হকি রাঙাচ্ছে কিশোরগঞ্জের কিশোরীরা

রফিকুল ইসলাম
রফিকুল ইসলাম রফিকুল ইসলাম , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৭:১২ পিএম, ২৩ আগস্ট ২০১৯

কিশোরগঞ্জের সদর উপজেলার আরজত আতরজান উচ্চ বিদ্যালয়ের বেশ সুনাম আছে খেলাধুলায়। হকি, বাস্কেটবল, হ্যান্ডবল, ভলিবল, অ্যাথলেটিকস, টেবিল টেনিস, রাগবিসহ নানা খেলায় মুখরিত থাকে এই স্কুলের মাঠ। বিশেষ করে হকি আর বাস্কেটবলে ইন্টার স্কুল প্রতিযোগিতায় অপ্রতিরোধ্য এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। এ বিদ্যালয়ের ৭ কিশোরী আছেন জাতীয় অনূর্ধ্ব-২১ নারী হকির ক্যাম্পে। তাদের চোখে রঙিন স্বপ্ন। হকি স্টিক হাতেই মুগ্ধতা ছড়াতে চান তারা।

সুমী আক্তার, রিয়া আক্তার স্বর্ণা, ফারদিয়া আক্তার রাত্রী, তারিন আক্তার খুশি, রিতু আক্তার, সানিয়া আক্তার, সানজিদা আক্তার মনিরা এই বিদ্যালয়েরই ছাত্রী। সানজিদা আক্তার মনি ছাড়া বাকিরা স্কুলের গণ্ডি পার হয়ে এখন পড়ছেন কলেজে। বিদ্যালয় থেকে দলছুট হলেও তারা এবার একত্রে জাতীয় অনূর্ধ্ব-২১ হকি ক্যাম্পে।

সবার বাড়িও কাছাকাছি। কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায়। সুমী, স্বর্ণা ও রাত্রীর গ্রামের নাম পূর্ব তারাপাশা, খুশির বাড়ি পশ্চিম তারাপাশায়, রিতু ও সানিয়ার গ্রাম যাশোদল মধ্যপাড়া এবং সানজিদার মনিপুর ঘাট। একই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হওয়ায় হৃদ্যতার গাঁথুনিও তাদের অনেক। স্কুলের এক ছাদ থেকে আলাদা হলেও এখন জাতীয় দলের লাল-সবুজ পতাকার নিচে আবার এক কাতারে কিশোরগঞ্জের এই ৭ কিশোরী।

ক্রীড়া পরিদপ্তরের প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচিতে এই স্কুলের ৯ জন ছিলেন। এর মধ্যে একজন বাছাইয়ে বাদ পড়েছেন, আরেকজন চাকরি নিয়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে। যে ৭ জন আছেন এই স্কুলের তারা সবাই চূড়ান্ত দলে জায়গা পেতে করছেন কঠোর পরিশ্রম। ক্রীড়া পরিদপ্তরের পরিচালক তারিক উজ জামান নান্নু মেয়েদের ক্যাম্পের প্রধান কোচ। তার সঙ্গে আছে হেদায়েতুল ইসলাম রাজিব। এই দুই কোচের অধীনে মেয়েরা প্রতিদিন অনুশীলন করছেন আগামী সেপ্টেম্বরে সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিতব্য এএইচএফ কাপ জুনিয়র নারী (অনূর্ধ্ব-২১) হকিতে অংশ নেয়ার জন্য।

কিশোরগঞ্জের ৭ কিশোরীর মধ্যে তিনজন স্বর্ণা, সুমী ও রিতু গোলরক্ষক। ভারতের জাতীয় একাডেমির সঙ্গে ৬ ম্যাচের যে সিরিজ চলছে বাংলাদেশের মেয়েদের তার প্রথম দুটি ম্যাচে দারুণ খেলেছিলেন দুই গোলরক্ষক স্বর্ণা ও সুমী। ডিফেন্সে খেলেন সানিয়া, মাঝমাঠে রাত্রী ও মনি এবং আক্রমণভাগে খুশি।

মজার বিষয় হলো, আরজত আতরজান উচ্চ বিদ্যালয়ের সব খেলার কোচিং করান একজন ফুটবল রেফারি। নাম তার রিপেল হাসান চৌধুরী। তার সঙ্গে আছেন স্কুলের ক্রীড়া শিক্ষক আবদুল্লাহ। এই দুই জনই স্কুলের ছেলে-মেয়েদের সব ধরনের খেলাধুলায় প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন।

হকির এই ৭ মেয়ের মধ্যে রাত্রীর এক ভাই রাকিবুল হাসান রকি আছেন ছেলেদের অনূর্ধ্ব-২১ ক্যাম্পে। সেও রাত্রীর মতো মিডফিল্ডার। এই স্কুলেরই ছাত্র ছিলেন। এখন বিকেএসপিতে। রাত্রীর এক বোন লিনা চৌধুরী অ্যাথলেটিকস খেলতেন। তিনি জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়েছেন তাদেরই কোচ রিপেল হাসান চৌধুরীকে। রিনা চৌধুরীও আছেন অনূর্ধ্ব-২১ নারী হকি ক্যাম্পে অফিসিয়াল হিসেবে।

গোলরক্ষক সুমী আক্তার বলেন, ‘আমরা সবাই চেষ্টা করছি চূড়ান্ত দলে জায়গা করে নিতে। আমরা অনেক খেলাই খেলতাম। তবে এখন হকির জাতীয় দলের ক্যাম্পে ডাক পাওয়ায় অন্য খেলায় আর মন নেই। এখন আমাদের ধ্যান-জ্ঞ্যান হকিতে। হকির স্টিক হাতেই আমরা বড় খেলোয়াড় হতে চাই। হকির মাধ্যমেই চাই নিজেদের ক্যারিয়ার গড়তে, দেশের জন্য কিছু করতে।’

আরআই/এমএমআর/এমকেএইচ