৩৪ হাজার জনসংখ্যার দেশও পেল অলিম্পিক পদক

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৬:৪৪ পিএম, ৩১ জুলাই ২০২১

দেশটির আয়তন মাত্র ২৩.৬ বর্গমাইল বা ৬১.২ বর্গকিলোমিটার। বাংলাদেশের যে কোনো ইউনিয়নও এর চেয়ে বড়। জনসংখ্যা? অবাক হবেন শুনলে। মাত্র ৩৩ হাজার ৬০০। প্রতি বর্গকিলোমিটারে জনসংখ্যার ঘণত্ব ৫২০ জন করে।

দেশটির নাম সান মারিনো। ইতালির পাশে ছোট্ট একটি গ্রামের মতো এ দেশটিও অলিম্পিকের পদক তালিকায় নাম তুলে ফেললো। ৬২ হাজার জনসংখ্যার দেশ বারমুডার পর আরও ক্ষুদ্র এই দেশটিও অলিম্পিকে পদক জিতে নিলো।

অলিম্পিকে ৫০ মিটার রাইফেলের প্রোন ইভেন্টে সান মারিনোকে প্রথমবারের মত পদক জয়ের উল্লাসে ভাসালেন আলেসান্দ্রো পেরিলি। তিনি জিতেছেন ব্রোঞ্জ পদক। ২০১২ লন্ডন অলিম্পিক্সে এই একই ইভেন্টে চতুর্থ স্থানে শেষ করেছিলেন তিনি।

ছোট্ট দেশ সান মারিনো থেকে অলিম্পিকে অংশ নিতে এসেছেন ৫ জন অ্যাথলেট। এরমধ্যে ইতিহাস গড়ে ফেললেন শুটার আলেসান্দ্রা পেরিলি। নারীদের শুটিংয়ের ট্র্যাপ ইভেন্টে ব্রোঞ্জ জিতে ছোট্ট সান মারিনোকে বিশ্বের দরবারে গর্বিত করেছেন। তার এই সাফল্য উচ্ছ্বাসে ভাসছে পুরো সান মারিনো। 

তবে এখানেই শেষ নয়। দ্বিতীয় পদকও নিশ্চিত করে ফেলেছেন আলেসান্দ্রা পেরিলি। ব্রোঞ্জের পর এ বার সোনা জয়ের আশায় সান মারিনো। আলেসান্দ্রা পেরিলি তার সঙ্গী জিয়ান মার্কো বার্তিকে সঙ্গে নিয়ে শুটিংয়ের নিউ ট্র্যাপ মিক্সড টিম ইভেন্টের ফাইনালে পৌঁছে গেছেন। সোনা জয়ের ম্যাচে তারা মুখোমুখি হবেন স্পেনের ফতিমা গালভেজ এবং আলবার্তো ফার্নান্দেজের। সোনা জিতলে আরও বড় একটি পালক যোগ হবে সান মারিনোর মুকুটে।

সান মারিনো দেশটিকে চারিদিক থেকে ঘিরে রেখেছে ইতালি। যাতায়াত থেকে ব্যবসা-বাণিজ্য, সব কিছুর জন্যই সান মারিনোকে অন্য দেশের উপর নির্ভর করতে হয়। তাতে সান মারিনোর কোনো আক্ষেপ আছে কিনা, জানা নেই। তবে থাকলেও তাতে কিছুটা হলেও প্রলেপ এঁকে দিতে পারলেন আলেসান্দ্রা পেরিলি।

আলেসান্দ্রার এই সাফল্যে উচ্ছ্বসিত পুরো সান মারিনো। নেটদুনিয়ায় শুভেচ্ছা জোয়ার বয়ে গেছে। তার এই লড়াইকে কুর্নিশ জানিয়েছে সান মারিনোর প্রতিটি নাগরকিই। টোকিও অলিম্পিকের অফিসিয়াল টুইটারেই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলা হয়েছে, এটাই কী তবে ইতিহাসের সবচেয়ে কম জনসংখ্যার দেশের পদক জয়?

কারণ, জনসংখ্যার দিক থেকে এ রেকর্ডটা ছিল লিচেনস্টেইনের দখলে, যারা এখনও পর্যন্ত ১০টা অলিম্পিক পদক জিতেছে। আর আয়তনের দিক থেকে এর আগের রেকর্ডটা ছিল বারমুডার, যারা দু'দিন আগেই জিতেছিল নারী ট্রায়াথলনে পদক। ফ্লোরা ডাফির সোনার পজক জিতেছিলেন দেশটির হয়ে।

আইএইচএস/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]