আঙুলের অপারেশনকালে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে জুডো খেলোয়াড়ের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১:৩৪ পিএম, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১

হাতের একটি আঙুলের অপারেশন করতে গিয়ে রাজধানীর গ্রিন রোডের গ্রিন লাইফ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসকের অবহেলায় বিকেএসপির সাবেক শিক্ষার্থী, জাতীয় দলের জুডো খেলোয়াড় ও আনসার বাহিনীর চুক্তিভিত্তিক খেলোয়াড় প্রিয়াংকা আক্তারের (১৯) মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। প্রিয়াংকা ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপে স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত খেলোয়াড় ছিলেন।

শুক্রবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার দিকে তিনি মারা যান বলে জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন কলাবাগান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পরিতোষ চন্দ্র পাল।

তিনি বলেন, বিকেএসপির সাবেক একজন নারী খেলোয়াড়ের অপারেশনের পর অ্যানেস্থেসিয়ার সময় কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে তিনি মারা গেছেন বলে জানতে পেরেছি। ভিক্টিমের পরিবারের সঙ্গে কথা হয়েছে। হাসপাতালে ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে থানার ওসি-তদন্তের নেতৃতে একটি টিম কাজ করছে। এ বিষয়ে পরে আইনসম্মত যেসব কাজ করা লাগে তা করা হবে বলে জানান তিনি।

ঘটনাস্থলে থাকা কলাবাগান থানার ওসি-তদন্ত আ ফ ম আসাদুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, চিকিৎসকের ভাষ্যমতে, গতকাল বৃহস্পতিবার প্রিয়াংকা আক্তার হাসপাতালে ভর্তি হন। আজ সন্ধ্যায় তার হাতে একটি অপারেশন হয়। অপারেশনের পরে তার কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয় এবং এরপর তিনি মারা যান। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তাদের চেষ্টার ত্রুটি ছিল না। তবে থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর পুলিশ এ বিষয়ে তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, প্রিয়াংকা আক্তারের ছোট বোন, আনসার টিম ও বিকেএসপির সদস্যরা হাসপাতালে আছেন। তার বাবা অসুস্থতার কারণে আসতে পারেননি। তবে তার আত্মীয়-স্বজন রওনা দিয়েছেন, তারা হাসপাতালে আসছেন।

জুডোর জাতীয় দলের কোচ আবু বকর সিদ্দিক জাগো নিউজকে বলেন, প্রিয়াংকা আক্তার খুব মেধাবী ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি ভালো খেলোয়াড়ও ছিলেন। তিনি ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপে স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত একজন খেলোয়াড়। তার বাম হাতের একটি আঙুল বাঁকা থাকার কারণে গতকাল বৃহস্পতিবার অপারেশনের জন্য গ্রিন লাইফ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। আজ অপারেশন থিয়েটারে ঢোকানোর পর চিকিৎসকরা বের হয়ে বলেন রোগীর অবস্থা খারাপ।

তিনি বলেন, চিকিৎসকরা আমাদের জানিয়েছেন, রোগীকে অ্যানেস্থেসিয়া দেওয়া হয়েছিল। হয়তো অ্যানেস্থেসিয়ার মাত্রা বেশি ছিল এ কারণে রোগী সহ্য করতে না পেরে স্ট্রোক করে মারা যান। কিন্তু হাতের আঙুলের ছোট্ট একটি নরমাল অপারেশনের জন্য কীভাবে তিনি মারা যাবেন- প্রশ্ন রাখেন তিনি।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে জুডোর জাতীয় দলের কোচ বলেন, হাসপাতালে বিকেএসপির সিনিয়র শিক্ষার্থীরা রয়েছেন, তারা আলোচনা করছেন। এ বিষয়ে পরে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে গ্রিন লাইফ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার মো. ইকরাম হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, অপারেশনটি করেন বাংলাদেশের একজন স্বনামধন্য চিকিৎসক ডা. আর আর কৈরী। তিনি দেশের একাধারে জনপ্রিয় ও অভিজ্ঞ চিকিৎসক। হাতের আঙুলের ছোট্ট একটি অপারেশন ছিল। এ অপারেশন করার আগে রোগীর ফিটনেসসহ যাবতীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। অপারেশনের আধাঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা পরে রোগীর কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়। এখনও তিনি হাসপাতালে বসে আছেন ও অনুতপ্ত বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, হাসপাতালের অ্যানেস্থেসিয়া চিকিৎসক জানিয়েছেন- এক হাজার রোগীর মধ্যে একজন রোগীর কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হতেই পারে। তবে রোগীকে বাঁচাতে আমাদের চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়েছিলেন কিন্তু হায়াতের মালিক তো আল্লাহ্‌।

টিটি/এআরএ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]