‘ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে আম্পায়ারিং মানেই মহা টেনশন’

রফিকুল ইসলাম
রফিকুল ইসলাম রফিকুল ইসলাম , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৯:০২ পিএম, ২৮ মে ২০২২

সেলিম লাকি কেবল বাংলাদেশেই নয়, এশিয়ার মধ্যেও অন্যতম একজন বিচক্ষণ হকি আম্পায়ার। ফিল্ডে, ভিডিওর সামনে যেখানেই হোক, সেখানেই সুনামের সঙ্গে নিজের দায়িত্ব পালন করেন। ইন্দোনেশিয়ায় চলমান হিরো এশিয়া কাপে এখন পর্যন্ত তিনটি ম্যাচে ফিল্ড আম্পায়ারিং করেছেন সেলিম লাকি। এর মধ্যে ‘এ’ গ্রুপের ভারত-পাকিস্তান ম্যাচও ছিল।

২০১২ সাল থেকে আন্তর্জাতিক খেলায় আম্পায়ারিং করে আসছেন সেলিম লাকি। ৩৭ বছরের লাকি এ পর্যন্ত সিনিয়র টুর্নামেন্টে ৪৩ ম্যাচে ফিল্ড আম্পায়ারিং করেছেন। সর্বশেষ শনিবার তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন এশিয়া কাপের শিরোপা নির্ধারণী পর্বে মালয়েশিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া ম্যাচেও।

একজন আম্পায়ারের ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের দায়িত্ব পালন করা মানেই বাড়তি চ্যালেঞ্জ। এই দুই চির প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের ম্যাচ চালানোর অভিজ্ঞতা কেমন? এ নিয়ে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা থেকে জাগো নিউজকে একান্ত সাক্ষাৎকার দিয়েছেন এই আন্তর্জাতিক হকি আম্পায়ার

জাগো নিউজ: কবে প্রথম ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে আম্পায়ারিং করেছেন?
সেলিম লাকি: এ পর্যন্ত আমি তিনটি ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করেছি। প্রথম ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ছিল ২০১৬ সালে গুয়াহাটিতে এএস গেমসে। ওই গেমসের প্রথম পর্বে এবং ভারত-পাকিস্তান ফাইনালে আমি আম্পায়ারিং করেছিলাম। তৃতীয়টি চলমান এশিয়া কাপের গ্রুপ ম্যাচ।

জাগো নিউজ: আন্তর্জাতিক ম্যাচে কবে আম্পায়ার হিসেবে অভিষেক হয়েছিল আপনার?
সেলিম লাকি: ২০১২ সালে। ব্যাংককে অনুষ্ঠিত এশিয়ান হকি ফেডারেশন (এএইচএফ) কাপে আমি প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচে আম্পায়ারিং করি। ওইবার বাংলাদেশ ফাইনালে না উঠলে, শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচেও বাঁশি পেতাম।

জাগো নিউজ: এই ১০ বছরে আপনি কতগুলো আন্তর্জাতিক ম্যাচে আম্পায়ারিং করেছেন?
সেলিম লাকি: চলমান এশিয়া কাপের আজকে (শনিবার) পর্যন্ত সিনিয়র জাতীয় দলের ৪৩ ম্যাচে ফিল্ড আম্পায়ার ছিলাম। দুইটি ম্যাচে দায়িত্বে ছিলাম রেফারেলের (ভিডিও আম্পায়ার)। আর জুনিয়র আন্তর্জাতিক ৫ ম্যাচে আমি আম্পায়ারিং করেছি।

জাগো নিউজ: যে কোনো খেলায়ই ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই বাড়তি উত্তেজনা। উত্তেজনাকর এসব ম্যাচে আম্পায়ারিং কতটা চ্যালেঞ্জিং?
সেলিম লাকি: চ্যালেঞ্জিং তো অবশ্যই। এই দুই দলের খেলা মানেই টানটান উত্তেজনা। এই উত্তেজনা কেবল খেলোয়াড়দের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। অফিসিয়াল, আম্পায়ার ও দর্শকদের মধ্যেও উত্তেজনা ছড়ায়। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে নামার আগে মুখে যাই বলিনা কেন, বুকের মধ্যে ধুকধুক করবেই। যে কোনো ভুল সিদ্ধান্তে ম্যাচ পন্ড পর্যন্ত হয়ে যেতে পারে। তাই শেষ না হওয়া পর্যন্ত মহা টেনশনে থাকতে হয়।

জাগো নিউজ: এখন পর্যন্ত যে তিনটি ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে বাঁশি বাজিয়েছেন, সেগুলোর মধ্যে কোনটি আপনার জন্য কঠিন ছিল?
সেলিম লাকি: ২০১৬ সালের সাউথ এশিয়ান (এসএ) গেমসের ফাইনাল। ওই ম্যাচটা কেবল ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের মধ্যেই নয়, আমি এ পর্যন্ত যে ৪৩টি ম্যাচে আম্পায়ারিং করেছি সবগুলোর মধ্যে স্মরণীয়।

জাগো নিউজ: ম্যাচটার উত্তেজনা সম্পর্কে যদি কিছু বলেন।
সেলিম লাকি: ওই ম্যাচ ঘিরে সেদিন গোয়াহাটির মাঠ ছিল উত্তেজনায় ঠাসা। সবাই টেনশনে। আমরা আম্পায়াররাও। দারুণ উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচ ছিল। পাকিস্তান ১-০ গোলে জিতেছিল ফাইনাল। খেলার আগে পুলিশসহ অন্যান্য নিরাপত্তাবাহিনী ছিল বেশি। চারদিকে কেমন যেন একটা উত্তেজনা। ওই ম্যাচের কথা আমি কখনও ভুলবো না।

জাগো নিউজ: চলমান এশিয়া কাপে তো তিনটি ম্যাচের ফিল্ড আম্পায়ার ছিলেন। আরও ম্যাচ কি পাচ্ছেন?
সেলিম লাকি: আমি এ পর্যন্ত ভারত-পাকিস্তান, পাকিস্তান-ইন্দোনেশিয়া ও আজকে (শনিবার) মালয়েশিয়া-দক্ষিণ কোরিয়া ম্যাচে আম্পায়ারিং করেছি। আরও ৩ দিন খেলা আছে। ম্যাচ পাবো কিনা, সেটা আমি বলতে পারবো না। তবে আশা করি, একটি ফিল্ড, একটি ভিডিও এবং একটি রিজার্ভ আম্পায়ারের দায়িত্ব পেতে পারি।

জাগো নিউজ: এশিয়া কাপে এখন পর্যন্ত করা আম্পায়ারিংয়ে নিজের পারফরম্যান্সে খুশি?
সেলিম লাকি: জ্বি। আমি অনেক খুশি। কারণ, আল্লাহর রহমতে সব ম্যাচই ভালো হয়েছে। তিন ম্যাচে আমার একটি মাত্র সিদ্ধান্ত ভিডিও আম্পায়ারের কাছে গেছে। আমি তিন ম্যাচে কোনো খেলোয়াড়কে একটি কার্ডও দেখাইনি।

জাগো নিউজ: আপনাকে ধন্যবাদ।
সেলিম লাকি: আপনাকেও ধন্যবাদ।

আরআই/এমএমআর/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]