‘অনুশীলনের জন্য ঘরবাড়ি ছেড়ে বিকেএসপিতে পড়ে আছি’

রফিকুল ইসলাম
রফিকুল ইসলাম রফিকুল ইসলাম , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ১০:৪৪ পিএম, ০৫ মে ২০২১

শিরিন আক্তার। দেশের ক্রীড়াঙ্গনে উজ্জ্বল মুখ। রেকর্ড টানা ১২ বার দেশের দ্রুততম মানবী। সর্বশেষ বাংলাদেশ গেমসে নিজের সেরা টাইমিং করে ধরে রেখেছেন দ্রুততম মানবীর মুকুট। জাতীয় রেকর্ড গড়ে স্বর্ণ জিতেছেন ২০০ মিটারে। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর এই অ্যাথলেট করোনার এই সময়ে পড়ে আছেন তার প্রিয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি)।

এবারও সম্ভবত বাবা-মায়ের সঙ্গে ঈদ-আনন্দ ভাগভাগি করতে সাতক্ষীরায় যাওয়া হবে না তার। তাহলে শিরিন টানা চারটি ঈদ করবেন পরিবার ছাড়াই। করোনা ও লকডাউনে অনেকে যখন পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন তখন শিরিন অনেকটা একাকী বিকেএসপিতে। কিভাবে কাটছে দেশের দ্রুততম মানবীর দিনকাল?

জাগো নিউজ : হ্যালো শিরিন। রেকর্ড গড়ে বাংলাদেশ গেমসে স্বর্ণজয়ের পর এখন লকডাউনে কোথায় কিভাবে সময় কাটাচ্ছেন?

শিরিন আক্তার : ধন্যবাদ। আমি আগের মতো বিকেএসপিতেই আছি। এখানেই আমি নিয়মিত অনুশীলন করি।

জাগো নিউজ : আপনি তো বিকেএসপি থেকে পাশ করে বের হয়েছেন। এখন অ্যাথলেট বাংলাদেশ নৌবাহিনীর। তো এখানে কিভাবে কার কাছে অনুশীলন করছেন?

শিরিন আক্তার : আমার প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ নৌবাহিনী, অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন ও অ্যাথলেটিক ফেডারেশনের সুপারিশে আমাকে বিকেএসপি কর্তৃপক্ষ থাকার ও অনুশীলনের সুযোগ দিয়েছে। আমি এখানে থেকেই নিয়মিত অনুশীলন করছি ২০১৭ সাল থেকে।

জাগো নিউজ : এই করোনা ও লকডাউনে অনেকেই বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন। আপনি বাড়িতে যাননি বাংলাদেশ গেমসের পর?

শিরিন আক্তার : না। আমি অনেকদিন বাড়িতে যাই না। এবারও হয়তো এখানেই (বিকেএসপিতে) ঈদ করতে হবে বাবা-মাকে রেখে। তাহলে আমার চারটি ঈদ করা হবে একা একা।

জাগো নিউজ : সর্বশেষ কবে বাড়িতে গিয়েছিলেন?

শিরিন আক্তার : মাস সাতেক আগে আমি যশোর গিয়েছিলাম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি কাজে। দুইদিন লেগেছিল কাজটি করতে। তখন দুই রাত বাড়িতে থেকে এসেছিলাম, এই যা।

জাগো নিউজ : বাংলাদেশের গেমসের পর কোনো বিশ্রাম নেননি মনে হয়?

শিরিন আক্তার : না। আমি কোনো বিশ্রাম নেইনি। সামনে অলিম্পিক। যদি যাওয়ার সুযোগ হয় তাহলে সেখানে যেন ভাল টাইমিং করতে পারি তার জন্য পরিশ্রম করছি। ঘরবাড়ি ছেড়ে বিকেএসপিতে পড়ে আছি অনুশীলনের জন্য। গেমসের পর বাড়ীতে যেতে পারতাম। তবে যাইনি যদি লকডাউনে আটকা পড়ে যাই, তাহলে অনুশীলনে ব্যাঘাত ঘটবে।

জাগো নিউজ : যদি ওয়াইল্ডকার্ড পান তাহলে অলিম্পিকে কী লক্ষ্য আপনার?

শিরিন আক্তার : আমি রিও অলিম্পিকে অংশ নিয়ে ১০০ মিটার শেষ করেছিলাম ১২.৯৬ সেকেন্ডে। টোকিওতে এর চেয়ে ভালো টাইমিং করাই আমার লক্ষ্য, যদি আল্লাহ অংশ নেয়ার সুযোগ করে দেন।

জাগো নিউজ : ১০০ মিটারে আপনার ক্যারিয়ারসেরা টাইমিং কত?

শিরিন আক্তার : সর্বশেষ বাংলাদেশ গেমসে হ্যান্ডটাইমিংয়ে ১১.৬০ সেকেন্ড। ২০০ মিটারে রেকর্ড ২৪.২০ সেকেন্ড। আর ১০০ মিটারে ইলেক্ট্রনিক বেস্ট টাইমিং ১১.৯৯ সেকেন্ড ২০১৬ সালে গুয়াহাটি এসএ গেমসে।

জাগো নিউজ : বিকেএসপিতে আপনি কার কাছে অনুশীলন করছেন?

শিরিন আক্তার : কাফি (আব্দুল্লাহ হেল কাফি) স্যারের কাছে। তিনি আমার কোচ এবং আমি তার কাছ থেকেই সব সময় ভাল অনুশীলন করে থাকি।

আরআই/আইএইচএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]