ইংল্যান্ড

Team Image

ইংল্যান্ড : দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের হাতছানি

২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপ শুরুর আগেও র‌্যাংকিংয়ে শীর্ষে ছিল ইংল্যান্ড। ঘরের মাঠ থেকে প্রথমবারেরমত শিরোপাও নিজেদের করে নিয়েছিল ইংলিশরা। এবারও কাকতালীয়ভাবে টি-টোয়েন্টি র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষে অবস্থান করছে ইংল্যান্ড। তবে কী এবারও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপার হাতছানি দিচ্ছে ইয়ন মরগ্যানদের?

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের তৃতীয় আসরের শিরোপা জিতেছিল ইংল্যান্ড। ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে পল কলিংউডের নেতৃত্বাধীন ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল। ইংল্যান্ডের সামনে দ্বিতীয়বার টি-টোয়েন্টি শিরোপা জয়ের হাতছানি ছিল ২০১৬ সালে। সেবার ফাইনালে ওঠার পর শিরোপার কাছাকাছিও চলে গিয়েছিল তারা। শেষ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রয়োজন ছিল ২৪ রান। বেন স্টোকসকে তুলোধুনো করে কার্লোস ব্র্যাথওয়েট টানা চার ছক্কায় ওয়েস্ট ইন্ডিজকে জিতিয়ে দেন। হেরে যায় ইংল্যান্ড।

এবার অবশ্য বিশ্বকাপ শুরুর আগেই বড় ধাক্কা খেয়ে বসে আছে ইংলিশরা। তিন নির্ভরযোগ্য ক্রিকেটারকে হারিয়েছে তারা। মানসিক সমস্যার কারণে নিজে থেকেই সরে দাঁড়িয়েছেন বেন স্টোকস। ইনজুরির কারণে আগে থেকেই ছিলেন না জোফরা আরচার। আইপিএল খেলতে গিয়ে ইনজুরিতে পড়ে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়লেন উদীয়মান অলরাউন্ডার স্যাম কুরান। এই তিনজনের অনুপস্থিতি নিশ্চিতভাবেই ইংল্যান্ডকে ভোগাবে, সন্দেহ নেই।

তবুও ইংল্যান্ড ফেবারিট। ইংল্যান্ড দলের অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান জস বাটলার বিশ্বাস করেন, আরচার-স্টোকসকে ছাড়াই বিশ্বকাপ জিততে পারবে তারা। তিনি বলেন, ‘আমার মতে, আমরা নিশ্চিতভাবেই বিশ্বকাপের ফেবারিট দলের একটি। আমাদের দুর্দান্ত এক দল আছে। স্টোকস-আর্চারের মতো দুজন সুপারস্টারের অভাববোধ করব; কিন্তু স্কোয়াড দেখুন, এখানে সত্যিকারের ম্যাচ জেতানো কিছু খেলোয়াড় আছে, যা রোমাঞ্চকর।’

অনেক খেলার মতো ইংল্যান্ড ক্রিকেটেরও জনক। তবে অনেকবার বিশ্বকাপের (ওয়ানডে) ফাইনালে উঠলেও শেষ পর্যন্ত ২০১৯ সালে ঘরের মাঠেই ভাগ্যের সিকে ছিঁড়ে তাদের। ২০১০ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের পর এবারও তারা ফেবারিট। ২৩ অক্টোবর দুবাই ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু করবে ইংলিশরা।

এরপর ২৭ অক্টোবর বাছাই পর্বে ‘বি’ গ্রুপের রানারআপ, ৩০ অক্টোবর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে, ১ নভেম্বর বাছাই পর্ব ‘এ’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন এবং ৬ নভেম্বর শেষ ম্যাচে তারা মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আফ্রিকার।

ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯৭৫ সালে যখন ওয়ানডে বিশ্বকাপের যাত্রা শুরু হয়, প্রথম বিশ্বকাপে তাদের শুরুটা ভালোই হয়েছিল। ‘এ’ গ্রুপের সেরা দল হিসেবে ইংল্যান্ড উঠে আসে নকঃআউট পর্বে; কিন্তু সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে বিদায়ঘণ্টা বাজে ব্রিটিশদের। পরেরবার, ১৯৭৯ বিশ্বকাপে ঠিকই ফাইনালে ওঠে ইংল্যান্ড। এবার তারা মুখোমুখি হয় ওই সময়ের সবচেয়ে শক্তিশালী দল ক্লাইভ লয়েডের ওয়েস্ট ইন্ডিজের। তাই সেবারও শিরোপার কাছাকাছি গিয়ে শেষ হয়ে যায় ইংল্যান্ডের বিশ্বসেরার মিশন।

১৯৮৩ বিশ্বকাপে আবারও নিজেদের গ্রুপের সেরা হিসেবে নকআউট পর্বে ওঠে ইংল্যান্ড; কিন্তু সেমিফাইনালে কপিল দেবের ভারতের কাছে হেরে ওই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় ইংলিশরা। এরপর ১৯৮৭ সালে আবারও শিরোপার খুব কাছাকাছি গিয়ে ব্যর্থ হয় তারা। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৭ রানের ব্যবধানে হেরে যায় ব্রিটিশরা। পরের বিশ্বকাপে আবারও ফাইনালে ওঠে ইংল্যান্ড।

কিন্তু দুর্ভাগ্যের হ্যাটট্রিক করে বসে ইংল্যান্ড। টুর্নামেন্টের ফাইনালে প্রায় খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে ওঠা ইমরান খানের পাকিস্তানের কাছে তারা হেরে যায় ২২ রানে। এরপর ১৯৯৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড অংশ নিলেও খেলায় ছিল না কোনো ধার। নিজেদের গ্রুপের চতুর্থ দল হিসেবে তারা কোনোমতে উঠে শেষ আটের লড়াইয়ে; কিন্তু ওখানেই শেষ।

সেবারের চ্যাম্পিয়ন শ্রীলংকার কাছে বাজেভাবে ৫ উইকেটে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় তিনবারের রানার্সআপ ইংল্যান্ড। এর পরেরবার ১৯৯৯ সালে স্বাগতিক হয়েও স্মরণকালের সবচেয়ে বাজে পারফরম্যান্স দেখিয়ে ইংলিশ ক্রিকেটাররা বিদায় নেন প্রথম পর্ব থেকেই। দক্ষিণ আফ্রিকার ২০০৩ বিশ্বকাপে আবারও ইংল্যান্ড দেখাল একই প্রদর্শনী। এবারও প্রথম পর্ব থেকে বিদায় নিতে হয় তাদের।

২০০৭ বিশ্বকাপে ‘সি’ গ্রুপের হয়ে সুপার এইটে ওঠে ইংল্যান্ড; কিন্তু সেবারও ভাগ্য মুখ তুলে তাকালো না ব্রিটিশদের দিকে। ২০১১ বিশ্বকাপে উমহাদেশে ইংলিশরা খেলতে আসে অ্যান্ড্রু স্ট্রাউসের নেতৃত্বে। কিন্তু ওই বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বেই বড় বড় ধাক্কা খায় ইংলিশরা। নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে শুরু করলেও পরের ম্যাচে ভারতের করা ৩৩৮ রানের জবাব দিতে নেমে ম্যাচ টাই করে ফেলে ইংল্যান্ড। পরের ম্যাচেই তারা ৩ উইকেটে হেরে যায় আয়ারল্যান্ডের কাছে। পরের ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আগুনে ম্যাচ। তিন্তু এই ম্যাচে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে ১৭১ রান করেও ৬ রানে হারিয়ে দেয় ইংলিশরা।

