দক্ষিণ আফ্রিকা

Team Image

দক্ষিণ আফ্রিকা : ধারার বিপরীতে চলতে পারবে এবার?

দক্ষিণ আফ্রিকা দলটির বর্তমান পরিস্থিতির দিকে তাকালে দেশটির সাবেক ক্রিকেটাররা হয়তো দ্বিতীয়বার তাকাতে চাইবেন না। কারণ, কখনোই প্রোটিয়া ক্রিকেট এতটা তারকাহীন ছিল না। একজন ভালোমানের অধিনায়ক পর্যন্ত নেই তাদের হাতে। টেস্ট খেলার জন্য এক সময় দলে নেয়া হয়েছিল টেম্বা বাভুমাকে। তিনিই এখন প্রোটিয়াদের সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের অধিনায়ক। টি-টোয়েন্টিতে তার নেতৃত্বেই লড়াই করতে নামবে প্রোটিয়ারা।

এবি ডি ভিলিয়ার্স, ফ্যাফ ডু প্লেসির মত ক্রিকেটাররা এখনও দিব্যি খেলে যাচ্ছেন। কিন্তু জাতীয় দলের হয়ে খেলতে তাদের সব ধরনের অনীহা। এটা হয়তো প্রোটিয়া ক্রিকেট বোর্ডের এমন কোনো নীতির কারণে, যে জাতীয় দলের হয়ে খেলতে হয়তো আর উৎসাহবোধ করেন না তারা। ডি ভিলিয়ার্স ফিরতে চেয়েছিলেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ উপলক্ষে। কিন্তু প্রোটিয়া ক্রিকেট বোর্ড আর তাকে ফেরানোর পথে হাঁটেনি।

কাগিসো রাবাদা, লুঙ্গি এনগিদি, অ্যানরিখ নর্তজে, কুইন্টন ডি কক কিংবা ডেভিড মিলারদের মত কিছু তারকা আছেন, যাদের ওপর ভর করে দক্ষিণ আফ্রিকানরা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে আশাবাদী হতে পারে। টেম্বা বাভুমাও হয়তো এই বিশ্বকাপে নিজেকে একজন ক্যারিশম্যাটিক অধিনায়ক হিসেবে তুলে ধরতে পারেন। সবকিছুই সময়ের অপেক্ষা। মাঠের চিত্র অনেক কিছু হয়তো বলে দেবে।

তার আগে, এবারের দক্ষিণ আফ্রিকা দলটি বাজির ঘোড়া হয়ে উঠতে পারে। দলটির বর্তমান অবস্থা দেখে হয়তো তাদেরকে নিয়ে অন্যরা খুব বেশি ভাববে না। কিন্তু ভেতরে ভেতরে হয়তো অন্য যে কারো চেয়ে পূর্ণ শক্তি নিয়ে বিশ্বকাপের ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়তে প্রস্তুত তারা।

১৯৯২ সালে ২২ বছরের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ক্রিকেট সার্কিটে ফিরে আসার পর প্রতিটি বিশ্বকাপেই ফেবারিট হিসেবে যাত্রা শুরু করে দক্ষিণ আফ্রিকা; কিন্তু শক্তিশালী দল হয়েও এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপ জেতা হয়নি আফ্রিকান প্রতিনিধিদের। ১৯৯৮ সালে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি (তখনকার নক আউট বিশ্বকাপ) জয়ই এখনও পর্যন্ত তাদের সবচেয়ে বড় অর্জন।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার সবচেয়ে বড় অর্জন দুটি সেমিফাইনাল। ২০০৯ এবং ২০১৪ সালে সেমিতে ওঠার পর আর খুব বেশি এগুতে পারেনি। ২০০৯ সালে প্রোটিয়ারা সেমিফাইনালে হেরে যায় পাকিস্তানের কাছে। এরপর ২০১৪ সালে বাংলাদেশের মাটিতে তারা সেমিতে হারে ভারতের কাছে। এবার কতদুর যেতে পারে প্রোটিয়ারা সেটাই দেখার বিষয়।

