বাংলাদেশ

Team Image

বাংলাদেশ: সেমিফাইনালে যাওয়ার হাতছানি

২০১৯ সালের বিশ্বকাপেও বাংলাদেশ ইংল্যান্ড খেলতে গিয়েছিল অনেক বড় প্রত্যাশার চাপ নিয়ে। সমীকরণ হিসেব করে বাংলাদেশের ক্রিকেট কর্মকর্তা থেকে শুরু করে ক্রিকেটার- সবাই বলেছিল অন্তত সেমিফাইনালে খেলা সম্ভব। দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে সেই প্রত্যাশার শুভ সূচনাটাও করেছিল টাইগাররা।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত হলো কী, বাংলাদেশ ১০ দলের মধ্যে অষ্টম। সাকিব আল হাসান এককভাবে টেনেছেন বাংলাদেশকে। একক পারফরম্যান্সে পুরো টুর্নামেন্টেই উজ্জ্বল ছিলেন তিনি। যদি শেষ চারে যেতে পারতো বাংলাদেশ, তাহলে সাকিবই হতে পারতেন টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়। তবুও ৯ ম্যাচে ৬০৬ রান করার পাশাপাশি ১১ উইকেট নিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে তোলপাড় ফেলে দিয়েছিলেন তিনি। অনেকগুলো ইতিহাস পূণরায় লিখতে বাধ্য করেছিলেন তিনি।

গত ওয়ানডে বিশ্বকাপের মত প্রত্যাশার চাপ নিয়ে নয়, বাস্তবতা মেনেই এবার শেষ চারে খেলার স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ। বিশ্বকাপ শুরুর আগে এতগুলো ম্যাচ এর আগে কখনোই খেলেনি বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ে সফরে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয় দিয়ে শুরু। এরপর ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডের মত দুই দলের বিপক্ষে ১০ ম্যাচ খেলা, শুধু তাই নয় দুই দলের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের অসাধারণ গৌরব অর্জন করা চাট্টিখানি কথা নয়।

অস্ট্রেলিয়াকে ৪-১ ব্যবধানে এবং নিউজিল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হারিয়েছে বাংলাদেশ। যদিও অনেকেই আবার ঘরের মাঠে এই দুই সিরিজ জয় নিয়ে অনেক কথাও বলছেন। তাদের দাবি অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ড তো তাদের মূল দল পাঠায়নি। এমনকি নিউজিল্যান্ড তাদের বিশ্বকাপ স্কোয়াডের একজনকেও পাঠায়নি বাংলাদেশে।

সে যাই হোক, অনেক সময় বলা হয়- ধারে কাটে না ভারে কাটে। নাম দুটি তো অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ড। নামের ওপরই তো অনেক-কিছু আসে যায়। অস্ট্রেলিয়া দলে তো মূল দলের সাত-আটজন ক্রিকেটার ছিলেন। এদের বিপক্ষে বিশ্বকাপের প্রাক্কালে যে ১০টি ম্যাচ খেলা হলো এবং দুটি সিরিজ জেতা হলো- এটা কী কম কথা? বাংলাদেশের প্রস্তুতিটা তো অন্তত এখান থেকে বেশ ভালোভাবেই হয়েছে।

আবার অনেকে মিরপুরে স্লো-লো এবং টার্নিং উইকেটকে বাংলাদেশের সাফল্যের নিয়ামক হিসেবে ধরে থাকেন। কথাটা সত্যি হলেও, প্রতিটি সিরিজেই স্বাগতিকরা নিজেদের আবহাওয়া, কন্ডিশন এবং শক্তি-সামর্থ্যের ওপর নির্ভর করে উইকেট তৈরি করে। বাংলাদেশ সম্ভবত এ ক্ষেত্রে মহা-ভারত অশুদ্ধ করে ফেলেনি। সবচেয়ে বড় কথা, বড় দলের বিপক্ষে জয়ের অভ্যাস এবং দারুণ মানসিক শক্তি নিয়ে বাংলাদেশ খেলতে গেছে বিশ্বকাপের প্রথম পর্বে।

বাংলাদেশের সাকিব আল হাসান এবং মোস্তাফিজুর রহমান আবার আরব আমিরাতের মাটিতেই আইপিএল খেলার তরতাজা অভিজ্ঞতা নিয়ে নামবেন বিশ্বকাপ খেলতে। যে অভিজ্ঞতা বাংলাদেশ দলের জন্য হতে পারে বিশাল পাথেয়।

