‘নিজের সেরা টাইমিং ছাড়িয়ে যেতে চাই অলিম্পিকে’

রফিকুল ইসলাম
রফিকুল ইসলাম রফিকুল ইসলাম , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৮:০৩ পিএম, ২৪ জুলাই ২০২১

‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’-একজন ক্রীড়াবিদের স্বপ্নের মঞ্চ। অলিম্পিক গেমসে কে না খেলতে চান? কিন্তু সবার আশা পূরণ হয় না। যাদের আশা পূরণ হয় তাদের মধ্যে অনেক দেশের ক্রীড়াবিদই কেবল অংশগ্রহণের জন্যই অংশ নিয়ে থাকেন অলিম্পিকে। পদক নয়, লক্ষ্য থাকে শুধু ভালো করার।

টোকিও অলিম্পিকের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়েছে শুক্রবার। শনিবার থেকে পদকের লড়াইও জমে উঠেছে। বাংলাদেশের যে ৬ ক্রীড়াবিদ অলিম্পিকে খেলবেন, তাদের মধ্যে চারজন এখন টোকিওতে। দুই আরচার রোমান সানা ও দিয়া সিদ্দিকী তো প্রতিযোগিতার ময়দানে নেমেই গেছেন। শনিবার শেষ হয়েছে তাদের মিশ্র দলগত ইভেন্ট। সামনে আছে দুইজনের ব্যক্তিগত ইভেন্ট।

সাঁতারু আরিফুল ইসলাম আছেন টোকিওতে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মার্চপাস্টে জাতীয় পতাকা বহনের জন্য আরিফুল ইসলামকে আগে নেয়া হয়েছিল টোকিওতে। সেখানে আছেন শ্যুটার আবদুল্লাহ হেল বাকি। অ্যাথলেট জহির রায়হান রোববার সন্ধ্যায় জাপানগামী বিমানে চড়বেন। আরেক সাঁতারু জুনাইনা আহমেদ টোকিও যাবেন যুক্তরাষ্ট্র থেকে।

বাংলাদেশ থেকে অ্যাথলেটিকে দ্রুততম মানব-মানবীকে পাঠানো একটা রেওয়াজে পরিণত হয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশন এবার পাঠাচ্ছে ৪০০ মিটারে জহির রায়হানকে। ২৯ বছর পর বাংলাদেশের কোনো অ্যাথলেট অলিম্পিকে অংশ নেবেন ৪০০ মিটারে।

জহিরের আগে ১৯৮৮ সালে সিউল অলিম্পিকে মিলজার হোসেন ও ১৯৯২ সালে বার্সেলোনা অলিম্পিকে মোহাম্মদ মেহেদি হাসান অংশ নিয়েছিলেন ৪০০ মিটার ইভেন্টে।

জহির রায়হান অলিম্পিকে গিয়ে কোনো চমক দেখাবেন, সেটা কেউ প্রত্যাশা করেন না। কারণ, অলিম্পিক গেমস মানেই বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদদের অভিজ্ঞতা অর্জনের মঞ্চ।

তবে জহির রায়হান বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়াযজ্ঞে গিয়েই করতে চান ক্যারিয়ারের সেরা টাইমিং। নিজের আগের সেরা টাইমিংকে ছাড়িয়ে যেতে চান শেরপুরের এ যুবক।

অলিম্পিকে ভালো করার প্রত্যাশায় দেড় মাস ধরে বিকেএসপিতে টানা অনুশীলন করে আসছেন জহির রায়হান। ঈদে অন্যরা যখন উচ্ছ্বাস-আনন্দে মত্ত, তখন জহির ছিলেন অনুশীলনের ট্র্যাকে।

শনিবার বিকেলে অনুশীলনে নামার আগে জহির রায়হান বলছিলেন, ‘আমি বাংলাদেশ থেকে একমাত্র অ্যাথলেট হিসেবে টোকিও অলিম্পিকে যাচ্ছি। আমার টার্গেট থাকবে সেখানে নিজের সেরা টাইমিংটা ছাড়িয়ে যাওয়া।’

২০১৯ সালে ভারতে খেলতে গিয়েছিলেন একটা আমন্ত্রণমূলক প্রতিযোগিতায়। সেখানে জহির স্বর্ণ জিতেছিলেন নিজের সেরা টাইমিং (৪৭.৩৪ সেকেন্ড) করে। টোকিওতে এর চেয়েও ভালো টাইমিং করার লক্ষ্য তার।

জহির প্রথম প্রচারের আলোয় এসেছিলেন ২০১৭ সালে কেনিয়ার নাইরোবিতে যুব বিশ্ব অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপের ৪০০ মিটারে সেমিফাইনালে উঠে। যুবাদের সেই চ্যাম্পিয়নশিপে ৪৮.০০ সেকেন্ড সময় নিয়েছিলেন অ্যাথলেট।

জহির রায়হানের কোচ হয়ে অলিম্পিকে যাচ্ছেন আবদুল্লাহ হেল কাফি। গত দশদিন ধরে শিষ্যকে অনুশীলন করাচ্ছেন কাফি। এর আগে অন্য দুই কোচ ছিলেন জহিরের অনুশীলনের দায়িত্বে।

‘জহিরকে আমি ভালো করে চিনি। আমি তাকে বলেছি, নিজের সেরাটা দেয়ার চেষ্টা করবা। রেজাল্ট কি হবে সেটা পরে। আমি আশা করছি, অলিম্পিকে জহির ভালো টাইমিং করবে’-বলছিলেন কাফি।

আরআই/এমএমআর/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]