অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে আলোচনায় স্কোয়াশ

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৮:৩৩ পিএম, ০৭ আগস্ট ২০১৯

দেশের ৫৩টি ক্রীড়া ফেডারেশন ও অ্যাসোসিয়েশনের মধ্যে অনেক কম আলোচিত স্কোয়াশ। কার্যক্রম কম থাকায় বাংলাদেশ স্কোয়াশ র্যাকেটস ফেডারেশন সবসময়ই থাকে আলোচনার বাইরে।

হঠাৎ করে সেই ফেডারেশন নিয়ে মিডিয়ার ব্যস্ততা। না, কোনো টুর্নামেন্ট আয়োজন কিংবা গুরুত্বপূর্ণ কোনো কার্যক্রমের জন্য নয়, এই ফেডারেশন হঠাৎ আলোচনায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে।

ফেডারেশনের অ্যাডহক কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর হামিদের (সোহেলে হামিদ) বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনেছেন কমিটিরই সদস্য হেদায়েত উল্লাহ তুর্কী।

ভেতরে ভেতরে কাদা ছোঁড়াছুড়ি আছে অনেক ফেডারেশনেই। একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে থাকেন হরহামেশা। তবে তা বেশিরভাগই অনানুষ্ঠানিক; কিন্তু স্কোয়াশ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে তারই কমিটির সদস্য অভিযোগগুলো উপস্থাপন করেছেন আনুষ্ঠানিকভাবে, সংবাদ সম্মেলন করে।

আজ (বুধবার) বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের সভা কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে সোহেল হামিদের বিরুদ্ধে এক গাদা অভিযোগ এনেছেন হেদায়েত উল্লাহ তুর্কী। সঙ্গে অনিয়মের কিছু প্রমাণাদিও সাংবাদিকদের সরবরাহ করেছেন তিনি।

হেদায়েত উল্লাহ তুর্কীর অভিযোগের তালিকা বেশ লম্বা। চার পৃষ্ঠায় ২৯টি অভিযোগ এবং সে সঙ্গে আরো ৮-১০ পৃষ্ঠার বিল-ভাউচার নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন তিনি।

তার অভিযোগগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- সাধারণ সম্পাদক এককভাবে স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে ফেডারেশন পরিচালনা করেন। গত চার বছরে মাত্র একবার ফেডারেশনের কার্যালয় খুলেছেন। ফেডারেশনের অফিস সহকারীকে ছেলের স্কুলে আনা-নেয়ার কাজে খাটান। এমনকি সোহেল হামিদ তার ছেলেকে খেলোয়াড় দেখিয়ে আমেরিকায় ঘুরিয়ে এনেছেন- এমন অভিযোগও করেছেন ওই সদস্য।

অন্য অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে, চলমান এসএ গেমসে ক্যাম্পে ক্রীড়াবিদদের জন্য বিওএ প্রদত্ত বরাদ্দকৃত অর্থ সঠিকভাবে না দেয়ার। যাদের ক্যাম্পে ডাকা হয়েছে তারা অযোগ্য। সাধারণ সম্পাদক নিজের পছন্দমতো খেলোয়াড়দের ক্যাম্পে ডেকেছেন।

২০১৬ সালে প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচির জন্য জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের বরাদ্দকৃত ১২ লাখ এবং এ বছর অভ্যন্তরীন গেমসের জন্য বরাদ্দকৃত ৫ লাখ টাকা নয়-ছয় করেছেন- এমন অভিযোগও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে করেছেন হেদায়েত উল্লাহ তুর্কি।

বিকেলে নিজের বিরুদ্ধে অভিযোগ সম্পর্কিত সংবাদ সম্মেলনের খবর পাওয়ার পর সোহেল হামিদ ছুটে এসেছিলেন স্টেডিয়াম পাড়ায়। বাংলাদেশ ক্রীড়ালেখক সমিতির কার্যালয়ে বসে তিনি তাৎক্ষণিক সংবাদ সম্মেলন করে তার বিরুদ্ধে আনীত বিভিন্ন অভিযোগের ব্যাখ্যা প্রদান করেন।

সোহেল হামিদ বলেছেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো দেখলাম। এসব হাস্যকর ও ভিত্তিহীন ছাড়া কিছুই নয়। আমি বিষয়টি সভাপতি মহোদয়কে (লে.কর্ণেল ফারুক খান (অব.) এমপি) অবহিত করবো। কমিটির সবাইকেও জানাবো। আমরা তার বিরুদ্ধে অফিসিয়ালি ব্যবস্থা নেবো।’

হেদায়েত উল্লাহ তুর্কী সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির উপস্থাপন করে তার তদন্তও চেয়েছেন। এ প্রসঙ্গে সোহেল হামিদ বলেছেন, ‘আমিও চাই তদন্ত হোক। তদন্তের মাধ্যমেই সবকিছু প্রকাশ্যে বেরিয়ে আসুক।’

আরআই/আইএইচএস/এমএস