যৌন হয়রানি ঠেকাতে নারী দলের জন্য নতুন নিয়ম

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৯:০০ পিএম, ০৬ নভেম্বর ২০১৯

ক্রীড়াঙ্গনে নারীদের বিভিন্নভাবে হয়রানির খবর নতুন নয়। গত বছর এক নারী ভারোত্তোলক সতীর্থ কর্তৃক ধর্ষিত হওয়ার ঘটনা আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল ক্রীড়াঙ্গনে। এই তো কয়েকদিন আগে মৌলভীবাজারের একটি একাডেমিতে কোচ কর্তৃক এক নারী অ্যাথলেটকে যৌন হয়রানিরও অভিযোগ উঠেছে। টেবিল টেনিসের চলমান এসএ গেমসের ক্যাম্পে এক পুরুষ খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে নারী খেলোয়াড়দের উত্ত্যক্ত করারও অভিযোগ উঠেছে।

ক্রীড়াঙ্গনের অপ্রত্যাশিত এসব ঘটনার পর নারী ক্রীড়াবিদদের পক্ষ থেকে দাবি উঠেছিল আগামীতে নারী দলের সঙ্গে একজন নারী কোচ বা অফিসিয়াল অবশ্যই রাখতে হবে। আসন্ন এসএ গেমস থেকে সে প্রচলন শুরু করছে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ)।

আগামী ১ থেকে ১০ ডিসেম্বর নেপালের কাঠমান্ডু ও পোখারায় অনুষ্ঠিতব্য এসএ গেমসে নারী দলের সঙ্গে নারী অফিসিয়াল (কোচ/কর্মকর্তা) বাধ্যতামূলক করেছে দেশের খেলাধুলার অন্যতম এ অভিভাবক সংস্থাটি।

আজ (বুধবার) এসএ গেমসের দলগুলোর ম্যানেজারদের নিয়ে সভায় বসেছিল বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তারা। সেখানেই তারা ফেডারেশনগুলো গুরুত্বপূর্ণ এ কথাটি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। বুধবার দলের চূড়ান্ত নাম জমা দেয়ার শেষ দিন ছিল। কিন্তু ক্রিকেট, সাইক্লিং, ফেন্সিং, সাঁতার, টেবিল টেনিস, তায়কোয়ানদো, টেনিস, ভলিবল, ভারোত্তোলন, কুস্তি ও উশু শেষ দিনেও তাদের দলের চূড়ান্ত তালিকা জমা দিতে পারেনি।

গেমস শুরু হতে আর মাত্র ২৫ দিন বাকি; কিন্তু এখনো কয়েকটি ফেডারেশন খেলোয়াড়দের ট্রায়াল নিয়েই যাচ্ছে। এ নিয়ে ক্রীড়াবিদদের মধ্যেও আছে ক্ষোভ। বিওএ অনেক আগে অনুশীলন শুরু করালেও কিছু ফেডারেশন বিলম্ব করেছে খেলোয়াড় চূড়ান্তকরণ প্রক্রিয়ায়।

ম্যানেজার্স মিটিংয়ের পর এসএ গেমসে বাংলাদেশ কন্টিনজেন্টের সেফ দ্য মিশন ও বিওএর উপ-মহাসচিব আসাদুজ্জামান কোহিনুর বলেছেন, ‘আসলে এটা একটা সমন্বয় সভা। এর আগে এতো বেশি ডিসিপ্লিনে কোথাও দল যায়নি। তাই সব কিছু সুন্দরভাবে করার জন্য সবার সহযোগিতা দরকার। দরকার প্রত্যেকের নিজনিজ অবস্থান থেকে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করা। ম্যানেজারদের সঙ্গে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেছি।’

আসাদুজ্জামান কোহিনুর বলেছেন, ‘নেপালে সুবিধা কি থাকবে, কি অসুবিধা হতে পারে এসব বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে। আমাদের নির্দেশনা ছিল নারী দলের সঙ্গে নারী কোচ/কর্মকর্তা যাবেন। কোনো ফেডারেশনে যদি নারী কোচ না থাকেন তাহলে তারা নারী ম্যানেজার দলের সঙ্গে দেবেন। এটা আমরা বাধ্যতামূলক করেছি।’

আরআই/আইএইচএস/পিআর