ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিকসের পৃষ্ঠপোষকতায় দেশব্যাপী প্রতিভা অন্বেষণ

রফিকুল ইসলাম
রফিকুল ইসলাম রফিকুল ইসলাম , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০১:৩৩ পিএম, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০

নতুন অ্যাথলেটের সন্ধানে নামছে বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক ফেডারেশন। সরকারের স্বাস্থ্যবিধি মেনে অচিরেই দেশব্যাপী প্রতিভা অন্বেষণ শুরু করবে দেশের অ্যাথলেটিকসের অভিভাবক সংস্থাটি। অ্যাথলেট তৈরির জন্য বাংলাদেশকে তৃণমূল পর্যায়ে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি করতে অর্থ সহায়তা দিচ্ছে ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিকস।

‘অ্যাথলেটিকস অলিম্পিক ডিভিডেন্ট (এওডি)’ প্রজেক্টের অধীনে ইন্টারন্যাশনাল অ্যামেচার অ্যাথলেটিক ফেডারেশন (ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিকস) বিভিন্ন দেশকে ডেভেলপমেন্টের জন্য আর্থিক সহায়তা দিয়ে থাকে। ২০২০ থেকে ২০২২ পর্যন্ত ৩ বছরের জন্য এই খাতে বাংলাদেশ পাবে ৪০ হাজার মার্কিন ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৪ লাখ টাকা।

আগামী ১ অক্টেবর ২০২০ থেকে ৩০ মার্চ ২০২২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক ফেডারেশন ডেভেলপমেন্ট কর্মসূচির মাধ্যমে সারা দেশ থেকে প্রতিভা অন্বেষণ করবে। তারা একটি প্রজেক্ট প্রফাইল জমা দিয়েছে ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিকসের কাছে। সে প্রজেক্ট বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক ফেডারেশন বাজেট পেশ করেছিল ৭৩ হাজার মার্কিন ডলার। তবে প্রাথমিকভাবে ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিক ৪০ হাজার মার্কিন ডলার অনুমোদন করেছে।

বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুর রকিব মন্টু জাগো নিউজকে জানিয়েছেন, ‘এই প্রজেক্টে দুটি বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছে ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিকস। প্রথমত ডেভেলপমেন্ট অব কোচেস টেকনিক্যাল অফিসিয়াল এবং দুই. প্রতিভা অন্বেষণ। গত বছর একটি কোচেস প্রোগ্রাম এবং একটি খেলা চালিয়ে আমরা ২৫ হাজার মার্কিন ডলার পেয়েছিলাম। সফলভাবে ওই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করায় এবার এই প্রজেক্টে ৪০ হাজার মার্কিন ডলার পাচ্ছি।’

কিভাবে প্রতিভা অন্বেষণ শুরু করবে বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক ফেডারেশন? ‘আমরা এখনও তারিখ নির্ধারণ করিনি। আমরা একটি কমিটি গঠন করেছি। ঐ কমিটিই সিদ্ধান্ত নেবে করোনার সময়ে সরকারের স্বাস্থ্যবিধি মেনে কিভাবে প্রতিভা অন্বেষণ করা যায়। প্রথম পর্যায়ে বিভাগীয় পর্যায়ে এই প্রতিভা অন্বেষণ করব। প্রতিটি বিভাগের যে জেলাগুলো জুনিয়র টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ বেশি তাদের প্রাধান্য দেয়া হবে’- বলছিলেন অ্যাডভোকেট আবদুর রকিব মন্টু।

গত বছর আগস্টে হওয়া নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বর্তমান কমিটি দায়িত্ব পালন করছে। শুক্রবার এই কমিটির চতুর্থ সভায় জাতীয় ও জাতীয় জুনিয়র চ্যাম্পিয়নশিপের প্রাথমিক তারিখ নির্ধারণের পাশপাশি ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিকসের এওডি প্রজেক্টে দেশব্যাপী প্রতিভা অন্বেষণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ফেডারেশনের সহসভাপতি ফারুকুল ইসলামকে প্রধান করে প্রজেক্ট বাস্তবায়নের জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে।

jagonews24

এই কমিটি দ্রুত সভায় বসে পরিকল্পনা চূড়ান্ত করবে। তারপর জেলা ও বিভাগে চিঠি দেবে করোনার সময় স্বাস্থ্যবিধি মেনে কিভাবে সঠিকভাবে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা যায় তার মতামত নিতে। সারা দেশ থেকে প্রতিভা বাছাই করে ঢাকায় এনে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তাদের ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করবে ফেডারেশন। তবে কতজন অ্যাথলেট নিয়ে চূড়ান্ত পর্বের প্রশিক্ষণ হবে তা নির্ভর করবে কোয়ালিটি অ্যাথলেট পাওয়ার ওপর।

অ্যাথলেটিকস অলিম্পিক ডিভিডেন্ট (এওডি) প্রজেক্টের অধীনে ৪০ হাজার মার্কিন ডলার ছাড়াও আরেকটি প্রজেক্টে ৭ হাজার মার্কিন ডলার পাচ্ছে বাংলাদেশ। লেভেল-১ কোচেস কোর্সের জন্য ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিকস এ অর্থ দিচ্ছে। দুই প্রজেক্ট মিলে বাংলাদেশ পাচ্ছে ৪৭ হাজার মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ৪০ লাখ টাকার মতো।

মাঝে ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিকসের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের অবনতি হয়েছিল। তখন আন্তর্জাতিক অ্যাথলেটিকস থেকে বলতে গেছে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল বাংলাদেশ। বর্তমান কমিটি সুসম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিকস থেকে বিভিন্ন প্রজেক্টের অধীনে অর্থ আনতে সক্ষম হচ্ছে।

বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক ফেডারেশনের সভাপতি এএসএম আলী কবীর বলেছেন, ‘এক সময় সাংগঠনিক দুর্বলতা ও অর্থের অভাবে আমরা অনেক কিছু করতে পারিনি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এখন আমাদের সুসম্পর্ক আছে। আমরা দেশব্যাপী ট্যালেন্ট হান্টিং করব এবং ঘরোয়া যে তিনটি চ্যাম্পিয়নশিপ করি তার মধ্যে জুনিয়রটা তৃণমূল পর্যায়ে নিয়ে যাব।’

এর মাধ্যমে অ্যাথলেটিকসের হারানো গৌরব ফিরবে বলে আশা করে সাবেক সচিব এএসএম আলী কবীর বলেন, ‘আমরা জুনিয়র জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ জেলা পর্যায়ে করে, বিভাগীয় পর্যায়ে নেব। তারপর ঢাকায় হবে চূড়ান্ত পর্ব। চূড়ান্ত পর্বের প্রতিটি ইভেন্টর প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় হওয়াদের বছরব্যাপী ট্রেনিং ও বৃত্তির ব্যবস্থা করব।’

সভাপতি আশা করছেন, প্রজেক্টগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে পারলে ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিকস ভবিষ্যতেও এ খাতে অর্থ বরাদ্দ দেবে এবং অর্থের পরিমাণও বাড়বে।

এসএএস/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]