‘বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণ করতে পেরেই আমি খুশি’

রফিকুল ইসলাম
রফিকুল ইসলাম রফিকুল ইসলাম , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৫:২৭ পিএম, ০৩ মে ২০২১

টোকিও অলিম্পিক গেমস সামনে রেখে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) স্কলারশিপ নিয়ে সাঁতারু আরিফুল ইসলাম নিজেকে প্রস্তুত করছেন ফ্রান্সে। দেশটির রাজধানী প্যারিস থেকে ১২০ কিলোমিটার দূরে রয়া নামে একটি শহরের ভাইকিংস ক্লাবের সুইমিং কমপ্লেক্সে অনুশীলন করছেন বাংলাদেশে এই সাঁতারু।

তার চোখেমুখে ছিল অলিম্পিক খেলার স্বপ্ন। রোববার তা পূরণ হয়েছে। টোকিও অলিম্পিকে বাংলাদেশ থেকে এ পর্যন্ত ৩ জনের অংশ নেয়া নিশ্চিত। কোয়ালিফাই করে অলিম্পিকে সুযোগ পেয়েছেন আরচার রোমান সানা। ওয়াইল্ডকার্ড পেয়েছেন দুই সাঁতার আরিফুল ইসলাম ও লন্ডন প্রবাসী জুনাইনা আহমেদ।

জাগো নিউজ : হ্যালো আরিফুল। আপনাকে অভিনন্দন অলিম্পিক গেমসে খেলার ওয়াইল্ডকার্ড পাওয়ার জন্য।

আরিফুল : ধন্যবাদ। আমি এই আশা নিয়েই বছরের পর বছর এখানে অনুশীলন করছি।

জাগো নিউজ : আপনার স্বপ্ন পূরণ হলো। নিশ্চয়ই অনেক খুশি?

আরিফুল : আসলে অলিম্পিকে খেলবো সেই স্বপ্ন সবচেয়ে বেশি ছিল আমার বাবা ও মায়ের। আমি তাদের স্বপ্ন পূরণ করতে পারছি বলেই বেশি খুশি লাগছে।

Ariful

জাগো নিউজ : খবরটি জানার পর বাবা ও মায়ের সঙ্গে কথা হয়নি?

আরিফুল : আমি সন্ধ্যায় (রোববার) কল দিয়েছিলাম। কয়েকবার রিং হওয়ার পর কেটে দিছি কলটি। বুঝতে পারলাম ইফতারের পর তারাতো নামাজে। তাই পরে আবার কল দিয়ে বাবা ও মায়ের সঙ্গে কথা বলেছি।

জাগো নিউজ : তারা তো নিশ্চয়ই আবেগ-আপ্লুত। ছেলে অলিম্পিকে খেলবে।

আরিফুল : আসলে তারা কি আনন্দিত হয়েছেন বোঝাতে পারবো না! আমার বড় ভাই শরিফুল ইসলাম মিঠুও সাঁতারু। এই বাংলাদেশ গেমসে রিলেতে স্বর্ণও পেয়েছেন। বাবা ও মা প্রথমে স্বপ্ন দেখেছিলেন বড় ভাইকে নিয়ে। সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। এখন আমার মাধ্যমে তাদের স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে।

জাগো নিউজ : অলিম্পিকে আপনি খেলবেন ৫০ মিটার ফ্রি-স্টাইলে। এই ইভেন্টে আপনার সেরা টাইমিং কত?

আরিফুল : ফ্রান্সেই আমি ২৪.৪৫ (সেকেন্ড) করেছিলাম। ওটাই এখন পর্যন্ত সেরা টাইমিং। অলিম্পিকে সময়টা কমিয়ে আনতে চেষ্টা করবো।

জাগো নিউজ : অলিম্পক ঘিরে আর কোনো স্বপ্ন আপনার?

আরিফুল : সত্যি বলতে কি, এতবড় গেমসে টাইমিং ভালো করা ছাড়া আমাদের কোনো লক্ষ্য থাকে না। আমিও সেটাই করতে চাই। যাতে ভবিষ্যতে বলতে পারি এ ইভেন্টে আমি সেরা টাইমিং করেছিলাম অলিম্পিকে।

জাগো নিউজ : অলিম্পিক গেমস নির্ধারিত সময়ে না হওয়ায় তো অনুশীলনের বেশি সময় পেলেন।

আরিফুল : অলিম্পিক পিছিয়ে যাওয়ায় আমাদের স্কলারশিপও বেড়ে গেছে। এখন অলিম্পিকের আগে এখান থেকেই জাপান যাবো।

জাগো নিউজ : স্কলারশিপ নিয়ে ফ্রান্স যাওয়ার পর কয়বার বাড়িতে এসেছিলেন?

আরিফুল : ২০১৮ সালের ৬ সেপ্টেম্বর থেকে দুই বছরের স্কলারিশপ শুরু হয়েছিল। গেমস শুরুর আগ পর্যন্ত এখন বর্ধিত হয়েছে। আমি সর্বশেষ দেশে এসেছিলাম গত বাংলাদেশ গেমসে। এছাড়া সর্বশেষ এসএ গেমসে অংশ নিতে, তার আগে একবার জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিতে এবং আরেকবার ছুটিতে।

আরআই/আইএইচএস/

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]