যদিও টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ ছিল অনেক পিছিয়ে। জিম্বাবুয়ে, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডের মত দলকে টানা তিনটি সিরিজ হারানোর কারণে, একলাফে তারা চলে এসেছে র‌্যাংকিংয়ের ৬ষ্ঠ স্থানে।

কিন্তু বিশ্বকাপের দল নির্বাচনে সর্বশেষ যে সময় নির্ধারণ করা ছিল তখন বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১১তম স্থানে। সে সময়ের অবস্থানের কারণে আফগানিস্তানের মত দেশ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভ খেলবে সরাসরি। অথচ, বাংলাদেশকে খেলতে হচ্ছে প্রথম রাউন্ড নামক বাছাই পর্ব। মরুদেশ ওমানের মাটিতে স্কটল্যান্ড, ওমান এবং পাপুয়া নিউগিনির মত আইসিসি সহযোগি দেশের বিপক্ষে খেলতে নামবে এই পর্বের খেলা। এখান থেকে সেরা দুটি দলের একটি হয়ে উঠবে সুপার টুয়েলভে।

প্রত্যাশার চাপ যদি ক্রিকেটাররা ঘাড়ে নিয়ে নেন বেশি করে, তাহলে প্রথম পর্বেই হোঁচট খাওয়ার সম্ভাবনা আছে। সে ক্ষেত্রে ম্যাচ বাই ম্যাচ, ধরে ধরে এগুলে বাংলাদেশের পথচলা হবে সুন্দর এবং প্রত্যাশার চেয়েও হয়তো ভালো করতে পারবে টাইগাররা। বাংলাদেশ দলের সাবেক অধিনায়ক, ম্যানেজার এবং বিসিবির পরিচালক খালেদ মাহমুদ সুজন তো বলেই দিয়েছেন, বাংলাদেশ সেমিফাইনাল খেলবে। আরেক সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাসুদ পাইলটও মনে করেন, ‘ছন্দে থাকলে বাংলাদেশের পক্ষে শেষ চারে পৌঁছা সম্ভব।’

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগের ৬ আসরের সবগুলোতেই খেলেছে বাংলাদেশ। ২০০৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম আসরে মোহাম্মদ আশরাফুলের নেতৃত্বে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারানো দিয়ে শুভ সূচনা হলেও এরপর যেন খেই হারিয়ে ফেলে টাইগাররা। এরপর বিশ্বকাপের মূল পর্বে আর কোনো জয়ই নেই বাংলাদেশের।

৬ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের মোটে জয়ের সংখ্যা ৫টি। এর মধ্যে চারটিই আবার গ্রুপ পর্বে ছোট দলের বিপক্ষে। ২০১৪ সালে আফগানিস্তান, একই আসরে নেপালের বিপক্ষে জয়, ২০১৬ সালে নেদারল্যান্ডস এবং ওমানের বিপক্ষে জয় ছিল বাংলাদেশের। অর্থ্যাৎ, ২০০৯, ২০১০, ২০১২ বিশ্বকাপে কোনো জয়ই নেই টাইগারদের।

২০১৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে প্রতিপক্ষের বোলারদের সামনে তামিম ইকবালের ব্যাট ছিল যেন খোলা তরবারি। প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে অপরাজিত ৮৩, পরের ম্যাচে ওমানের বিপক্ষ খেলেছেন ১০৩ রানের অপরাজিত ইনিংস। মূল পর্বে গিয়ে ব্যাঙ্গালুরুতে ভারতকে চেপে ধরেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু শেষ মুহূর্তে মাত্র তিন বলের ব্যবধানে জয়টা এমনভাবে হাতছাড়া হলো, যা ক্ষমার অযোগ্য। মাত্র এক রানে হার মানতে হয় ভারতের কাছে।

এবার বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ধাক্কা তামিম ইকবাল নেই। বিশ্বকাপের আগে দীর্ঘদিন টি-টোয়েন্টি খেলেননি- এই অজুহাতে তিনি নিজেই সরে দাঁড়িয়েছেন। যদিও ইনজুরি সমস্যা রয়েছে তার। সে সুযোগে দলে জায়গায় পাওয়া ওপেনার নাইম শেখ নিজেকে কতটা মেলে ধরতে পারেন, সুযোগ কাজে লাগাতে পারেন, সেটাই দেখার বিষয়।