টি-টোয়েন্টি র‌্যাংকিংয়ে তারা রয়েছে ৫ নম্বরে। যে কারণে সরাসরি খেলবে সুপার টুয়েলভে। প্রোটিয়াদের প্রতিপক্ষ এবার অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং প্রথম পর্ব থেকে উঠে আসা আরও দুটি দল।

২৩ অক্টোবর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে প্রোটিয়াদের বিশ্বকাপ মিশন। শুরুতেই হাই ভোল্টেজ ম্যাচে মাঠে নামছে তারা। এরপর ওয়েস্ট ইন্ডিজ, বাছাই পর্ব থেকে উঠে আসা অন্য দুই প্রতিপক্ষ এবং সর্বশেষ ৬ নভেম্বর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবে দক্ষিণ আফ্রিকা।

ওয়ানডে বিশ্বকাপে তো কোনো সাফল্যই নেই। সব সময় চোকার্স তকমা নিয়ে বিদায় নিতে হয় তাদের। ১৯৯২, ১৯৯৯, ২০০৭ ও ২০১৫ সালের বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছিল তারা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ২২ বছরের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে অধিনায়ক কেপলার ওয়েসেলসের হাত ধরে দক্ষিণ আফ্রিকা ত্রাস ছড়িয়েছিল ১৯৯২ বিশ্বকাপে।

কিন্তু নবজাগরণের পাশাপাশি কোনো টুর্নামেন্টে বাজে সমাপ্তির অধ্যায়টাও শুরু হয়েছিল তখন থেকেই। সাদা বিদ্যুৎখ্যাত ফাস্ট বোলার অ্যালান ডোনাল্ড কিংবা হ্যানসি ক্রোনিয়ের মতো তারকা ব্যাটসম্যানের এ দলটি বিশ্বকাপের অন্যতম দাবিদার হয়েও, সবাইকে অবাক করে অপেক্ষাকৃত দুর্বল শ্রীলংকার কাছে হেরে যায়। শুধু তাই নয়, আসতে থাকে একের পর এক নিয়তির আঘাত।

বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচের নিয়মনীতির চরম ব্যবহার বিশ্ব ক্রিকেট দেখল এ বিশ্বকাপেই। সেখানেও খগড় নেমে এলো তাদের ওপর। অনেক হিসাব কষে, শেষ পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকাকে দেওয়া হলো এক বলে ২২ রানের অজাগতিক এক টার্গেট। তাই অনেক ভালো খেলেও সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিতে হয় সম্ভাবনাময় দলটিকে।

১৯৯৬ বিশ্বকাপেও দক্ষিণ আফ্রিকা এসেছিল অপার সম্ভাবনা নিয়ে। প্রথম পর্বের খেলার সব ক’টিতে জয় নিয়ে নক আউট পর্বে উঠেছিল ক্রোনিয়ে-রোডস-কাস্টেনের দল; কিন্তু সেখানেই শেষ। সবাইকে অবাক করে ‘এ’ গ্রুপের প্রথম পর্বের পাঁচ ম্যাচের তিনটিতেই হেরে যাওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে তারা ১৯ রানে ধরাশায়ী হয় কোয়ার্টার ফাইনালে।

ফলে আবারও স্বপ্নের যবনিকা। এরপর আসে ১৯৯৯-এর ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ। এবারও প্রাথমিক পর্বের একটি বাদে বাকি ম্যাচগুলো জিতে গ্রুপসেরা হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকা উঠে যায় সুপার সিক্সে। সেখানে তিন খেলায় জয় নিয়ে আশা জাগিয়ে সরাসরি সেমিফাইনালে উঠে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে শেষ চারের খেলায় প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে টাই করে বসে আফ্রিকান দলটি। অ্যালান ডোনাল্ড আর ল্যান্স ক্লুজনারের ভুলে শেষ বলে এক রান নিতে না পেরে হয়ে যায় রানআউট। আবারও নিয়তির জালে আটকে যায় দলটি, রানরেটের হিসাবে বিদায় নিতে হয় বিশ্বকাপ থেকে।