পরের ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের ম্যাচ চট্টগ্রামে। এই ম্যাচে অসাধারণ পারফরম্যান্স দিয়ে ইংলিশদের ২ উইকেটে হারিয়ে দেয় বাংলাদেশ। শেষ ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১৮ রানে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার সুযোগ পায় ইংল্যান্ড। কোয়ার্টার ফাইনালে সেবারের ফাইনালিস্ট শ্রীলঙ্কার কাছে ১০ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে হেরে বিদায় নেয় ইংল্যান্ড।

২০১৫ বিশ্বকাপে ইয়ন মরগ্যানের নেতৃত্বে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড বিশ্বকাপে অংশ নেয় ইংল্যান্ড। ছিল ‘এ’ গ্রুপে নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান, স্কটল্যান্ড এবং বাংলাদেশের সঙ্গে। অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে ইংল্যান্ডের শুরু। পরের ম্যাচে তারা হেরে যায় আরেক স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের কাছে। ২০১৫ বিশ্বকাপে তারা প্রথম জয় পায় স্কটল্যান্ডকে ১১৯ রানে হারিয়ে।

পরের ম্যাচে তারা মুখোমুখি হয় শ্রীলঙ্কার। ওই ম্যাচে লঙ্কানদের কাছে ৯ উইকেটে হেরে যায় ইংলিশরা। এরপর ইংলিশরা মুখোমুখি হয় বাংলাদেশের। নিজেদের টিকিয়ে রাখার জন্য ইংলিশদের কাছে এ ম্যাচ ছিল গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের জন্যও একই অবস্থা; কিন্তু উজ্জীবিত বাংলাদেশের কাছে হেরে যায় ইংল্যান্ড এবং তাদের বিদায় নিশ্চিত হয়ে যায়। যদিও শেষ ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে স্বান্তনার জয় পেয়ে যায় ইয়ন মরগ্যানের বাহিনী।

টি-টোয়েন্টিতে ২০০৭ এবং ২০০৯ সালে সুপার এইট খেলেছিল ইংলিশরা। ২০১০ সালে চ্যাম্পিয়ন, ২০১২ সালে বিদায় নেয় সুপার এইট থেকে। ২০১৪ সালে খেলে সুপার টেন। ২০১৬ সালের বিশ্বকাপে ছিল ফাইনালিস্ট। এবার কী করে তারা সেটাই দেখার বিষয়।

ইয়ন মরগ্যানের নেতৃত্বে এবার দলে রয়েছেন মঈন আলি, স্যাম বিলিংস, টম কুরান, লিয়াম লিভিংস্টোন, টাইমাল মিলস, জেসন রয়, ক্রিস ওকস, জনি বেয়ারেস্ট, জস বাটলার, ক্রিস জর্ডান, ডেভিড মালান, আদিল রশিদ, ডেভিড উইলি, মার্ক উডের মত তারকা ক্রিকেটাররা।

Captain Image

ইয়ন মরগ্যান

জন্ম: ১০ সেপ্টেম্বর, ১৯৮৬; বয়স: ৩৫ বছর

ব্যাকগ্রাউন্ড

মিডেলসেক্সের হয়ে পেশাদার ক্রিকেট ক্যারিয়ার শুরু করেন আয়ারল্যান্ডে জন্ম নেয়া ইয়ন মরগ্যান। ২০০৬ সালে জন্মভূমির হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে হয়ে যায় তার অভিষেকও। তবে মরগ্যানের শুরু থেকেই বাসনা ছিল টেস্ট খেলার। আয়ারল্যান্ড ছেড়ে তাই ইংল্যান্ড জাতীয় দলে যোগ দেন তিনি। থ্রি লায়ন্সে যোগ দেয়ার এক বছরের মাথায় তার মনোবাসনা পূর্ণও হয়। ২০১০ সালে প্রথমবার টেস্ট খেলার স্বাদ পান, বাংলাদেশের বিপক্ষে। তবে দুই বছরের মাথায় দল থেকে যে বাদ পড়েন, আর কখনো টেস্টই খেলা হয়নি এই বাঁ-হাতির।