লিটন দাস, সৌম্য সরকার এবং মুশফিকুর রহীম হলেন ব্যাট হাতে বাংলাদেশের ভরসার বড় কেন্দ্রবিন্দু। কিন্তু তারা রয়েছেন অফফর্মে। বিশ্বকাপ তাই তাদের জন্য অ্যাসিড টেস্ট। এই টেস্টে জয়ী হওয়া তাদের জন্য অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। সাকিব, মাহমুদউল্লাহর ঘাড়ে অনেক বড় চাপ থাকবে দলকে টেনে তোলার।

বল হাতে সাকিবের সাথে নাসুম আহমেদ, শেখ মাহেদি, আফিফ হোসেনরা থাকবেন তুরুপের তাস হিসেবে। মোস্তাফিজ, তরুণ শরিফুলরা নিজেদের মেলে ধরার দারুণ সুযোগ পাচ্ছেন এই বিশ্বকাপে। একই সঙ্গে উইকেটের পেছনে নুরুল হাসান সোহান যেমন ক্ষিপ্র, তেমনি ব্যাট হাতেও নিজেকে বিধ্বংসীরূপে হাজির করছেন ইদানিং। তারও প্রমাণ করার অনেক বড় সুযোগ এটা। সেই সুযোগটা কাজে লাগাতে পারেন কি না তিনি সেটাই দেখার বিষয়।

তাসকিন বিশ্বকাপ শুরুর আগেই হালকা ইনজুরিতে। খেলতে পারবেন, নাকি সাইড লাইনেই বসে থাকতে হবে তাকে, সেটাও একটি বড় প্রশ্ন। সাইফউদ্দিন বরাবরই পরীক্ষিত। ব্যাট হাতে ঝড় তোলার সক্ষমতা আছে। বল হাতে এনে দিতে পারেন ব্রেক থ্রু। দারুণ সম্ভাবনা নিয়ে দলের সঙ্গে ওমান-আরব আমিরাত গেছেন যুব বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য শামীম হোসেন। সুতরাং, তার সামনেও সুযোগ পেলে সেটাকে কাজে লাগানোর বড় একটি উপলক্ষ হাজির।

দেখা যাক, বাংলাদেশ প্রত্যাশার দাবি পূরণ করতে পারেন কি না, নাকি সেই চাপে শুরুতেই ভেঙে পড়ে, সে শঙ্কাও থেকে যাচ্ছে বরাবরের মত।

Captain Image

মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ

জন্ম: ৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৬; বয়স: ৩৫
ডাকনাম: সাইলেন্ট কিলার

ব্যাকগ্রাউন্ড

ঘরোয়া ক্রিকেটে ২০০৮/০৯ মৌসুমে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৭১০ রান করে জাতীয় দলের নির্বাচকদের নজর কাড়েন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। এরপরই টেস্ট দলে ডাক পান তিনি। এর আগে ২০০৭ সালে শ্রীলঙ্কা সিরিজ দিয়ে ওয়ানডে ক্যারিয়ার শুরু করেন এই অলরাউন্ডার। একই বছর কেনিয়ার বিপক্ষে তার অভিষেক হয় টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটেও। শুরুতে জাতীয় দলে অনিয়মিত হলেও, একটা সময় দলের অপরিহার্য ক্রিকেটার হয়ে ওঠেন তিনি।

অধিনায়কত্ব

এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সবচেয়ে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের একজন হিসেবেই বাংলাদেশের অধিনায়কত্ব করতে চলেছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ২০০৭ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হলেও মাহমুদউল্লাহ দেশের হয়ে প্রথম অধিনায়কত্ব করার সুযোগ পান ২০১৮ সালে, টেস্ট দিয়ে।

ওয়ানডে ফরম্যাটে দেশকে কখনো নেতৃত্ব দেয়া না হলেও, ২০১৮ সালে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটেও সাকিবের অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন তিনি। পরে ২০১৯ সালে সাকিব আল হাসান এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ হলে টি-টোয়েন্টি দলের নিয়মিত অধিনায়কই নির্বাচন করা হয় তাকে।