২০০৩ বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক হলেও এবারের শুরুটা আগের মতো হলো না আফ্রিকানদের। গ্রুপ পর্বের লড়াইয়ে ‘বি’ গ্রুপের চার নম্বরে অবস্থান নেওয়ায় শেষ পর্যন্ত তাদের সুপার সিক্সে ঠাঁই মেলেনি। ফলে এখান থেকেই বিদায় নিতে হলো স্বাগতিকদের।

২০০৭ বিশ্বকাপেও দক্ষিণ আফ্রিকা তাদের বিশ্বসেরা হয়ে ওঠার মিশন শুরু করেছিল বেশ ভালোভাবেই। গ্রুপ পর্ব তারা শেষ করেছিল দ্বিতীয় অবস্থানে থেকে। এরপর সুপার এইটও ভালোভাবে উতরে যায় অধিনায়ক গ্রায়েম স্মিথের দল। তখন পর্যন্ত তাদের বিশ্বকাপের অন্যতম দাবিদার হিসেবে ধরাও হচ্ছিল।

সেমিফাইনালে এসে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হয় আফ্রিকান দেশটি। কিন্তু গ্লেন ম্যাকগ্রা এবং শন টেইটের দুর্দান্ত বোলিংয়ের সামনে ১৪৯ রানেই মুখ থুবড়ে পড়ে প্রোটিয়াদের ইনিংস। অস্ট্রেলিয়া এ রান অতিক্রম করে মাত্র ৩১.৩ ওভারে। একই সঙ্গে টানা পঞ্চমবারের মতো ধূলিসাৎ হয়ে যায় অমিত প্রতিভাধর এ দলটির বিশ্বকাপ মিশন।

২০১১ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে ছিল প্রোটিয়াদের স্বপ্নের যাত্রা। গ্রায়েম স্মিথের নেতৃত্বে গ্রুপ পর্বে ৬ ম্যাচের মধ্যে ৫ ম্যাচে জিতে শীর্ষে থেকেই উঠেছে কোয়ার্টার ফাইনালে। ‘বি’ গ্রুপে সেবারের চ্যাম্পিয়ন ভারত হয়েছিল দ্বিতীয়। শুধুমাত্র ইংল্যান্ডের কাছে হেরেছিল তারা, ১৭১ রানের জবাবে ১৬৫ রানে অলআউট হয়ে।

কিন্তু প্রোটিয়াদের দুর্ভাগ্য, কোয়ার্টার ফাইনালেই থেমে যায় তাদের স্বপ্নযাত্রা। নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরে যায় ৪৯ রানে। স্বপ্ন ভঙ্গের বেদনা নিয়ে ফিরে যায় নিজ দেশে। অথচ সেরা প্রোটিয়া কোচ গ্যারি কারস্টেনের অভিভাবকের অধীনে থেকে বিশ্বকাপ জয় করে নেয় ভারত।

২০১৫ বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকা খেলতে যায় এবি ডি ভিলিয়ার্সের নেতৃত্বে। এবারও শক্তিশালী দক্ষিণ আফ্রিকা। শিরোপার অন্যতম ফেবারিট। কিন্তু মোক্ষম সময়ে এসে ভেঙে পড়াটাই হচ্ছে তাদের ঐতিহ্য। গ্রুপ পর্বে ৬ ম্যাচের ৪টিতে জিতে হয়েছে দ্বিতীয়। কোয়ার্টার ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ১৩৩ রানে অলআউট করে দিয়ে বীরদর্পেই তারা উঠে যায় সেমিফাইনালে। কিন্তু স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড এবারও তাদের পথের কাটা। অকল্যান্ডে বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচে ৪ উইকেটে হেরে বিদায় নিতে হয় প্রোটিয়াদের।

২০১৯ বিশ্বকাপের প্রথম পর্বই টপকাতে পারেনি ফ্যাফ ডু প্লেসিরা। বাংলাদেশের কাছেও হারতে হয়েছিল প্রবশ শক্তিধর এবং ফেবারিটের তকমা নিয়ে খেলতে যাওয়া দলটি। এবারের বিশ্বকাপে কী করে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Captain Image