অধিনায়কত্ব

শুরু থেকেই নেতৃত্বের গুণাবলী ছিল মরগানের মধ্যে। আইরিশ দলকে একটা সময় নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। তবে চরম সংকটময় মুহূর্তে ইয়ন মরগ্যান পেয়েছিলেন ইংল্যান্ডের ওয়ানডে দলের দায়িত্ব। ২০১৫ বিশ্বকাপের দুই মাস আগে স্যার অ্যালিস্টার কুককে সরিয়ে দিয়ে মরগ্যানকে করা হয় অধিনায়ক।

তার অধীনেই পরে ওয়ানডে বিশ্বকাপে হতাশাজনক পারফরম্যান্স দেখায় থ্রি লায়ন্সরা। আরো তিন বছর আগে টি-টোয়েন্টি দলের নেতৃত্ব পেয়েও আশানুরূপ ফল দলকে এনে দিতে পারেননি মরগ্যান। তার নেতৃত্বে ইংল্যান্ড ২০১৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার টেন থেকেই বিদায় নেয়।

যত সাফল্য

দুই বিশ্বকাপে হতাশ করার পর থেকেই অধিনায়ক হিসেবে নিজের মুন্সিয়ানা দেখান শুরু করেন মরগ্যান। বর্তমান সময়ে খেলছেন এমন ক্রিকেটারদের মধ্যে অধিনায়ক হিসেবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৭টি জয় তো এখন তারই নামের পাশে। মরগ্যানের নেতৃত্বে ইংল্যান্ড শ্রীলঙ্কা, দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, পাকিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নিউজিল্যান্ডের মতো দলকে সিরিজ হারিয়েছে। খেলেছে ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনাল। শেষ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে সেবার শিরোপা হারালেও, মরগ্যান ২০১৯ সালে ইংল্যান্ডকে এনে দেন তার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সাফল্য। প্রথমবারের মতো থ্রি-লায়ন্সরা জেতে ওয়ানডে বিশ্বকাপ।

ব্যক্তিগত রেকর্ড

প্রথম আইরিশ ক্রিকেটার হিসেবে প্রথম শ্রেণিতে ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকান ইয়ন মরগ্যান। আয়ারল্যান্ডের হয়ে অভিষেক ম্যাচে তিনি আউট হয়েছিলেন ৯৯ রানে। ওয়ানডে অভিষেকে ৯৯ রানে আউট হওয়া প্রথম দুর্ভাগ্যবান ব্যাটসম্যানও তিনি। এছাড়াও আরো কিছু ব্যক্তিগত রেকর্ডের মালিক মরগ্যান। ইংল্যান্ডের হয়ে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে সবচেয়ে বেশি রান এবং ম্যাচ খেলার মালিক তিনি। ইংল্যান্ডের হয়ে ওয়ানডেতে দ্রুততম অর্ধশতক হাঁকানোর রেকর্ডটাও তার। এছাড়া ২০১৯ বিশ্বকাপে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ১৭ ছক্কা মারার রেকর্ডও গড়েন এই মারকুটে ব্যাটার।

ব্যক্তিগত জীবন

ব্যক্তিগত জীবনে মরগ্যান দীর্ঘদিনের বান্ধবী তারা রিডজওয়েকে ২০১৮ সালে বিয়ে করেন। ২০২০ সালে এই দম্পতির কোলজুড়ে আসে একটি ছেলে সন্তান। ইংল্যান্ডকে বিশ্বকাপ জেতানোর পর ক্রিকেটে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিসরূপ কমান্ডার অব দ্য ব্রিটিশ এম্পায়ার (সিবিই) পুরস্কার পান তিনি।