যত সাফল্য

টেস্টে মাহমুদউল্লাহর নেতৃত্বে ছয় ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ জিতেছে মাত্র একটিতে। তবে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে দেশের সফলতম অধিনায়ক তিনি। তার নেতৃত্বে ২৭ ম্যাচ খেলে টাইগাররা জিতেছে ১৩টিতে। বিপরীতে ১৪ ম্যাচ হারলেও টাইগার অধিনায়ক হিসেবে এই ফরম্যাটে সর্বোচ্চ জয়ের রেকর্ডটা লেখা হয়ে গেছে সাইলেন্ট কিলারখ্যাত এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের নামের পাশে।

এজন্য অবশ্য ধন্যবাদ পাওনা অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের। সম্প্রতি এই দুই দেশের বিপক্ষে ঘরের মাঠে ১০টি টি-টোয়েন্টি খেলে বাংলাদেশ জিতেছে ৭ ম্যাচে। সঙ্গে তাসমান পাড়ের দেশ দুটির বিপক্ষে বাংলাদেশ ইতিহাস গড়েছে প্রথমবার সিরিজ জয়ের।

মাহমুদউল্লাহর নেতৃত্বে বাংলাদেশের সাফল্য আছে আরো। ভারতকে প্রথমবার টি-টোয়েন্টিতে তার নেতৃত্বেই হারিয়েছিল টাইগাররা। এ ছাড়াও জিম্বাবুয়ের মাঠে সিরিজ জয় তার সময়েই এসেছে।

ব্যক্তিগত রেকর্ড

টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে বাংলাদেশ অধিনায়ক হিসেবে সবচেয়ে বেশি জয় মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের নামের পাশেই লেখা। এই ফরম্যাটে দেশের পক্ষে সবচেয়ে বেশি রান (১৭৭১) এবং সর্বোচ্চ ১০২ ম্যাচ খেলার রেকর্ডও তার। এ ছাড়াও কোনো আইসিসি ইভেন্টে টাইগারদের হয়ে প্রথম সেঞ্চুরিয়ান ছিলেন মাহমুদউল্লাহ।

২০১৫ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের আক্ষেপ ঘুচিয়েছিলেন তিনি। দেশের পক্ষে বিশ্বকাপে টানা দুই সেঞ্চুরির রেকর্ডও তার। ২০১৫ বিশ্বকাপেই ইংল্যান্ডের পর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেও শতরানের ইনিংস এসেছিল তার ব্যাট থেকে।

ব্যক্তিগত জীবন

২০১১ সালে জান্নাতুল কাওসার মিষ্টিকে বিয়ে করেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ব্যক্তি জীবনে দুই সন্তানের বাবা তিনি। জাতীয় দলের আরেক নির্ভরযোগ্য ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম সম্পর্কে তার ভায়রা ভাই। জান্নাতুল কাওসার মিষ্টির বোন জান্নাতুল কাওসার মণ্ডিকে বিয়ে করেন মুশি।

Coach Image

রাসেল ডোমিঙ্গো

জন্ম: ৩০ আগস্ট, ১৯৭৪; বয়স: ৪৭

কোচিং ক্যারিয়ার ও অভিজ্ঞতা

মাত্র ২২ বছর বয়সেই ক্রিকেট কোচিংয়ে হাতেখড়ি বর্তমান বাংলাদেশ কোচ রাসেল ডোমিঙ্গোর। ২৫ বছর বয়সে দক্ষিণ আফ্রিকার পূর্ব প্রদেশের যুব দলের দায়িত্ব পেয়ে যান তিনি। ২০০৪ সালে বাংলাদেশে হওয়া যুব বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার অনূর্ধ্ব-১৯ দলের কোচ ছিলেন ডোমিঙ্গো।

প্রোটিয়াদের ‘এ’ দলকেও কোচিং করানোর অভিজ্ঞতা আছে তার। ২০১১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা জাতীয় দলের সহকারি কোচের দায়িত্ব পান ডোমিঙ্গো। কাজ করেন ভারতকে সে বছর বিশ্বকাপ জেতানো গ্যারি কারস্টেনের ডেপুটি হিসেবে।

