১৮ বছর ধরে চলা যৌন নির্যাতনের সাক্ষ্য দিলেন সিমোনা বাইলস

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৭:২৫ পিএম, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১

এবারের টোকিও অলিম্পিকে অন্যতম আলোচিত নাম ছিলেন সিমোনা বাইলস। নাহ! একের পর এক স্বর্ণপদক জয়ের জন্য নয়। তিনি আলোচিত হয়েছিলেন, মানসিক অসুস্থতার কারণে একের পর এক নিজের প্রিয় ইভেন্টগুলো থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেয়ায়।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় এই জিমন্যাস্ট কেন টোকিও এসে এতটা মানসিক সমস্যায় ভুগেছিলেন? এর তদন্ত করছে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। যেখানে তাদের দলের সাবেক চিকিৎসক ল্যারি নাসারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুললেন সিমোনা বাইলস।

১৮ বছর ধরে এই টিম ডাক্তার নারী অ্যাথলেটদের যৌন নির্যাতন করেছেন। যে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন খোদ সিমোনা বাইলসও। সেই নির্যাতনেরই সাক্ষ্য দিলেন এই জিমন্যাস্ট।

বুধবার সেনেট জুডিসিয়ারি কমিটির সামনে উপস্থিত হয়েছিলেন বাইলস। সঙ্গে ছিলেন আরও তিন সতীর্থ অ্যালি রাইসম্যান, ম্যাকালা মারোনি এবং ম্যাগি নিকোলস। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সাবেক এফবিআই পরিচালক ক্রিস্টোফার ওয়ারি।

Simona Biles

সেনেট জুডিসিয়ারি কমিটি ল্যারি নাসারের বিপক্ষে ওঠা নারী অ্যাথলেটদের যৌন নিগ্রহ করার অভিযোগ ক্ষতিয়ে দেখছে। সে সঙ্গে তারা ল্যারি নাসারের বিপক্ষে করা এফবিআইর তদন্ত রিপোর্টের ক্রুটিগুলোও খতিয়ে দেখছে। এরই মধ্যে অবশ্য ল্যারি নাসারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে।

টোকিও অলিম্পিকের সেই মানসিক যন্ত্রণা এখনও কাটিয়ে উঠতে পারছেন না বাইলস। সেনেটের সামনে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে আবারও কেঁদে ভাসালেন বিশ্বসেরা এই জিমন্যাস্ট।

অভিযোগ উঠেছে, আমেরিকার নারী জিমন্যাস্টিক্স দলের সাবেক চিকিৎসক ল্যারি নাসার ধারাবাহিকভাবে যৌন নির্যাতন করতেন। দাবি করা হচ্ছে, ১৮ বছর ধরে নাকি ল্যারি নাসার আমেরিকার নারী জিমন্যাস্টদের উপর যৌন নিগ্রহ করেছেন।

সেই সংক্রান্ত বিষয়ে সাক্ষী দিতে গিয়েছিলেন বাইলস। বুধবার সেনেট জুডিসিয়ারি কমিটির সামনে উপস্থিত হয়েছিলেন তিনি। চারবারের অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন বাইলস সেনেটে নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি। সাক্ষ্য দিতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন।

Simona Biules

বাইলস বলেন, ‘আমেরিকার জিমন্যাস্টিক্স সংস্থা, অলিম্পিক্স, প্যারালিম্পিক্স সংস্থা এবং তদন্তকারী সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) নিজেদের ভূমিকা ঠিকমতো পালনই করেনি। সে জন্যই জিমন্যাস্টদের উপর যৌন নির্যাতনের মাত্রাও বেড়েছে।’

বিশেষ করে এফবিআই বিরুদ্ধে বাইলসের অভিযোগ, তারা চোখ বন্ধ করেছিল। সেনেট জুডিসিয়ারি কমিটির সামনে বাইলস বলেন, ‘ল্যারি নাসার তো অপরাধীই। ওকে যেমন আমি দোষ দিচ্ছি, একইভাবে দোষ দেব আমাদের গোটা সিস্টেমকেই। সিস্টেম ঠিক না হওয়ার কারণেই নাসার দিনের পর দিন এই খারাপ কাজ করে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। আমাদের জিমন্যাস্টিক্স সংস্থা এবং অলিম্পিক্স, প্যারালিম্পিক্স সংস্থা নিজেদের কাজটাই ঠিক মতো করেনি। এফবিআই তো চোখ বন্ধ করে বসেছিল। তারাও নিজেদের দায়িত্বটা ঠিকমতো পালন করেনি। তা না হলে এত দিন ধরে এই অপরাধ করে যেতে পারত না নাসার।’

আইএইচএস/

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]