Coach Image

ক্রিস সিলভারউড

জন্ম: ৫ মার্চ, ১৯৭৫ বয়স: ৪৬  

কোচিং ক্যারিয়ার ও অভিজ্ঞতা

কাউন্টি ক্রিকেটে বেশ সফল হলেও, ক্রিস সিলভারউডের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার তেমন সমৃদ্ধ ছিল না। তবে এই পেসার বোলিং কোচ হিসেবে বেশ সুনাম কুড়িয়েছেন ক্যারিয়ারে। যে কারণে পরবর্তীতে কাজ করার সুযোগ পান প্রধান কোচ হিসেবেও।

খেলোয়াড়ি জীবনকে বিদায় বলার পর সিলভারউড তার সাবেক ক্লাব এসেক্স থেকে ডাক পান বোলিং কোচ হিসেবে কাজ করার জন্য। ভালো করতে থাকায় ২০১৬ সালে তাকে ক্লাবটি প্রধান কোচ করে নেয়। এসেক্সের হয়ে প্রধান কোচ হিসেবে নিজের দূরদর্শিতা দেখিয়ে ইংল্যান্ড দলে ডাক পান তিনি। এখানে আগে তাকে করা হয় বোলিং কোচ।

পরবর্তীতে প্রধান কোচ। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে বোলিং কোচের দায়িত্ব পেয়ে জাতীয় দলের সঙ্গে যোগ দেন তিনি। পরে ইংল্যান্ডকে বিশ্বকাপ জিতিয়ে ট্রেভর বাইলিস বিদায় নেয়ার পর হেড কোচের দায়িত্ব পেয়ে যান সিল্ভারউড।

সাফল্য

ইংল্যান্ড দলের হয়ে এখনো সেভাবে কোনো সাফল্য পাওয়া হয়নি সিলভারউডের। তবে এসেক্সের কোচ হিসেবে সিলভারউডের কীর্তি আজীবন মনে রাখার মতো। ২০১৬ সালে ক্লাবটির প্রধান কোচের দায়িত্ব পেতেই কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম ডিভিশনে দলকে তুলে আনেন। আর সেই দলকে পরের মৌসুমেই বানান চ্যাম্পিয়ন। কাউন্টি ক্রিকেটে কয়েক বছর তলানিতে থাকার পর মাত্র দুই মৌসুমে সিলভারউডের হাত ধরে এসেক্সের পাওয়া এই সাফল্য দেখেই তো ইংল্যান্ড দল তাকে কোচিং স্টাফ হিসেবে নিয়োগ দেয়।

সম্ভাবনা

রঙিন পোশাকের ক্রিকেটে এখন এমনিতেই দুর্বার ইংল্যান্ড। বর্তমান ওয়ানডে বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন ইয়ন মরগ্যানের দল। সেই ধারাবাহিকতায় এবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিততেই সংযুক্ত আরব আমিরাত যাবে দলটি। দলের ভেতর একাধিক মারকাটারি ব্যাটসম্যান, অলরাউন্ড এবং প্রতিশ্রুতিশীল বোলার থাকায় আর কোচ হিসেবে সিলভারউডের জাদু যদি কাজে লেগে যায় তবে দ্বিতীয়বার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ট্রফি জিতে নিতেই পারে থ্রি লায়ন্সরা।

ব্যক্তিগত জীবন

পন্টফ্রাক্টে জন্ম নেয়া সিলভারউড শিক্ষা জীবন শুরু করেন গারফোর্থ কম্প্রিহেনসিভ স্কুল থেকে।  

ইংল্যান্ড স্কোয়াড

ইয়ন মরগ্যান, মইন আলি, জনি বেয়ারেস্ট, স্যাম বিলিংস, জস বাটলার, স্যাম কুরান, ক্রিস জর্ডান, লিয়াম লিভিংস্টোন, ডেভিড মালান, টাইমাল মিলস, আদিল রশিদ, জেসন রয়, ডেভিড উইলি, ক্রিস ওকস, মার্ক উড