ডোমিঙ্গো প্রথম জাতীয় দলের হেড কোচের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন ২০১২ সালের ডিসেম্বরে। কারস্টেন থাকাবস্থাতেই দক্ষিণ আফ্রিকার টি-টোয়েন্টি দলের প্রধান কোচ হন তিনি। এরপর কারস্টেন দক্ষিণ আফ্রিকার দায়িত্ব ছাড়লে ডোমিঙ্গোকে তিন ফরম্যাটের দায়িত্বই বুঝিয়ে দেয়া হয়। ২০১৭ সালে প্রোটিয়াদের প্রধান কোচের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পর ২০১৯ সালের আগস্টে বাংলাদেশের প্রধান কোচের চাকরি নেন পোর্ট এলিজাবেথে জন্ম নেয়া ডোমিঙ্গো।

সাফল্য

২০১৪ সালে তার অধীনেই দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথমবারের মতো ওঠে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে। পরের বছর অনুষ্ঠিত ওয়ানডে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালেও প্রোটিয়ারা ওঠে তার কোচিংয়েই। বাংলাদেশের হয়ে তার আহামরি সাফল্য নেই বললেই চলে।

সম্প্রতি ঘরের মাঠে টি-টোয়েন্টিতে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডকে সিরিজ হারানোই তার সময়ে পাওয়া বাংলাদেশের বড় সাফল্য। এছাড়াও এই ফরম্যাটে শক্তিশালী ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম জয়টা এসেছিল ডোমিঙ্গোর সময়েই।

সম্ভাবনা

বাংলাদেশে ইমার্জিং দলের কোচ হতে আবেদন করলেও, ডোমিঙ্গো পেয়ে যান প্রধান কোচের পদ। তার সময়ে প্রোটিয়ারা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বেশ ভালো করলেও, বাংলাদেশের বেলায় এর ব্যতিক্রম দেখা গেছে। উল্টো সিনিয়র ক্রিকেটারদের সঙ্গে একের পর এক দ্বন্দ্বের খবরে তার অবস্থান নড়বড়ে হয়ে গেছে।

তবে সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ জয় আশার পালে দিচ্ছে হাওয়া। এ দুই সিরিজ থেকে পাওয়া আত্মবিশ্বাস ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো বড় দলকে কোচিং করানোর অভিজ্ঞতা যদি ডোমিঙ্গো কাজে লাগাতে পারেন, তবে হয়তো এবারের টি-টোয়েন্টি  বিশ্বকাপে চমক দেখাতে পারে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ বাহিনী।  

ব্যক্তিগত জীবন

ব্যক্তিগত জীবনে ছা পোষা ব্যক্তিত্বের অধিকারী রাসেল ডোমিঙ্গো। ছুটি পেলেই ছুটে যান দক্ষিণ আফ্রিকায় পরিবারের কাছে। বাংলাদেশ অধ্যায়ের আগে কখনো জাতীয় দলের হয়ে না খেলা ডোমিঙ্গোকে নিয়ে নেই তেমন কোনো বিতর্কও।  

বাংলাদেশ স্কোয়াড

মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (অধিনায়ক), সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মোস্তাফিজুর রহমান, সৌম্য সরকার, লিটন কুমার দাস, নুরুল হাসান সোহান, তাসকিন আহমেদ, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, আফিফ হোসেন ধ্রুব, মোহাম্মদ নাঈম শেখ, শেখ মাহেদী হাসান, নাসুম আহমেদ, শরিফুল ইসলাম, শামীম হোসেন পাটোয়ারী।

