আবারও ব্যর্থ সাকিব, আরিফুল-শামীমের ব্যাটে খুলনার লড়াকু সংগ্রহ

ক্রীড়া প্রতিবেদক ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:৪৫ পিএম, ২৬ নভেম্বর ২০২০

বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপের উদ্বোধনী দিনের দ্বিতীয় ম্যাচের নায়ক ছিলেন আরিফুল হক। এবার দ্বিতীয় দিনের প্রথম ম্যাচেও ধরে রাখলেন ধারাবাহিকতা। আরও একবার উদ্ধার করলেন ডুবতে থাকা জেমকন খুলনাকে। তরুণ শামীম পাটোয়ারির সঙ্গে মিলে দায়িত্বশীল ও আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের মিশেলে দলকে এনে দিয়েছেন লড়াই করার মতো সংগ্রহ।

মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহীর বিপক্ষে আগে ব্যাট করে খুলনার দলীয় সংগ্রহ পৌঁছেছে ৬ উইকেটে ১৪৬ রানে। শামীম ২৫ বলে ৩৫ করে আউট হলেও, আরিফুল ৩১ বলে ৪১ রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত ছিলেন। ম্যাচ জিতে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠতে রাজশাহীকে করতে হবে ১৪৭ রান।

টস জিতে ব্যাট করতে নেমে আরও একবার ব্যর্থতার গল্প লিখেছে খুলনার তারকাখচিত টপঅর্ডার ব্যাটিং লাইনআপ। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে তিন বল খেলে রানের খাতা খোলার আগেই সাজঘরে ফিরে যান বাঁহাতি ওপেনার ইমরুল কায়েস। মঙ্গলবার প্রথম ম্যাচে দুই বল খেলে শূন্য রানে আউট হয়েছিলেন তিনি।

ইমরুলের মতোই প্রথম ম্যাচের ধারাবাহিকতা ধরে রাখেন তিন নম্বরে নামা সাকিব আল হাসান। প্রথম ম্যাচে ১৩ বলে ১৫ রান করা সাকিব, রাজশাহীর বিপক্ষে আউট হয়েছেন ৯ বলে দুই চারের মারে ১২ রান করে। যার ফলে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে পাঁচ হাজারের মাইলফলকে পৌঁছার অপেক্ষা আরও দীর্ঘায়িত হলো সাকিবের, দরকার আরও ৩ রান।

প্রথম পাওয়ার প্লে'র মধ্যে সাকিব-ইমরুলকে হারালেও, অপরপ্রান্তে রয়েসয়ে খেলে যাচ্ছিলেন আরেক ওপেনার এনামুল হক বিজয়। কিন্তু বেশিক্ষণ টেনে নিতে পারেননি তিনি। ইনিংসের অষ্টম ওভারেই ধরেন সাজঘরের পথ। তার নামের পাশে তখন ৩ চার ও ১ ছয়ের মারে ২৪ বলে ২৬ রানের ইনিংস। আগের ম্যাচে দায়িত্বশীল ব্যাটিং করা জহুরুল পারেননি এবার, আউট হওয়ার আগে করেছেন ৩ বলে ১ রান।

মাত্র ৪৬ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে তখন কঠিন চাপে খুলনা। দলের বিপদ আরও বাড়িয়ে দলীয় ৫১ রানের মাথায় আরাফাত সানির ওভারে ফিরতি ক্যাচ তুলে দেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (১৩ বলে ৭)। এরপরই যেন শুরু হয় খুলনার আসল ব্যাটিং, চাপ অনুভব শুরু করে রাজশাহী।

ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন আগের ম্যাচের নায়ক আরিফুল হক ও তরুণ বাঁহাতি ব্যাটসম্যান শামীম পাটোয়ারি। যেখানে বেশি আক্রমণাত্মক ছিলেন শামীমই। মুখোমুখি দ্বিতীয় বলেই মিড উইকেট দিয়ে হাঁকান বাউন্ডারি। মুকিদুল মুগ্ধকে পরপর দুই বলে হাঁকান ছক্কা ও চার। একইভাবে এবাদতকে চারের পরে মারেন বিশাল এক ছক্কা।

কিন্তু আক্রমণাত্মক ব্যাটিং বেশিক্ষণ চালিয়ে নিতে পারেননি শামীম। এবাদতের প্রথম দুই বলে চার ও ছক্কা হাঁকানোর পর পঞ্চম বলে থার্ডম্যানে খেলতে গিয়ে উইকেটকিপারের হাতে ধরা পড়েন তিনি। আউট হওয়ার আগে ২৫ বলে ৩৫ রান করেন শামীম। তার বিদায়ে ভাঙে ৩৯ বলে ৪৯ রানের ষষ্ঠ উইকেট জুটি।

খুলনার ইনিংসের বাকি পথটা সাজান আগের ম্যাচের নায়ক আরিফুলই। ম্যাচে দারুণ বোলিং করা মুকিদুল মুগ্ধর করা ১৯তম ওভারে দুই ছক্কায় তুলে নেন ১৭ রান। শেষ ওভারে ফরহাদ রেজার ফুলটস ডেলিভারিকে ছক্কা হাঁকাতে ব্যর্থ হন আরিফুল। মিড উইকেটে তার ক্যাচ ছেড়ে দেন শেখ মেহেদি হাসান। শেষ দুই বলে চার মেরে দলকে ১৪৬ রানে পৌঁছে দেন শহীদুল ইসলাম।

রাজশাহীর পক্ষে বল হাতে ২ উইকেট নিয়েছেন ৪৪ রান খরচ করা মুকিদুল মুগ্ধ। এছাড়া ১টি করে উইকেট গেছে এবাদত, মেহেদি ও আরাফাত সানির ঝুলিতে।

এসএএস/এমএমআর/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]