‘লক্ষ্য থাকবে ঘরের দর্শকদের আনন্দ দেয়ার’

রফিকুল ইসলাম
রফিকুল ইসলাম রফিকুল ইসলাম , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৬:৪৯ পিএম, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০

এখনও বেশ দূরে এশিয়ান হকি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির মিশনটা। মার্চের ১১ তারিখ ঢাকার মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামে শুরু হবে এশিয়ার হকির মর্যাদার এই টুর্নামেন্ট। এর আগে জানুয়ারিতে আছে যুব এশিয়া কাপ। জুনিয়রদের এই টুর্নামেন্টের আয়োজকও বাংলাদেশ। দুটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট সামনে রেখে ব্যস্ততা বাড়ছে হকি কর্মকর্তাদের।

ভারত, পাকিস্তান, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া ও জাপান-এশিয়ার শীর্ষ এই পাঁচ দেশের সঙ্গে বাংলাদেশ। স্বাগতিক হিসেবেই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বাংলাদেশের খেলার সুযোগ মিলেছে। মোটা দাগেই লিখে দেয়া যায়, ঘরের মাঠের এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ আন্ডারডগ।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির জন্য বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন কোচ নিয়োগ দিয়েছে মাহবুব হারুনকে। দেশের সবচেয়ে অভিজ্ঞ এ কোচ কী ভাবছেন চ্যাম্পিয়ন্স টফি নিয়ে? টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের লক্ষ্য কি তা নিয়ে জাগো নিউজকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন ১৪ বছর আগে জাতীয় দলের কোচ হিসেবে অভিষেক হওয়া সাবেক এ কৃতি মিডফিল্ডার।

জাগো নিউজ : আবার জাতীয় হকি দলের কোচ হয়েছেন। আপনাকে অভিনন্দন।
মাহবুব হারুন : আপনাকে ধন্যবাদ। দুই বছর পর আবার জাতীয় দলের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে আমাকে। সর্বশেষ ২০১৮ সালে ওমানে এশিয়ান গেমসের কোয়ালিফাইং রাউন্ডে জাতীয় দলের দায়িত্বে ছিলাম।

জাগো নিউজ : চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি অনেক বড় টুর্নামেন্ট। এশিয়ার সবচেয়ে মর্যাদার এই টুর্নামেন্টে আমরা প্রথম খেলছি। কি লক্ষ্য থাকবে?
মাহবুব হারুন : এই টুর্নামেন্ট আমরা কখনো খেলিনি। এশিয়ার শীর্ষ ৫ দেশের সঙ্গে স্বাগতিক হিসেবে লড়াই করব। ৫ দেশের সঙ্গেই খেলতে হবে। তারপর শীর্ষ চার দল খেলবে সেমিফাইনাল। আকাশকুসুম কল্পনা করে লাভ নেই। টুর্নামেন্টে আমরা আন্ডারডগ। সেটা মানতেই হবে।

জাগো নিউজ : তাহলে কি আমরা কিছুই করতে পারব না, সেটা মাথায় রেখেই টুর্নামেন্ট খেলতে নামব?
মাহবুব হারুন : না। সেটা নয়। ঘরের মাঠে খেলা। আমরা আগেই হেরে যাব না। লড়াই করব। ঘরের দর্শকদের আনন্দ দেয়ার চেষ্টা করব।

জাগো নিউজ : লড়াইয়ের কথা বললেন। এই দেশগুলোর বিরুদ্ধে কি সেটা করা সম্ভব?
মাহবুব হারুন : দেশগুলো শত্তিশালী। টুর্নামেন্টেও আমরা প্রথম। কিন্তু এই দেশগুলো তো আমাদের নতুন প্রতিপক্ষ না। এশিয়া কাপ, এশিয়ান গেমসে এদের সঙ্গে খেলার অভিজ্ঞতা আছে। তাই আমরা চেষ্টা করব যতটা লড়াই করতে পারি। দর্শকদের আনন্দ দিতে পারি।

জাগো নিউজ : জাতীয় দলে দীর্ঘদিন খেলেছেন। জাতীয় যুব ও সিনিয়র দলের ডাগআউটেও দাঁড়িয়েছেন বহুবার। নিজের ক্যারিয়ার সম্পর্কে যদি কিছু বলেন।
মাহবুব হারুন : ১৯৮৮ সাল থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত জাতীয় দলে খেলেছি। অধিনায়কও ছিলাম। আর যুব দলের দায়িত্ব নিয়ে প্রথম কোচিংয়ে অভিষেক হয়েছিল ২০০৩ সালে। ২০০৬ সালে দোহা এশিয়ান গেমস দিয়ে আমার অভিষেক জাতীয় দলের কোচ হিসেবে। এরপর থেকে কখনও আমি ছিলাম, কখনও বিদেশি কোচরা ছিলেন জাতীয় দলের দায়িত্বে।

জাগো নিউজ : আপনি আবাহনীর হারুন হিসেবেই পরিচিত। ঘরোয়া হকিতে অন্য কোনো ক্লাবে খেলেননি?
মাহবুব হারুন : আসলে আমার ক্যারিয়ার আবাহনীতেই কেটেছে। আবাহনীর বাইরে এক মৌসুম শুধু খেলেছিলাম অ্যাজাক্স স্পোর্টিং ক্লাবে। যে কারণে আমাকে সবাই আবাহনীর হারুন হিসেবেই চেনে।

আরআই/এমএমআর/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]