ব্যাটসম্যান

নাম

ম্যাচ

রান

গড়

৫০/১০০

সর্বোচ্চ

স্ট্রা. রেট

লিটন কুমার দাস

৩৮

৭১১

১৯.৭৫

  ৪/০

৬১

 ১২৯.৭৪  

মোহাম্মদ নাঈম শেখ 

২২

৫৭০  

২৭.১৪ 

  ২/০

৮১

১০৫.৯৪

সৌম্য সরকার

৬২

১১০৯

১৮.৭৯

  ৫/০

৬৮

১২২.৮১

মুশফিকুর রহীম

৯১

১৩২১

 ১৯.৭১

  ৫/০

৭২*

১১৫.৫৭

শামীম হোসেন

৭২

১৪.৪০

  ০/০

৩১*

১৪৪.০০  

নুরুল হাসান সোহান

২২

১৭৩

১৪.৪১

  ০/০

৩০*

১১৬.৮৯

বোলার

নাম

ম্যাচ

উইকেট

গড়

৪/

সেরা

ইক. রেট

শরিফুল ইসলাম

১১

১৭

১৭.৩৫

০/০

৩/৩৩

৭.৯৭  

মোস্তাফিজুর রহমান

৫২

৭৬

১৮.৬৬

২/১

৫/২২

৭.৪৮

নাসুম আহমেদ

১৪

১৮

১৫.৫৫

২/০

৪/১০

৬.২২ 

তাসকিন আহমেদ

২৪

১৫

৪০.০৬

০/০

২/৩২

৮.৩৮ 

অলরারাউন্ডার

নাম

ম্যাচ

রান

গড়

৫০/১০০

সর্বোচ্চ

স্ট্রা. রেট

উইকেট

গড়

৪/

সেরা

ইক. রেট

মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ

১০২

১৭৭১

২৪.২৬

৫/০

৬৪*

১১৮.৬৯

৩৩

২৮.৬৩

০/০

৩/১৮

৭.১৮   

সাকিব আল হাসান

৮৮

১৭৬৩

২২.৮৯

৯/০

৮৪

১২১.৮১

১০৬

২০.৬৮ 

৪/১

৫/২০

৬.৭৩ 

শেখ মাহেদী হাসান

১৮

১২০

১২.০০

০/০

২৩

৯৬.৭৭

১৫

২৭.৭৩

০/০

২/১২

৭.১৭

মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন

২৫

১৭২

১৭.২০

০/০

৩৯*

১০৬.৮৩

২৬

২৭.৭৩

১/০

৪/৩৩

৮.৪৮

আফিফ হোসেন ধ্রুব

২৮

৩৭৩

১৮.৬৪

১/০

৫২

১২৩.৫০

১৯.৮৫

০/০

২/৯

৭.৭২ 

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ : পরিসংখ্যান

  • বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ : ৬ বার
  • চ্যাম্পিয়ন : নেই
  • রানার্সআপ : নেই
  • সেমিফাইনাল : নেই
  • সুপার এইট : একবার  (২০০৭)
  • দ্বিতীয় পর্ব : দুইবার  (২০১৪, ১৬) 
  • প্রথম পর্ব : তিনবার (২০০৯, ১০, ১২)

