এবার কানাডাগামী তায়কোয়ানদো দলের সঙ্গে যুগ্ম সচিব

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৬:০৫ পিএম, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

বিভিন্ন ক্রীড়া দলের সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর নতুন কিছু নয়। ফেডারেশনের সঙ্গে সম্পৃক্ত না হয়েও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কর্মকর্তারা ঢুকে পড়েন বিদেশগামী বিভিন্ন ক্রীড়া দলে।

বছর দুয়েক আগে পোল্যান্ডগামী মার্শাল আর্ট দলের সঙ্গে সরকারের এক যুগ্ম সচিব এবং দুই মন্ত্রীর পিএস ও পিএ, জাপানগামী শুটিং দলের সঙ্গে এক সিনিয়র সহকারী সচিবের নাম থাকাটা ছিল তখন ক্রীড়াঙ্গনের অন্যতম আলেচিত বিষয়।

বিশেষ করে শুটিং দলের সরকারি অনুমতির (জিও) কপিতে স্বাক্ষরদাতা এক সিনিয়র সহকারী সচিব ‘মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি’ হিসেবে তার নামটি নিজ হাতে লিখে তালিকায় বসিয়ে দিয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন।

তখন তৎকালীন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ড. বীরেন শিকদার বলেছিলেন, ‘কোনো সরকারি কর্মকর্তা যদি সংশ্লিষ্ট খেলাটির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকেন, তাহলে তার দলের সঙ্গে কোথাও যাওয়াটা দোষের কিছু নয়। এর বাইরে কেউ যেতে চাইলে সেটা ঠিক নয়।’

কিন্তু এ বেঠিক কাজটি বন্ধ হয়নি। বরং ক্রীড়া দলের সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ আগের চেয়ে আরো বেড়েছে। এ সফরগুলো বেশি হচ্ছে ছোট ছোট খেলায়। সাধারণত যে সব খেলার বিদেশ সফর ও কোথায় কি টুর্নামেন্ট তা নিয়ে মানুষের কোনো আগ্রহ নেই। আলোচনার বাইরে থাকা এই খেলাগুলোর বিদেশে কোনো প্রতিযোগিতা হলে সেখানে দলের সঙ্গে ঢুকে পড়েন সরকারি কর্মকর্তারা। দু-একটা জানা যায়, বেশিরভাগই থাকে অজানা।

এই তো কয়েক দিন আগে তাসের বিশ্বকাপ খেলতে চীনগামী ব্রিজ দলের সঙ্গে একজন যুগ্ম সচিব, একজন উপসচিব এবং সচিবের পিএস এর নাম থাকাটা আলোচনায় এসেছিল। বিশ্বকাপে বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা কেমন পারফরম্যান্স করেন তা পর্যবেক্ষণের জন্য তারা চীন যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। মিডিয়ায় খবর প্রকাশ হলে অনেকে যাননি।

এবার কানাডাগামী তায়কোয়ানদো দলের সঙ্গে নাম আছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের এক যুগ্ম সচিবের। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশ তায়কোয়ানদো ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল ইসলাম রানা জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমাদের দলের ম্যানেজার হচ্ছেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. ওমর ফারুক।’

মো. ওমর ফারুক তো তায়কোয়ানদো ফেডারেশনের কেউ নন। তাহলে তিনি কেন ম্যানেজার? জবাবে মাহমুদুল ইসলাম রানা বলেন, ‘ওনাকে ম্যানেজার বানিয়েছি আমাদের পক্ষ থেকে। তাছাড়া ম্যানেজার যে কোনো লোক হতে পারেন। আপনিও হতে পারবেন। কোচ হতে পারবেন না। উনি যেতে ইন্টারেস্টেড ছিলেন। তিনি বলেছিলেন, তাকে দলের ম্যানেজার হিসেবে নেয়া যায় কি না। আমরা সেটা মিটিংয়ে প্রস্তাব করি। তারপর আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

বাংলাদেশ তায়কোয়ানদো ফেডারেশন সূত্রে জানা গেছে, সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল ইসলাম রানা নিজেই দলের কোচ। খেলোয়াড় আছেন ১০ জন। এর মধ্যে পাঁচজন নারী। খেলোয়াড়রা হলেন- হাবিবুর রহমান, মাসুদ খান, আবদুল্লাহ আল নোমান, উজ্জ্বল কুমার দেব, রুমকী সিদ্দিকা, আনোয়ারা বেগম, শিউলি আক্তার, কাজী মাহবুবা বানু, মির্জা ফারুক নাঈম ও উইদাত আকবর সোনিয়া।

আগামী ২ থেকে ৬ অক্টোবর কানাডার মন্ট্রিলে হবে ‘কানাডা ওপেন তায়কোয়ানদো চ্যাম্পিয়নশিপ-২০১৯’। এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতেই কানাডা যাবে ১২ সদস্যের দল। তবে ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল ইসলাম রানা আজ (সোমবার) বলেছেন, ‘আমাদের এখনো ভিসা হয়নি। কাল-পরশু হয়তো পাসপোর্ট পাবো।’

আরআই/আইএইচএস/এমকেএইচ