ভারতকে যা খুশি তা-ই করতে দিচ্ছে আইসিসি

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:৫৯ এএম, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১

পুরো পাঁচদিন খেলা হলে আজ (শনিবার) হতো আহমেদাবাদ টেস্টের চতুর্থ দিন। কিন্তু ম্যাচ শেষ হয়ে গেছে মাত্র দুই দিনেই। যে কারণে ম্যাচের বাকি তিনদিন এখন শূন্যই পড়ে আছে। একই মাঠে বৃহস্পতিবার (৪ মার্চ) শুরু হবে সিরিজের চতুর্থ ও শেষ টেস্ট। কিন্তু এর আগে যেন শেষই হচ্ছে না তৃতীয় টেস্টকে ঘিরে আলোচনা।

আহমেদাবাদের মোতেরায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আয়োজিত প্রথম ম্যাচটিতে ভারত পেয়েছে ১০ উইকেটের বড় জয়। ইংল্যান্ড নিজেদের দুই ইনিংসে অলআউট হয়েছে ১১২ ও ৮১ রানে, ভারত প্রথম ইনিংসে থেমেছে মাত্র ১৪৫ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসে ৪৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে কোনো উইকেট হারায়নি ভারত।

ম্যাচে দেখা গেছে, প্রথম দিনের প্রথম ঘণ্টা থেকেই একপ্রান্তে শুরু হয়ে যায় বড় বড় সব টার্ন। নরম মাটির উইকেটে সেসব টার্নের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারেনি দুই দলের কেউই। ম্যাচের চার ইনিংস মিলে ব্যক্তিগত ফিফটি হয়েছে মাত্র দুইটি। ইংল্যান্ডের হয়ে জ্যাক ক্রলি এবং ভারতের হয়ে করেছেন রোহিত শর্মা।

উইকেটের এমন আচরণ একদমই মেনে নিতে পারছেন না ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক মাইকেল ভন। ইংল্যান্ডের বিখ্যাত দৈনিক সংবাদপত্র দ্য ডেইলি টেলিগ্রামের জন্য লেখা নিজের কলামে রীতিমতো ভারতকে ধুয়ে দিয়েছেন ভন। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেছেন, আইসিসির কারণেই নিজেদের ইচ্ছামতো যা খুশি করতে পারছে ভারত।

ভন লিখেছেন, ‘ভারত তৃতীয় টেস্টটা দশ উইকেটে জিতেছে। কিন্তু এটা খুবই ভাসা-ভাসা এক জয়। সত্যি বলতে, এই ম্যাচে কোনো জয়ীই ছিল না। হ্যাঁ! ভারত তাদের সামর্থ্য ও স্কিলের প্রমাণ দিয়েছে। আমাদের এটা মানতেই হবে যে, এসব কন্ডিশনে ইংল্যান্ডের চেয়ে ভারতের স্কিল অনেক বেশি।’

এই ম্যাচের উইকেট যে ভাল ছিল না, তা বোঝাতে জো রুটের পাঁচ উইকেট নেয়ার উদাহরণ টেনে তিনি আরও লিখেছেন, ‘আপনি আমাকে বলতে পারবেন না যে এসব পিচ টেস্ট ক্রিকেটের জন্য আদর্শ। টেস্ট ক্রিকেটে গড়পড়তা মানের একজন অফস্পিনার, আমার বলতে দ্বিধা নেই, জো রুট, দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনে পাঁচ উইকেট নিয়ে যায়। এমনটা হতে পারে না।’

ভারতকে এমন ছাড় দেয়ার কারণে টেস্ট ক্রিকেটেরই ক্ষতি হচ্ছে বলে মনে করেন ভন, ‘যতদিন ভারতের মতো ক্ষমতাধর দেশগুলো এমন সব কাণ্ড করে পার পেয়ে যাবে, ততদিন নখদন্তহীনই থেকে যাবে আইসিসি। তারা ভারতকে যা খুশি তা-ই করতে দিচ্ছে। এতে টেস্ট ক্রিকেটেরই ক্ষতি হচ্ছে।’

তিনি আরও লিখেছেন, ‘এসব কারণে ব্রডকাস্টাররা টাকাও ফেরত চাইতে পারে। কারণ তারা খেলোয়াড়দের ব্যর্থতার কারণে ম্যাচ আগে শেষ হওয়া মেনে নেয়। কিন্তু স্বাগতিক বোর্ডের এমন পিচ বানানো মানার কারণ নেই। তাদের এখন তিনদিন বেকার বসে থাকতে হবে কিন্তু এর টাকা ঠিকই দিতে হবে। তারা অবশ্যই খুশি হবে না এবং টেস্টের জন্য বেশি টাকা দেয়ার আগে দুইবার ভাববে।



এসএএস/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]