সংক্ষেপে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ

সময়কাল

ম্যাচ

জয়

হার

টাই

ফল হয়নি

সর্বোচ্চ রান

সর্বনিম্ন রান

২০০৭-২০১৬

২৫

১৯

১৮০/২

৭০

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সেরা ১০টি ইনিংস

রান

উইকেট

ফল

প্রতিপক্ষ

ভেন্যু

সাল

১৮০ 

জয়

ওমান

ধর্মশালা

২০১৬

১৭৫

হার

পাকিস্তান

পাল্লেকেল

২০১২

১৬৫

জয়

ওয়েস্ট ইন্ডিজ

জোহানেসবার্গ

২০০৭

১৫৬

হার

অস্ট্রেলিয়া

বেঙ্গালুরু

২০১৬

১৫৫

হার

ভারত

নটিংহাম

২০০৯

১৫৩

হার

অস্ট্রেলিয়া

ঢাকা

২০১৪

১৫৩

জয়

নেদারল্যান্ডস

ধর্মশালা

২০১৬

১৫১

হার

পাকিস্তান

গ্রস আইলেট

২০১০

১৪৬

হার

পাকিস্তান

কলকাতা

২০১৬

১৪৫

হার

ভারত

বেঙ্গালুরু

২০১৬

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সেরা ১০ ব্যাটসম্যান

খেলোয়াড়

ম্যাচ

রান

সর্বোচ্চ

গড়

১০০

৫০

সাকিব আল হাসান

২৫

৫৬৭

৮৪

২৮.৩৫

তামিম ইকবাল

২৩

৫১৪

১০৩*

২৪.৪৭

মুশফিকুর রহিম

২৫

২৫৮

৪৭

১৬.১২

আশরাফুল

১১

২১২

৬৫

১৯.২৭

মাহমুদউল্লাহ

২২

১৯৪

৪৯*

১৩.৮৫

এনামুল হক

১৮৪

৪৪*

৩০.৬৬

সাব্বির রহমান

১১

১৭১

৪৪

২১.৩৭

মাশরাফি মর্তুজা

২৩

১৬৪

৩৩*

১৩.৬৬

আফতাব আহমেদ

১৬৩

৬২*

৩২.৬০

নাসির হোসেন

১৩৬

৫০

২২.৬৬

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সেরা ১০ বোলার

খেলোয়াড়

ম্যাচ

ওভার

মেডেন

রান

উইকেট

সেরা

গড়

সাকিব আল হাসান

২৫

৮৮.১

৫৮৬

৩০

৪/১৫

১৯.৫৩

আল-আমিন হোসেন

১৪

৪৩.৩

৩৪২

১৮

৩/২১

১৯.০০

আব্দুর রাজ্জাক

১৫

৫৩.৪

৩৬৬

১৬

২/১৬

২২.৮৭

মাশরাফি মর্তুজা

২৩

৭৫.৪

৬০১

১৩

২/২৮

৪৬.২৩

মোস্তাফিজুর রহমান

৮৬

৫/২২

৯.৫৫

মাহমুদউল্লাহ

২২

৩৭

২৫৬

২/১৩

৩২.০০

তাসকিন আহমেদ

১৪.০০

৮৫

২/৩২

২১.২৫

সাব্বির রহমান

১১ 

৬.০০

৩২

৩  

১/৩

১০.৬৬

সৈয়দ রাসেল

১৭.০০

১২৩

১/১০

৪১.০০

আবুল হাসান

৩.০০

৩৩

২/৩৩

১৬.৫০

 

সময়সূচি

১৭ অক্টোবর, ২০২১, ০৮:০০ পিএম

ওমান ক্রিকেট একাডেমি গ্রাউন্ড

বাংলাদেশ বাংলাদেশ ১৩৪/৭

স্কটল্যান্ড স্কটল্যান্ড ১৪০/৯

ম্যাচ রিপোর্ট

স্কটল্যান্ড ৬ রানের ব্যবধানে জয়ী

১৯ অক্টোবর, ২০২১, ০৮:০০ পিএম

ওমান ক্রিকেট একাডেমি গ্রাউন্ড

বাংলাদেশ বাংলাদেশ ১৫৩/১০

ওমান ওমান ১২৭/৯

ম্যাচ রিপোর্ট

বাংলাদেশ ২৬ রানে জয়ী।

২১ অক্টোবর, ২০২১, ০৪:০০ পিএম

ওমান ক্রিকেট একাডেমি গ্রাউন্ড

বাংলাদেশ বাংলাদেশ ১৮১/৭

পাপুয়া নিউগিনি পাপুয়া নিউগিনি ৯৭/১০

ম্যাচ রিপোর্ট

বাংলাদেশ ৮৪ রানে জয়ী

২৪ অক্টোবর, ২০২১, ০৪:০০ পিএম

শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়াম

বাংলাদেশ বাংলাদেশ ১৭১/৪

শ্রীলংকা শ্রীলংকা ১৭২/৫

ম্যাচ রিপোর্ট

শ্রীলঙ্কা ৫ উইকেটে জয়ী

২৭ অক্টোবর, ২০২১, ০৪:০০ পিএম

আবুধাবি শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়াম

বাংলাদেশ বাংলাদেশ ১২৪/৯

ইংল্যান্ড ইংল্যান্ড ১২৬/২

ম্যাচ রিপোর্ট

ওভার: ১৪.১ (ইংল্যান্ড ৮ উইকেটে জয়ী)

২৯ অক্টোবর, ২০২১, ০৪:০০ পিএম

শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়াম

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৪২/৭

বাংলাদেশ বাংলাদেশ ১৩৯/৫

ম্যাচ রিপোর্ট

ওভার: ২০.০ (ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩ রানে জয়ী)

০২ নভেম্বর, ২০২১, ০৪:০০ পিএম

আবুধাবি শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়াম

দক্ষিণ আফ্রিকা দক্ষিণ আফ্রিকা ৮৬/৪

বাংলাদেশ বাংলাদেশ ৮৪/১০

ম্যাচ রিপোর্ট

ওভার: ১৩.৩ (দক্ষিণ আফ্রিকা ৬ উইকেটে জয়ী)

০৪ নভেম্বর, ২০২১, ০৪:০০ পিএম

দুবাই ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়াম

অস্ট্রেলিয়া অস্ট্রেলিয়া ৭৮/২

বাংলাদেশ বাংলাদেশ ৭৩/১০

ম্যাচ রিপোর্ট

অস্ট্রেলিয়া ৮ উইকেটে জয়ী (৮২ বল হাতে রেখে)