টেম্বা বাভুমা

জন্ম: ১৭ মে, ১৯৯০; বয়স: ৩১

ব্যাকগ্রাউন্ড

ঘরোয়া ক্রিকেটে বর্তমানে কেপ কোবরাসের হয়ে খেলা টেম্বা বাভুমার ক্রিকেট ক্যারিয়ার শুরু ২০০৮ সালে। গটেংয়ের হয়ে ইস্টার্ন প্রভিন্সের বিপক্ষে খেলতে নামেন তিনি। এরপর ২০১০/১১ মৌসুমে প্রথমবার ফ্যাঞ্চাইজি লিগে খেলার সুযোগ পান। তার অভিষেক হয় হাইভেল্ড লায়ন্সের হয়ে। সেখানে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখানোর পর জাতীয় দলের নির্বাচকদের নজরে এসে পড়েন এই অলরাউন্ডার।

বাভুমার দক্ষিণ আফ্রিকা দলের হয়ে অভিষেক টেস্ট ক্রিকেট দিয়ে। গ্রায়েম স্মিথ এবং জ্যাক ক্যালিসের অবসর আর এবি ডি ভিলিয়ার্স ইনজুরিতে পড়ায় প্রোটিয়া দলে ডাক পড়ে বাভুমার। ২০১৪ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বক্সিং ডে টেস্ট দিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার ক্যাপ মাথায় তোলেন তিনি। এরপর ২০১৬ সালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে এবং ২০১৯ সালে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে টি-টোয়েন্টি অভিষেকও হয়ে যায় বাভুমার।

অধিনায়কত্ব

২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপের ব্যর্থতার পর থেকে পালাবদলের মধ্যে চলতে থাকে দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট। ফ্যাফ ডু প্লেসির পর নেতৃত্ব যায় কুইন্টন ডি ককের কাছে। তবে তার কাছ থেকে প্রত্যাশা মতো সাফল্য না পাওয়ায়, ২০২১ সালে সংক্ষিপ্ত ওভারের ক্রিকেট দলের অধিনায়ক করা হয় টেম্বা বাভুমাকে। স্থায়ীভাবে নেতৃত্ব পাওয়ার পরই ইতিহাসের পাতায় নাম তোলেন বাভুমা। কেননা তিনিই প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ দক্ষিণ আফ্রিকান যিনি কি-না জাতীয় দলের নেতৃত্ব দেয়ার সুযোগ পেলেন।

যত সাফল্য

খুব বেশিদিন হয়নি দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়কত্ব পেয়েছেন বাভুমা, তবে এরই মধ্যে নিজের জাত চেনানো শুরু করেছেন তিনি। টি-টোয়েন্টিতে প্রথম অ্যাসাইনমেন্টেই তার নেতৃত্বে দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ হারায় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। এরপর বিদেশের মাটিতে আরেক সফরে আয়ারল্যান্ডকে তিন ম্যাচের সিরিজে করে হোয়াইটওয়াশ। বাভুমার নেতৃত্বে এখন পর্যন্ত খেলা ৮ টি-টোয়েন্টির মাত্র দুটিতে হেরেছে প্রোটিয়ারা। জিতেছে বাকি ৬ ম্যাচেই।

ব্যক্তিগত রেকর্ড

টেস্ট ক্রিকেট দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখার সৌভাগ্য খুব অল্প ক’জনেরই হয়। তার মধ্যে একজন বাভুমা। ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দারুণ খেলার সুবাদেই টেস্ট ক্যাপ আগে মাথায় ওঠে তার। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে অভিষেক হওয়ার পর ২০১৬ সালে এসে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে প্রথম সেঞ্চুরি হাঁকান বাভুমা।

তাতে প্রথম কৃষ্ণবর্ণ ক্রিকেটার হিসেবে প্রোটিয়াদের হয়ে সেঞ্চুরি করা ব্যাটার হয়ে যান তিনি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওই রেকর্ড গড়ার কিছুদিন পরেই ওয়ানডে দলে সুযোগ পান তিনি। ২০১৭ সালে ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকার বাৎসরিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বাভুমা এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড জেতেন।