ব্যাটসম্যান

নাম

ম্যাচ

রান

গড়

৫০/১০০

সর্বোচ্চ

স্ট্রা. রেট

ইয়ন মরগ্যান

১০৭

২৩৬০

২৮.৭৮

১৪/০

৯১

১৩৮.২৫

জনি বেয়ারেস্ট

৫৭

১১৪৩

২৭.৮৭

৭/০

৮৬*

১৩৭.০৫

স্যাম বিলিংস

৩২

৪১৭

১৬.৬৮

২/০

৮৭

১২৮.৩০

জস বাটলার

৮২

১৮৭১

৩১.৭১

১৪/০

৮৩*

১৩৯.৮৩

ডেভিড মালান

৩০

১১২৩

৪৩.১৯

১১/১

১০৩*

১৩৯.৩৩

জেসন রয়

৪৮

১১৯৩

২৪.৮৫

৬/০

৭৮

১৪৫.৬৬

 বোলার

নাম

ম্যাচ

উইকেট

গড়

/

সেরা

ইক. রেট

ক্রিস জর্ডান

৬৫

৭৩

২৭.১৭

২/০

৪/৬

৮.৭০

টাইমাল মিলস

৪৩.০০

০/০

১/২৭

৬.৭৮

আদিল রশিদ

৬২

৬৫

২৪.২৯

১/০

৪/৩৫

৭.৪৮

মার্ক উড

১৭

২৬

২০.৭৬

০/০

৩/৯

৮.৫০

অলরাউন্ডার

নাম

ম্যাচ

রান

গড়

৫০/১০০

সেরা

স্ট্রা. রেট

উইকেট

গড়

/

সেরা

ইক. রেট

মঈন আলি

৩৮

৪৩৭

১৬.১৮

২/০

৭২*

১৩৬.১৩

২১

৩২.৫৭

০/০

২/২১

৮.৪২

লিয়াম লিভিংস্টোন

২০৬

৩৪.৩৩

০/১

১০৩

১৬৭.৪৭

৩৬.০০

০/০

১/০৮

৭.২০

ক্রিস ওকস

১০

৯১

৩০.৩৩

০/০

৩৭

১৪৪.৪৪

৩৪.৫০

০/০

২/৪০

৮.১১

ডেভিড উইলি

৩২

১৮২

১৪.০০

০/০

২৯*

১৩২.৮৪

৩৮

২২.৪৭

১/০

৪/৭

৭.৯৯

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড : পরিসংখ্যান

  • বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ : ৬বার  
  • চ্যাম্পিয়ন : একবার (২০১০)    
  • রানার্সআপ : একবার (২০১৬)  
  • সেমিফাইনাল: নেই
  • দ্বিতীয় পর্ব : চারবার (২০০৭, ২০০৯, ২০১২, ২০১৪)
  • প্রথম পর্ব: নেই

