এবারই শেষ, এরপরই র‌্যাকেটটা তুলে রাখার ঘোষণা সানিয়া মির্জার

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:১২ পিএম, ১৯ জানুয়ারি ২০২২

মা হওয়ার পর প্রায় দুই বছর টেনিস কোর্ট থেকে দুরে ছিলেন ভারতীয় টেনিস সেনসেশন সানিয়া মির্জা। দুই বছরের বিরতি শেষে, গত বছরই টেনিস কোর্টে প্রত্যাবর্তন করেছিলেন তিনি।

কিন্তু প্রত্যাবর্তনটা মনের মত হলো না তার। সে কারণেই টেনিস থেকে অবসর নিতে চলেছেন পাকিস্তানের বধু সানিয়া। তিনি বলে দিয়েছেন, ২০২২-এর মৌসুমই তার জন্য শেষ।

অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের নারী ডাবলসের প্রথম রাউন্ডে হারের পর এ তথ্য নিজেই জানিয়ে দিলেন সানিয়া মির্জা। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের প্রথম রাউন্ডে সানিয়া ও তার ইউক্রেনের সঙ্গী নাদিয়া কিচনোককে হারের মুখে পড়তে হয়। তারা স্লোভেনিয়ার তামারা জিদানসেক এবং কাজা জুভানের কাছে এক ঘন্টা ৩৭ মিনিটের লড়াইয়ে পরাজিত হন, ফল ছিল ৪-৬, ৬-৭ (৫)। এবার অবশ্য সানিয়া আমেরিকার রাজীব রামের সাথে এই গ্র্যান্ড স্লামের মিক্সড ডাবলসে অংশ নেবেন।

ডাবসের ম্যাচে হারের পর সানিয়া বলেন, ‘সিদ্ধান্ত নিয়েছি এটাই হবে আমার শেষ মৌসুম। এক সপ্তাহ বা তারও বেশি সময় ধরে খেলছি। পুরো মৌসুম খেলতে পারব কিনা জানি না। তবে আমি পুরো মৌসুমেই থাকতে চাই।’

সানিয়া ভারতের সবচেয়ে সফল নারী টেনিস খেলোয়াড়। নারীদের ডাবলসে এক নম্বর র‌্যাকিংয়েও উঠেছিলেন তিনি। ক্যারিয়ারে ছয়টি গ্র্যান্ড স্লাম (ডাবলস ও মিক্সড ডাবলস) জিতেছেন। এর মধ্যে তিনটি শিরোপা জিতেছে নারীদের ডাবলসে এবং তিনটি মিক্সড ডাবলসে।

মিক্সড ডাবলস ২০০৯ সালে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন, ২০১২ সালে ফ্রেঞ্চ ওপেন এবং ২০১৪ সালে ইউএস ওপেন জিতেছিলেন মির্জা। নারীদের ডাবলসে, ২০১৫ সালে উইম্বলডন এবং ইউএস ওপেন, ২০১৬ সালে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের শিরোপা জিতেছিলেন তিনি।

২০১৩ সালে, সানিয়া সিঙ্গেলস খেলা ছেড়ে দেন। এরপর থেকে তিনি কেবল ডাবলসে খেলছিলেন। যদিও সিঙ্গেলস খেলেও সানিয়া অনেক সাফল্য পেয়েছিলেন। তিনি অনেক বড় টেনিস খেলোয়াড়কে হারিয়ে ২৭তম র‌্যাংকে পৌঁছান।

সানিয়া মির্জা প্রায় ৯১ সপ্তাহ ধরে ডাবলসে এক নম্বরে ছিলেন। ২০১৫ সালে, সানিয়া-মার্টিনা হিঙ্গিস জুটি বেঁধে টানা ৪৪টি ম্যাচ জিতেছিলেন। এশিয়ান গেমস, কমনওয়েলথ গেমসের মতো ইভেন্টেও তিনি পদক জিতেছেন।

২০১৮ সালে ছেলের জন্মের পর টেনিস কোর্ট থেকে দূরে ছিলেন সানিয়া মির্জা। এরপর দুই বছর পর ফিরে আসেন। ফিরে আসার জন্য, সানিয়া তার ওজন প্রায় ২৬ কেজি কমিয়েছিলেন। প্রত্যাবর্তনের পর তিনি ইউক্রেনের নাদিয়া কিচেনোকের সাথে হোবার্ট ইন্টারন্যাশনালে নারীদের ডাবলসের শিরোপা জেতেন। এরপর টোকিও অলিম্পিকেও খেলেন। কিন্তু সেখানেও খুব একটা সুবিধে করতে পারেননি।

আইএইচএস/

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]