ব্যক্তিগত জীবন

একসময় রাস্তায় ক্রিকেট খেলা বাভুমা এখন দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক। জন্মস্থান লাঙ্গায় দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটের পরিচিত মুখ থামি সোলেকিলে এবং মালুসি সিবোতোর সঙ্গে এক রাস্তায় সারাদিন ক্রিকেট নিয়েই পড়ে থাকতেন বাভুমা।

Coach Image

মার্ক বাউচার

জন্ম: ৩ ডিসেম্বর, ১৯৭৬; বয়স: ৪৪  

কোচিং ক্যারিয়ার ও অভিজ্ঞতা

রিচার্ড পাইবাসের কথা তো কমবেশি সব বাংলাদেশি ক্রিকেটপ্রেমীরই মনে থাকার কথা। তার আচার-আচরণ নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও ক্রিকেট সম্পর্কিত ক্ষুরধার জ্ঞান নিয়ে সন্দেহের অবকাশ ছিল না কখনোই। সেই পাইবাসের হাতেই গড়ে উঠেছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান মার্ক বাউচার। কিপার হিসাবে টেস্ট ক্রিকেটের সর্বোচ্চ ডিসমিসালের মালিক বাউচারের কোচিংয়ে আসাও নাকি পাইবাসকে দেখে।

গুরুর অনুসারী সেই বাউচার এখন দক্ষিণ আফ্রিকা জাতীয় দলের কোচ। ক্রিকেট ছাড়ার পর এই কিংবদন্তি কিপার কোচিং শুরু করেছিলেন ২০১৬ সালের আগস্টে, টাইটান্সের হেড কোচ হিসেবে। এরপর ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে তাকে দেয়া হয় দক্ষিণ আফ্রিকার জাতীয় দলের দায়িত্ব। পালাবদলের মধ্যে দিয়ে যাওয়া প্রোটিয়া দলের দায়িত্ব পেয়ে বাউচার প্রথমে কোনো সুবিধা করে উঠতে পারছিলেন না। তবে ধীরে ধীরে তার হাত ধরে সেই দলটি এখন গুছিয়ে নিয়েছে নিজেদের।

সফলতা

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাউচারের পথচলা মাত্র দুই বছরের। এ সময়ে নিজেকে প্রমাণের তেমন সুযোগ পাননি। তবে ঘরোয়া ক্রিকেটে তার অধীনে সফলতা আছে টাইটান্সের। একটি-দুটি নয়, মাত্র তিন বছর দায়িত্বে থাকাকালীন টাইটান্সকে পাঁচটি শিরোপা জেতান তিনি। যার মধ্যে আছে দুটি ওয়ানডে কাপ, দুটি টি-টোয়েন্টি চ্যালেঞ্জ টাইটেল এবং একটি চার-দিনের সানফয়েল সিরিজের ট্রফি।

সম্ভাবনা

বাউচারকে নিয়ে শুরুর দিকে প্রশ্ন থাকলেও, ধীরে ধীরে দক্ষিণ আফ্রিকাকে সঠিক রাস্তায় নিয়ে এসেছেন তিনি। সম্প্রতি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে হারলেও, টি-টোয়েন্টি সিরিজে স্বাগতিকদের প্রোটিয়ারা করেছে হোয়াইটওয়াশ। জিতেছে সবশেষ খেলা সাত টি-টোয়েন্টি ম্যাচের সবকটি।

বাউচারের অধীনে শেষ তিন টি-টোয়েন্টি  সিরিজ জিতেছে প্রোটিয়ারা। এর আগে নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে মাত্র দুইবার এই ফরম্যাটে এত ধারাবাহিকতা দেখাতে পেরেছিল দলটি। টানা জেতার মধ্যে থাকায় পাওয়া আত্মবিশ্বাস যদি এবার কাজে লাগাতে পারে দক্ষিণ আফ্রিকা, তবে বাউচারের অধীনে বিশ্বকাপে নিজের চোকার্স তকমাটা হয়তো ঝেড়ে ফেলতে পারবে টেম্বা বাভুমার দল।

ব্যক্তিগত জীবন

খেলোয়াড়ি জীবনের বাইরে বেশ সাদামাটা জীবন-যাপন ছিল এই কিপার ব্যাটসম্যানের।

দক্ষিণ আফ্রিকা স্কোয়াড

টেম্বা বাভুমা (অধিনায়ক), কুইন্টন ডি কক, বিয়ন ফরচুন, রেজা হেনড্রিক্স, হেনরিক ক্লাসেন, কেশব মহারাজ, এইডেন মার্করাম, ডেভিড মিলার, উইয়ান মালডার, লুঙ্গি এনগিদি, অ্যনরিখ নরকিয়া, ডোয়াইন প্রিটোরিয়াস, কাগিসো রাবাদা, তাব্রিজ শামসি, রাশি ফন ডার ডুসেন।

ব্যাটসম্যান

নাম

ম্যাচ

রান

গড়

৫০/১০০

সর্বোচ্চ

স্ট্রা. রেট 

টেম্বা বাভুমা

১৬

৪১০

২৭.৩৩

১/০

৭২

১২৬.৯৩

কুইন্টন ডি কক

৫৭

১৭৫৮

৩৫.১৫

১১/০

৭৯*

১৩৬.৩৮

রেজা হেনড্রিকস

৩৬

৯৯৩

২৮.৩৭

৭/০

৭৪

১২২.৮৯

হেনরিক ক্লাসেন

২৬

৪৩৬

২২.৯৪

৩/০

৬৯

১৪৩.৮৯

ডেভিড মিলার

৯০

১৭৪২ 

৩১.৬৭

৪/১

১০১*

১৪০.৮২

রাশি ফন ডার ডুসেন

২৯

৭৫৬

৩৬.০০

৫/০

৭৪*

১৩৪.৭৫ 

বোলার                       

নাম

ম্যাচ

উইকেট

গড়

/

সেরা

ইক. রেট

কেশভ মহারাজ

১৪.৩৩

০/০

১/১০

৪.২২

বিজর্ন ফরটুইন

১৩

১৪

১৯.২৮

০/০

৩/১৬

৬.৫৮

লুঙ্গি এনগিডি

২৩

৩৬

১৯.৬১

১/০

৪/১৯

৮.৯৫

আনরিখ নরকিয়া

১১

০৯

৩২.২২

০/০

২/২৯

৭.৪৩

কাগিসো রাবাদ

৩৫

৪১

২৬.৫৮

০/০

৩/৩০

৮.৬৩

তাবরেইজ শামসি

৪২

৪৯

২১.৬৩

২/০

৪/২৫

৬.৭৯

 অলরাউন্ডার

নাম

ম্যাচ

রান

গড়

৫০/১০০

সর্বোচ্চ

স্ট্রা. রেট

উইকেট

গড়

/

সেরা

ইক. রেট

এইডেন মার্করাম

১৫

৪২৬

৩৫.৫০

৪/০

৭০

১৪৭.৪০

১৭.২০

০/০

৩/২১

৭.৮১

উইয়ান মুলডার

৫১

২৫.৫০

০/০

৩৬

১১৫.৯০

১৮.০০

০/০

২/১০

 ৮.১৮

ডোয়াইন প্রিটোরিয়াস

১৭

১৬৯

৩৩.৭৯

১/০

৭৭*

১৬৫.৬৮

১৪

২৪.৭৮

০/১

৫/১৭

৮.০৬

 

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকা : পরিসংখ্যান

  • বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ : ছয়বার  
  • চ্যাম্পিয়ন : নেই              
  • রানার্সআপ : নেই   
  • সেমিফাইনাল: দুইবার (২০০৯, ২০১৪)
  • দ্বিতীয় পর্ব : চারবার (২০০৭, ২০১০, ২০১২, ২০১৬)
  • প্রথম পর্ব: নেই

(প্রথম পর্ব: গ্রুপ পর্ব), (দ্বিতীয় পর্ব: সুপার এইট, সুপার টেন)

সংক্ষেপে দক্ষিণ আফ্রিকার বিশ্বকাপ

সময়কাল

ম্যাচ

জয়

হার

টাই

ফল হয়নি

সর্বোচ্চ রান

সর্বনিম্ন রান

২০০৭-২০১৬

৩০

১৮

১২

২২৯

১১৬

বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার সেরা ১০টি ইনিংস

রান

উইকেট

ফল

প্রতিপক্ষ

ভেন্যু

সাল

২২৯

হার

ইংল্যান্ড

মুম্বাই

২০১৬

২১১

জয়

স্কটল্যান্ড

দ্য ওভাল

২০০৯

২০৯

জয়

আফগানিস্তান

মুম্বাই

২০১৬

২০৮

জয়

ওয়েস্ট ইন্ডিজ

জোহানেসবার্গ

২০০৭

১৯৬

জয়

ইংল্যান্ড

চট্টগ্রাম

২০১৪

১৮৩

জয়

ওয়েস্ট ইন্ডিজ

দ্য ওভাল

২০০৯

১৭২

হার

ভারত

গ্রস আইলেট

২০১০

১৭২

হার

ভারত

ঢাকা

২০১৪

১৭০

জয়

নিউজিল্যান্ড

ব্রিজটাউন

২০১০

১৭০

জয়

নিউজিল্যান্ড

চট্টগ্রাম

২০১৪

বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার সেরা ১০ ব্যাটসম্যান

খেলোয়াড়

ম্যাচ

রান

সর্বোচ্চ

গড়

১০০

৫০

এবি ডি ভিলিয়ার্স    

৩০

৭১৭

৭৯*

২৯.৮৭

জেপি ডুমিনি

২৫

৫৬৮

৮৬*

৪০.৫৭

জ্যাক ক্যালিস

১৫

৪৩৩

৭৩

৩৬.০৮

হাশিম আমলা

১৪

৩৭৬

৫৮

৩১.৩৩

গ্রায়েম স্মিথ

১৬

৩৫২

৪১

২২.০০

এলবি মরকেল

২৫

৩০৮

৪৩

২০.৫৩

ফ্যাফ ডু প্লেসি

২৭১

৬৫

৩০.১১

হার্শেল গিবস

১২

২৬৫

৯০*

২৪.০৯

কুইন্টিন ডি কক

২১৭

৫২

২৪.১১

জাস্টিন কেম্প

১৭৩

৮৯*

৮৬.৫০

বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার সেরা ১০ বোলার    

খেলোয়াড়

ম্যাচ

ওভার

মেডেন

রান

উইকেট

সেরা

গড়

ডেল স্টেইন

২৩

৮৩.১

৫৭৯

৩০

৪/১৭

১৯.৩০

মরনে মরকেল

১৭

৬২.৪

৪৫২

২৪

৪/১৭

১৮.৮৩

ইমরান তাহির

৩৬.০

২১৪

১৮

৪/২১

১১.৮৮

ওয়েন পারনেল

২৯.৫

২০৭

১৩

৪/১৩

১৫.৯২

জ্যাক ক্যালিস

১৫

৩৭.০

২৪৭

১২

৪/১৫

২০.৫৮

চার্ল ল্যাঙ্গাভেল্ট

১৬.০

১০৪

১১

৪/১৯

৯.৪৫

ফন ডার মিরওয়ে

৩১.০

২০২

১১

২/১৪

১৮.৩৬

ইয়োহান বোথা

১৪

৪০.৪

২৬৫

১১

৩/১৬

২৪.০৯

অ্যালবি মরকেল

২৫

৪৬.৪

৪০৪

১০

২/১২

৪০.৪০

শন পোলক

১৯.৩

১৬৭

৩/৪০

২০.৮৭

 

সময়সূচি

২৩ অক্টোবর, ২০২১, ০৪:০০ পিএম

আবুধাবি শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়াম

দক্ষিণ আফ্রিকা দক্ষিণ আফ্রিকা ১১৮/৯

অস্ট্রেলিয়া অস্ট্রেলিয়া ১২১/৫

ম্যাচ রিপোর্ট

অস্ট্রেলিয়া ৫ উইকেটে জয়ী

২৬ অক্টোবর, ২০২১, ০৪:০০ পিএম

দুবাই ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়াম

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৪৩/৮

দক্ষিণ আফ্রিকা দক্ষিণ আফ্রিকা ১৪৪/২

ম্যাচ রিপোর্ট

ওভার: ১৮.২ (দক্ষিণ আফ্রিকা ৮ উকেটে জয়ী)

৩০ অক্টোবর, ২০২১, ০৪:০০ পিএম

শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়াম

শ্রীলংকা শ্রীলংকা ১৪২/১০

দক্ষিণ আফ্রিকা দক্ষিণ আফ্রিকা ১৪৬/৬

ম্যাচ রিপোর্ট

ওভার: ১৯.৫ (দক্ষিণ আফ্রিকা ৪ উইকেটে জয়ী)

০২ নভেম্বর, ২০২১, ০৪:০০ পিএম

আবুধাবি শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়াম

দক্ষিণ আফ্রিকা দক্ষিণ আফ্রিকা ৮৬/৪

বাংলাদেশ বাংলাদেশ ৮৪/১০

ম্যাচ রিপোর্ট

ওভার: ১৩.৩ (দক্ষিণ আফ্রিকা ৬ উইকেটে জয়ী)

০৬ নভেম্বর, ২০২১, ০৮:০০ পিএম

শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়াম

দক্ষিণ আফ্রিকা দক্ষিণ আফ্রিকা ১৮৯/২

ইংল্যান্ড ইংল্যান্ড ১৭৯/৮

ম্যাচ রিপোর্ট

ওভার ২০ (দক্ষিণ আফ্রিকা ১০ রানে জয়ী)

২৪ অক্টোবর, ২০২২, ০২:০০ পিএম

বেলেরিভ ওভাল

জিম্বাবুয়ে জিম্বাবুয়ে ৭৯/৫ (৯.০)

দক্ষিণ আফ্রিকা দক্ষিণ আফ্রিকা ৫১/০ (৩.০)

ম্যাচ রিপোর্ট

ফল: খেলা পরিত্যক্ত

২৭ অক্টোবর, ২০২২, ০৯:০০ এএম

সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ড

বাংলাদেশ বাংলাদেশ ১০১/১০ (১৬.৩)

দক্ষিণ আফ্রিকা দক্ষিণ আফ্রিকা ২০৫/৫ (২০.০)

ম্যাচ রিপোর্ট

ফল: ১০৪ রানে জয়ী দক্ষিণ আফ্রিকা

৩০ অক্টোবর, ২০২২, ০৫:০০ পিএম

পার্থ স্টেডিয়াম

ভারত ভারত ১৩৩/৯ (২০.০)

দক্ষিণ আফ্রিকা দক্ষিণ আফ্রিকা ১৩৪/৫ (১৯.৪)

ফল: দক্ষিণ আফ্রিকা ৫ উইকেটে জয়ী

০৩ নভেম্বর, ২০২২, ০২:০০ পিএম

সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ড

পাকিস্তান পাকিস্তান ১৮৫/৯ (২০.০)

দক্ষিণ আফ্রিকা দক্ষিণ আফ্রিকা ১০৮/৯ (১৪)

ম্যাচ রিপোর্ট

ফল: পাকিস্তান ৩৩ রানে জয়ী (ডিএল মেথড)

০৬ নভেম্বর, ২০২২, ০৬:০০ এএম

অ্যাডিলেড ওভাল

দক্ষিণ আফ্রিকা দক্ষিণ আফ্রিকা ১৪৫/৮ (২০.০ ওভার)

নেদারল্যান্ডস নেদারল্যান্ডস ১৫৮/৪ (২০ ওভার)

ফল: ১৩ রানে জয় পেল নেদারল্যান্ডস