(প্রথম পর্ব: গ্রুপ পর্ব), (দ্বিতীয় পর্ব: সুপার এইট, সুপার টেন),

সংক্ষেপে ইংল্যান্ডের  বিশ্বকাপ

সময়কাল

ম্যাচ

জয়

হার

টাই

ফল হয়নি

সর্বোচ্চ রান

সর্বনিম্ন রান

২০০৭-২০১৬

৩২

১৫

১৬

২৩০

৮০

বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের সেরা ১০টি ইনিংস

রান

উইকেট

ফল

প্রতিপক্ষ

ভেন্যু

সাল

২৩০

জয়

দক্ষিণ আফ্রিকা

মুম্বাই

২০১৬

২০০

হার

ভারত

ডারবান

২০০৭

১৯৬

জয়

আফগানিস্তান

কলম্বো

2০১২

১৯৩

হার

দক্ষিণ আফ্রিকা

চট্টগ্রাম

২০১৪

১৯১

হার

ওয়েস্ট ইন্ডিজ

প্রভিডেন্স

২০১০

১৯০

জয়

শ্রীলঙ্কা

চট্টগ্রাম

২০১৪

১৮৮

জয়

জিম্বাবুয়ে

কেপ টাউন

২০০৭

১৮৫

জয়

পাকিস্তান

দা ওভাল

২০০৯

১৮২

হার

ওয়েস্ট ইন্ডিজ

মুম্বাই

২০১৬

১৭২

হার

নিউজিল্যান্ড

চট্টগ্রাম

২০১৪

বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের সেরা ১০ ব্যাটসম্যান

খেলোয়াড়

ম্যাচ

রান

সর্বোচ্চ

গড়

১০০

৫০

কেভিন পিটারসেন   

১৫

 ৫৮০

৭৯

৪৪.৬১ 

ইয়ন মরগ্যান

২৩

৪৮৪

৭১*

২৫.৪৭

লুক রাইট

২২

৪৩৯

 ৯৯*

২৫.৮২

অ্যালেক্স হেলস

১৪

৩৫৬

১১৬*

২৭.৩৮

জশ বাটলার

১৫

৩০৫

৬৬*

২৭.৭২

ক্রেইগ কিয়েসওয়েটার

১১

২৬১

৬৩

২৩.৭২

জো রুট

২৪৯

৮৩

৪৯.৪০

রবি বোপারা

১১

২৩৯

৫৫

২৬.৫৫

পল কলিংউড

১৭

২১০

৩৭

১৩.১২

ওয়াইস শাহ

১০

২০৯ 

 ৩৮

২০.৯০

বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের সেরা ১০ বোলার

খেলোয়াড়

ম্যাচ

ওভার

মেডেন

রান

উইকেট

সেরা

গড়

স্টুয়ার্ট ব্রড   

2৬

৮৬.৫

৬৭১

৩০

৩/১৭

২২.৩৬

গ্রেম সোয়ান

১৬

৫৫.০

৩৫৮

২২

৩/২৪

১৬.২৭

রায়ান সাইডবোটম

১০

৩০.৫

২২৯

১৩

৩/২৩

১৭.৬১

ডেভিড উইলি

২১.০

১৫৯

১০

৩/২০

১৫.৯০

ক্রিস জর্ডান

১০

৩৩.২

২৬৪

১০

৪/২৮

২৬.৪০

স্টিভেন ফিন

2০.০

১২৩

৩/১৬

১৫.৩৭

জিমি অ্যান্ডারসন

৩২.২

২৩৩

৩/২৩

২৯.১২

আদিল রশিদ

১০

৩২.০

২৫৫

২/১৮

৩১.৮৭

জেড ডার্নবাখ

২৩.২

২৪০

২/১৬

৩৪.২৮

দিমিত্রি মাসকারেনহাস

২১.০

১৬৭

৩/১৮

২৭.৮৩

 

সময়সূচি

২৩ অক্টোবর, ২০২১, ০৮:০০ পিএম

দুবাই ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়াম

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৫৫/১০

ইংল্যান্ড ইংল্যান্ড ৫৬/৪

ম্যাচ রিপোর্ট

ইংল্যান্ড ৬ উইকেটে জয়ী

২৭ অক্টোবর, ২০২১, ০৪:০০ পিএম

আবুধাবি শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়াম

বাংলাদেশ বাংলাদেশ ১২৪/৯

ইংল্যান্ড ইংল্যান্ড ১২৬/২

ম্যাচ রিপোর্ট

ওভার: ১৪.১ (ইংল্যান্ড ৮ উইকেটে জয়ী)

৩০ অক্টোবর, ২০২১, ০৮:০০ পিএম

দুবাই ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়াম

অস্ট্রেলিয়া অস্ট্রেলিয়া ১২৫/১০

ইংল্যান্ড ইংল্যান্ড ১২৬/২

ম্যাচ রিপোর্ট

ওভার: ১১.৪ (ইংল্যান্ড ৮ উইকেটে জয়ী)

০১ নভেম্বর, ২০২১, ০৮:০০ পিএম

শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়াম

শ্রীলংকা শ্রীলংকা ১৩৭/১০

ইংল্যান্ড ইংল্যান্ড ১৬৩/৪

ম্যাচ রিপোর্ট

ওভার: ১৯ (ইংল্যান্ড ২৬ রানে জয়ী)

০৬ নভেম্বর, ২০২১, ০৮:০০ পিএম

শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়াম

দক্ষিণ আফ্রিকা দক্ষিণ আফ্রিকা ১৮৯/২

ইংল্যান্ড ইংল্যান্ড ১৭৯/৮

ম্যাচ রিপোর্ট

ওভার ২০ (দক্ষিণ আফ্রিকা ১০ রানে জয়ী)

১০ নভেম্বর, ২০২১, ০৮:০০ পিএম

আবুধাবি শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়াম

নিউজিল্যান্ড নিউজিল্যান্ড ১৬৭/৫

ইংল্যান্ড ইংল্যান্ড ১৬৬/৪

ম্যাচ রিপোর্ট

ওভার: ১৯ (নিউজিল্যান্ড ৫ উইকেটে জয়ী)

২২ অক্টোবর, ২০২২, ০৫:০০ পিএম

পার্থ স্টেডিয়াম

আফগানিস্তান আফগানিস্তান ১১২/১০ (১৯.৪)

ইংল্যান্ড ইংল্যান্ড ১১৩/৫ (১৮.১)

ম্যাচ রিপোর্ট

ফল: ইংল্যান্ড ৫ উইকেটে জয়ী

২৬ অক্টোবর, ২০২২, ১০:০০ এএম

মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ড

ইংল্যান্ড ইংল্যান্ড ১০৫/৫ (১৪.৩)

আয়ারল্যান্ড আয়ারল্যান্ড ১৫৭/১০ (১৯.২)

ম্যাচ রিপোর্ট

ফল: আয়ারল্যান্ড ৫ রানে জয়ী (ডি/এল)

২৮ অক্টোবর, ২০২২, ০২:০০ পিএম

মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ড

অস্ট্রেলিয়া অস্ট্রেলিয়া ০/০ (০.০)

ইংল্যান্ড ইংল্যান্ড ০/০

ম্যাচ রিপোর্ট

ফল: বৃষ্টির কারণে খেলা পরিত্যক্ত

০১ নভেম্বর, ২০২২, ০২:০০ পিএম

ব্রিসবেন ক্রিকেট গ্রাউন্ড

নিউজিল্যান্ড নিউজিল্যান্ড ১৫৯/৬ (২০.০)

ইংল্যান্ড ইংল্যান্ড ১৭৯/৫ (২০.০)

ম্যাচ রিপোর্ট

ফল: ইংল্যান্ড ২০ রানে জয়ী

০৫ নভেম্বর, ২০২২, ০২:০০ পিএম

সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ড

ইংল্যান্ড ইংল্যান্ড ১৪২/৬ (১৯.৪)

শ্রীলংকা শ্রীলংকা ১৪১/৮ (২০.০)

ম্যাচ রিপোর্ট

ফল: ইংল্যান্ড ৪ উইকেটে জয়ী।

১০ নভেম্বর, ২০২২, ০২:০০ পিএম

অ্যাডিলেড ওভাল

ভারত ভারত ১৬৮/৬ (২০)

ইংল্যান্ড ইংল্যান্ড ১৭০/০ (১৬.০)

ম্যাচ রিপোর্ট

ফল: ইংল্যান্ড ১০ উইকেটে জয়ী

১৩ নভেম্বর, ২০২২, ০২:০০ পিএম

মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ড

পাকিস্তান পাকিস্তান ১৩৭/৮ (২০.০)

ইংল্যান্ড ইংল্যান্ড ১৩৮/৫ (১৯.০)

ফল: পাকিস্তানকে ৫ উইকেটে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড