ডিজিটাল রূপান্তরের জন্য প্রস্তুত বাংলাদেশের শিক্ষাখাত

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩:৫৫ পিএম, ১৭ জানুয়ারি ২০১৮

শ্রেণিকক্ষে ডিজিটাল প্রযুক্তির গুরুত্ব অনুধাবন করার লক্ষ্যে সম্প্রতি মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত বেট (ব্রিটিশ এডুকেশনাল ট্রেনিং অ্যান্ড টেকনোলজি) এশিয়া সামিটে অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশসহ এশিয়ার শিক্ষাবিদরা।

সামিটে শিক্ষাখাতে ডিজিটালে রূপান্তর এবং যুগান্তকারী উদ্ভাবন বিষয়ে আলোচনা করেন অংশগ্রহণকারীরা। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল, ডিজিটাল ভবিষ্যতের জন্য শিক্ষার্থীদের কীভাবে প্রস্তুত করা যায়। এ লক্ষ্যে বেটের অংশীদার হিসেবে তথ্যবহুল অংশগ্রহণমূলক শিক্ষাগত অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ করে দেয় মাইক্রোসফট।

বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে অনুন্নত শিক্ষা-ব্যবস্থা প্রধান অন্তরায়, কারণ উন্নয়নশীল বাজারে শিক্ষা-গ্রহণের সুযোগ উৎপাদনশীলতা ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ পরিবেশের দিকে নিয়ে যায়। উন্নত শিক্ষা-ব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের মধ্যে উচ্চমানের দক্ষতা তৈরি করে যা শ্রমবাজারে, প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনে এবং জটিল চিন্তা-ভাবনা করার দুয়ার উন্মুক্ত করবে।

চতুর্থ শিল্প বিপ্লবকে স্বাগত জানাতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত দক্ষতা বৃদ্ধির ব্যাপারে গুরুত্ব দেন এশিয়ার শিক্ষাবিষয়ক নেতৃত্বদানকারীরা। মাইক্রোসফটের এশিয়া ডিজিটাল রূপান্তর জরিপের তথ্য মতে, ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যে ৮৭ শতাংশ শিক্ষাবিদ মনে করেন, শিক্ষা-ব্যবস্থায় ডিজিটাল রূপান্তর অত্যন্ত জরুরি।

এছাড়া, মাত্র ২৩ শতাংশ মনে করেন, ইতোমধ্যে তাদের শিক্ষা-ব্যবস্থায় ডিজিটাল কৌশল অবলম্বন করা হয়েছে। সঠিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে শিক্ষাবিদরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে উপযুক্ত, অংশ্রগ্রহণমূলক এবং ব্যক্তিগতভাবে ডিজিটাল কন্টেন্ট নিয়ে কাজ করতে পারবেন। একই সঙ্গে শিক্ষকতা পেশায় জড়িত না এমন সব কর্মকর্তারা এর গুরুত্ব অনুধাবন করে ডিজিটাল রূপান্তর বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারবেন।

মাইক্রোসফট এশিয়া প্যাসিফিকের এডুকেশন বিভাগের ডিরেক্টর ডন কার্লসন বলেন, ‘ডিজিটাল ডিসরাপশনের ফলে কাজের ধরণ ও পরিচালনায় অনেক পরিবর্তন এসেছে এবং শিক্ষার্থীদের সৃষ্টিশীলতা ও বিশ্লেষণী চিন্তার উন্নয়ন ঘটানোর মতো বিষয়গুলো নিয়ে তাদের ভবিষ্যতের দক্ষতার বিষয়ে প্রস্তুত করে তুলতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর রূপান্তর প্রয়োজন।

তিনি বলেন, শিক্ষাখাতে ডিজিটাল রূপান্তর নিয়ে মাইক্রোসফটে আমাদের স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট ধরণ রয়েছে। আমাদের বিশ্বাস চারটি মূল বিষয়ের মধ্যে এ রূপান্তর অন্তর্ভুক্ত। বিষয়গুলো হচ্ছে: শিক্ষক ও শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ক্ষমতায়ন, শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততা, প্রতিষ্ঠানের অনুকূলকরণ এবং ডাটা ও ক্লাউড মূল চালিকাশক্তি ধরে শিক্ষার রূপান্তর।’

এ নিয়ে মাইক্রোসফট বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান ও লাওসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোনিয়া বশির কবির বলেন, ‘বাংলাদেশের শিক্ষাখাতে সত্যিকার অর্থেই ডিজিটাল করণের দিকে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এ গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্যের ওপর আমাদের অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করা উচিৎ।

শিক্ষাখাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে এ খাত থেকে আরও বেশি কিছু অর্জনের ক্ষেত্রে মাইক্রোসফট শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ক্ষমতায়ন নিয়ে কাজ করছে। সম্প্রতি ঘোষণা অনুযায়ী, মাইক্রোসফট ৩৬৫ এডুকেশনে অফিসে ৩৬৫ ফর এডুকেশন, উইন্ডোজ ১০, এন্টারপ্রাইজ সিকিউরিটি এবং মাইনক্রাফট: এডুকেশন এডিশন যুক্ত করা হয়েছে। সুরক্ষিত উপায়ে নতুন কিছু সৃষ্টিতে এবং কোলাবোরেশনে এটা শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় সব কিছু দেবে।

এমআরএম/পিআর

বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস নিয়ে লিখতে পারেন আপনিও - jagofeature@gmail.com