ পড়া। হতাশ হয়ে সব ছেড়ে দেয়া, পুনরায় শুরু করে বাজিমাত করা- বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ মিঠুনের ক্যারিয়ারকে বর্ণনা করা যায় এভাবেই।

বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে তাকে ভাবা হতো অমিত সম্ভাবনাময় এক ভবিষ্যত তারকা। যিনি শুরুতে নিজের নামের প্রতি বিচার করতে পেরেছেন খুব অল্পই। ২০০৬ সালে মাত্র ১৬ বছর বয়সে বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে নাম লিখিয়েছিলেন মোহাম্মদ মিঠুন আলি। অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলকে প্রতিনিধিত্ব করা মিঠুন শুরুতে নিজেকে সেভাবে মেলে ধরতে পারেননি।

তাই তো ২০১৪ সালে ওয়ানডে অভিষেকের পরেও জাতীয় দলে থিতু হতে পেরিয়ে যায় প্রায় ৪ বছর। ২০১৮ সালে বদলে যায় মিঠুনের ক্যারিয়ারের গতিবিধি। গতবছর নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টানা দুই ম্যাচে ফিফটি এবং এশিয়া কাপের মতো বড় আসরে ২টি ফিফটি হাঁকিয়ে জাতীয় দলের নিজের স্থান পাকাপোক্ত করেন মিঠুন। তারই ধারাবাহিকতায় ২০১৯ সালের বিশ্বকাপ স্কোয়াডেও সুযোগ পেয়ে যান ২৮ বছর বয়সী এ মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান।

দারুণ শুরুর পরেও ক্যারিয়ার থেকে হারিয়ে গেছে কতগুলো বছর, খেলতে পারেননি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে। তবু এসব নিয়ে আফসোসে সময় নষ্ট করার পক্ষপাতি নন মিঠুন। তাই তো প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ স্কোয়াডে সুযোগ পেয়েও উচ্ছ্বাসের জোয়ারে গা ভাসাতে রাজি নন তিনি। সামনের দিনগুলোকে কাজে লাগানোর মিশন নিয়েই বিশ্বকাপের মঞ্চে যাত্রা করেছেন মিঠুন।

Mohammad-Mithun-1

যে কারণে বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে খেলতে গেলেও সেভাবে নিজের কোনো লক্ষ্য ঠিক করেননি তিনি। তার লক্ষ্য একটাই, দলকে সাহায্য করা। স্বপ্নও তাই। সুযোগ পেলে দলের জন্য অবদান রাখতে পারাই মূল কাজ হবে জানিয়ে গেছেন মিঠুন।

‘আমি কখনো সেভাবে লক্ষ্য নির্ধারণ করি না। তবে চেষ্টা থাকে প্রতি ম্যাচেই যেন দলের জন্য অবদান রাখতে পারি। যে জায়গায় খেলব, সেই জায়গা থেকে দলকে যেন সেরাটা দিতে পারি। একটি-দুটি ম্যাচ নিয়ে কখনো পরিকল্পনা করতে পারি না। ভালো কিছু করতেই থাকলে টুর্নামেন্ট শেষে নিশ্চয়ই রেকর্ডও ভালো কিছুই হবে।’

মিঠুন আরও বলেন, ‘এছাড়া আমাদের দলে অভিজ্ঞতা আছে, তরুণরাও আছে। যদি সবার অবদান থাকে, কাজ সঠিকভাবে করলে আমরা ভালো কিছুই করব। একটাই স্বপ্ন, বিশ্বকাপে আমি বাংলাদেশ দলকে ম্যাচ জিতিয়ে অপরাজিত থেকে বের হয়ে আসছি। এর চেয়ে ভালো লাগার কিছু তো হতে পারে না। সেটা হোক ১০ রান, ২০ রান বা ১০০ রান’- বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়ার আগে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন মিঠুন।

এসএএস/আইএইচএস/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :