ট্রাম্পের খড়্গের নিচে চীনের টিকটক

আলিমুল হক
আলিমুল হক আলিমুল হক
প্রকাশিত: ০৪:২৬ পিএম, ১২ আগস্ট ২০২০

আমি টিকটক ব্যবহার করি না। এটা কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণীদের খুব প্রিয় একটি স্মার্টফোন অ্যাপ। ইউজাররা এ অ্যাপ ব্যবহার করে নাচ-গান করেন। মাঝ বয়সে এসে এ ধরনের অ্যাপের প্রতি আকর্ষণবোধ না করা অস্বাভাবিক নয়। যাই হোক, এই নির্দোষ অ্যাপটি যুক্তরাষ্ট্রে নিষিদ্ধ করে সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন।

আদেশে বলা হয়েছে, আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে টিকটকের মার্কিন অংশ যদি কোনো মার্কিন কোম্পানি কিনে না নেয়, তবে ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে টিকটক যুক্তরাষ্ট্রে নিষিদ্ধ হবে। নির্বাহী আদেশে অবশ্য শুধু টিকটকের কথা বলা হয়নি, বলা হয়েছে চীনের আরেকটি বিখ্যাত অ্যাপ উইচ্যাটের কথাও। উইচ্যাটের জন্য একই কথা প্রযোজ্য। বলা বাহুল্য, এ দুটি চীনে তৈরি অথচ বিশ্বব্যাপী খুব জনপ্রিয় অ্যাপ।

টিকটক একটি ছোট ভিডিও-শেয়ারিং অ্যাপ। বিশ্বব্যাপী কোটি কোটি মানুষ এ অ্যাপটি ব্যবহার করে। বাংলাদেশেও এটি জনপ্রিয়। যুক্তরাষ্ট্রে এ অ্যাপটির যাত্রা শুরু মাত্র বছর তিনেক আগে। ২০১৭ সালের আগস্টে টিকটকের মূল কোম্পানি বাইটডান্স ১০০ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ছোট ভিডিও-শেয়ারিং অ্যাপ মিউজিক্যাল ডট এলওয়াই কিনে নেয়। এ অ্যাপের ভিত্তির ওপরই গড়ে ওঠে টিকটকের যুক্তরাষ্ট্র অংশটি। মাত্র তিন বছরে যুক্তরাষ্ট্রে টিকটকের ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ১০ কোটিতে। প্রতি বছর দেশটিতে টিকটকের ব্যবহারকারী বাড়ার হার প্রায় চারশ শতাংশ। শুধু যুক্তরাষ্ট্রে নয়, চীনসহ গোটা বিশ্বেই টিকটক অসম্ভব জনপ্রিয় একটি অ্যাপ; বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে। এক হিসাব অনুসারে, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে টিকটক ছিল বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ডাউনলোড হওয়া স্মার্টফোন অ্যাপ। চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত টিকটক বিশ্বব্যাপী ডাউনলোড হয়েছে প্রায় ২০০ কোটি বার।

টিকটক নিষিদ্ধ করে নির্বাহী আদেশ জারি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, জাতীয় নিরাপত্তার কথা। তিনি বলেন, টিকটক ব্যবহারকারীদের অবস্থান ও কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তথ্য পেয়ে থাকে এবং এ তথ্য করপোরেট গোয়েন্দাগিরির কাজে লাগতে পারে; ব্যবহৃত হতে পারে ব্ল্যাকমেইলিংয়ের কাজে। অথচ একই কথা প্রযোজ্য মার্কিন সামাজিক যোগাযোগ-মাধ্যমগুলোর জন্যও! প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, টিকটকের ভিডিওর মাধ্যমে নভেল করোনাভাইরাসের উৎস সম্পর্কে ‘ষড়যন্ত্র তত্ত্ব’ প্রচার করা হয়েছিল। এ ধরনের ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ফেসবুক ও গুগলের ইউটিউবেও হরহামেশাই প্রচার হয়! এখন যদি একই যুক্তিতে এসব মার্কিন যোগাযোগমাধ্যমকে অন্য কোনো দেশ নিষিদ্ধ করে দেয়!! বিষয়টা নিয়ে বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো চিন্তিত। ফেসবুকের মার্ক জুকারবার্গ পর্যন্ত এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, টিকটক নিষিদ্ধ হলে, তা খারাপ দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।

আসলে শুরুতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সরাসরি টিকটক নিষিদ্ধ করতেই চেয়েছিলেন। মাইক্রোসফটের টিকটকের মার্কিন অংশ কিনে নেওয়ার প্রস্তাব তিনি শুরুর দিকে নাকচ করে দিয়েছিলেন। কিন্তু তার পরামর্শকরা তাকে এটা বোঝাতে সক্ষম হন যে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত তরুণ ভোটারদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে। কারণ রক্ষণশীল তরুণ ভোটারদের অনেকেই তার সমর্থক; একই সঙ্গে টিকটক ব্যবহারকারী। ট্রাম্প পরামর্শকদের কথা শুনলেন এবং মাইক্রোসফটের টিকটক ক্রয়ের বিষয়টিকে অনুমোদন দিলেন। কিন্তু পাশাপাশি তিনি এও জানিয়ে দিলেন যে, বিক্রয়ের অর্থের একটা অংশ মার্কিন ট্রেজারিতে জমা দিতে হবে! টিকটক বিক্রির একটা অংশ দাবি করে ট্রাম্প আরেকটি বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। এ নিয়েও আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। যে আইনের অধীনে তিনি অর্থ দাবি করেছেন, সে আইন প্রয়োগ করে এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনের অর্থ নেওয়ার ঘটনা ঘটেনি।

মাইক্রোসফটের সঙ্গে টিকটকের আলোচনা চলছে। ধারণা করা হচ্ছে, এ অসম আলোচনা থেকে মার্কিন কোম্পানিটি দারুণভাবে লাভবান হবে। টিকটকের যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের অংশ কেনার আলোচনায় শেষ পর্যন্ত কী হয় সেটা দেখার বিষয়। ধারণা করা হচ্ছে, টিকটকের এ অংশটুকু মাইক্রোসফট কিনে নেবে ১০ থেকে ৩০ বিলিয়ন ডলারে। অথচ টিকটকের হিসাবে এ অংশের বাজারমূল্য ৫০ বিলিয়ন বা ৫ হাজার কোটি মার্কিন ডলার। বিশ্লেষকরা বলছেন, দৃশ্যত টিকটকের সামনে আর কোনো বিকল্প নেই। হয়তো একে নিষিদ্ধ হতে হবে, নয়তো মাইক্রোসফটের কাছে বিক্রি হয়ে যেতে হবে। অথচ এ পরিস্থিতি এড়াতে অনেক আগে থেকেই টিকটক বিভিন্ন আগাম ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল। যেমন- যুক্তরাষ্ট্রের ইউজারদের জন্য তারা যেসব সার্ভার ব্যবহার কর, সেগুলো সব যুক্তরাষ্ট্রেই স্থাপিত। টিকটক বার বার বলেছে যে, তারা একটি বৈশ্বিক কোম্পানি এবং রাজনীতির সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। ইউজারদের ডেটা কখনও চীনা সরকারকে তারা সরবরাহ করেনি বা ভবিষ্যতেও করবে না। কিন্তু তাতে কোনো কাজ হয়নি। নিজের সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসেননি ডোনাল্ড ট্রাম্প।

টিকটক কোম্পানির সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক না থাকলেও, যুক্তরাষ্ট্রে রাজনীতির বলি-ই হতে যাচ্ছে কোম্পানিটি। চলতি বছরের ১৬ জুন টিকটকের একজন ইউজার ওকলাহোমা অঙ্গরাজ্যে ট্রাম্পের নির্বাচনী সভায় যোগ না দেওয়ার আহ্বানসম্বলিত একটি মেসেজ প্রচার করে। তার দেখাদেখি অনুরূপ মেসেজ টিকটকে প্রচারিত হয়। মেসেজগুলো ভাইরাল হয়। পরে দেখা যায় যে, ট্রাম্পের জনসভায় সভাস্থলের ধারণক্ষমতার ৬৬ শতাংশই খালি। ট্রাম্প এতে ক্ষুব্ধ হন। ঘটনার ঠিক এক মাস পরই তিনি প্রথম টিকটকের বিরুদ্ধে কথা বলা শুরু করেন। অনেকে মনে করেন, ওকলাহোমার জনসভায় কম লোক হওয়ার সঙ্গে ট্রাম্পের টিকটকবিরোধী মনোভাবের যোগসূত্র রয়েছে।

বিষয়টিকে এতোটা সরলভাবে নিতে নারাজ অনেকে। তারা সময় সময় ফেসবুকের বিরুদ্ধে টিকটকের চৌর্যবৃত্তির অভিযোগের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। ফেসবুক ২০১৮ সালে ছোট অ্যাপ ‘লাসো’ (Lasso) রিলিজ করে। কিন্তু সেটি ছিল ব্যর্থ প্রজেক্ট। পরে ফেসবুক রিলিজ করে ‘ইন্সটাগ্রাম রিলস্’। ফেসবুকের দুটি অ্যাপের সঙ্গে টিকটকের মিল খুঁজে পায় টিকটক কর্তৃপক্ষ। টিকটকের মার্কিন অংশের সিইও কেভিন মায়ার এই চৌর্যবৃত্তির বিষয়টি সম্প্রতি এক নিবন্ধে উল্লেখও করেছেন। কেউ কেউ টিকটকের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বর্তমান কঠিন অবস্থানের সঙ্গে তার আর ফেসবুকের জুকারবার্গের সুসম্পর্কের যোগসূত্রও খুঁজে পান। ঘটনা যা-ই হোক, এটা সত্য যে চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রে টিকটকের ইউজারের সংখ্যা টুইটার, ইন্সটাগ্রাম ও স্ন্যাপচেটকে ছাড়িয়ে যায়। তা ছাড়া, জনপ্রিয়তার বিচারে ফেসবুকের কাছাকাছিও পৌঁছে যায় অ্যাপটি।

হতে পারে জনপ্রিয়তাই কাল হয়েছে টিকটকের জন্য। শুধু টিকটক নয়, চীনের গোটা তথ্যপ্রযুক্তি জগৎই এখন মার্কিন প্রশাসনের শ্যেন দৃষ্টির মধ্যে পড়েছে বলে অনেকে মনে করেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও ‘পরিষ্কার ইন্টারনেট’ নামক যে প্রজেক্ট হাতে নিয়েছেন, তার লক্ষ্য যে মূলত চীন ও চীনের তথ্যপ্রযুক্তি জগৎ, তা বুঝতে কষ্ট হয় না। পাশাপাশি চীন ও চীনা কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের ‘অলআউট যুদ্ধে’ নামার আরেকটা কারণ আসন্ন নির্বাচন বলে অনেকে মনে করেন। মহামারির বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের ত্রুটিপূর্ণ কৌশল অবলম্বনের ফলে যুক্তরাষ্ট্র সবচেয়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইতোমধ্যে দেশটিতে ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে ৫০ লাখেরও বেশি মানুষের শরীরে। মারা গেছেন এক লাখ ৬২ হাজারের বেশি। নভেম্বরের মধ্যে দেশটিতে ভাইরাসের কারণে মৃতের সংখ্যা ৩ লাখ ছাড়াবে বলে কোনো কোনো মডেল বলছে। এ ব্যর্থতার দায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন। তিনি এর দায় অবলীলায় চাপিয়ে দিয়ে এসেছেন চীনের ওপর, তা সে যতোই হাস্যকর হোক না কেন। এখন হুয়াওয়েই, টিকটক, উইচ্যাটের মতো কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে তিনি ‘টাফ গাই’ ভাবমূর্তি তুলে ধরতে চাইছেন ভোটারদের সামনে। চীনের ওপর চাপিয়ে দেওয়া ‘বাণিজ্যযুদ্ধের’ সম্প্রসারিত অংশ এটি।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কৌশল নির্বাচনে কতোটা কাজে দেবে, সেটা সময় বলে দেবে। এই মহূর্তে টিকটকের মতো একটি জনপ্রিয় অ্যাপের অস্তিত্ব হুমকির মুখে। ট্রাম্প প্রশাসন বলতে গেলে বিনা বিচারে যুক্তরাষ্ট্রে টিকটকের মৃত্যদণ্ড ঘোষণা করেছেন। ‘বিনা বিচারে’ শুধু নয়, বিনা প্রমাণেও! হুয়াওয়েইর বিরুদ্ধে যেমন ট্রাম্প প্রশাসন আজ পর্যন্ত কোনো গ্রহণযোগ্য প্রমাণ দাঁড় করাতে পারেনি, তেমনি টিকটকের বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ তাদের হাতে নেই। টিকটক মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি— কথাটা খোদ যুক্তরাষ্ট্রের অনেক বিশেষজ্ঞ বিশ্বাস করেন না। তারা মনে করেন, টিকটক নিষিদ্ধের ঘোষণা বরং গণতন্ত্রের মূলনীতির বিরুদ্ধে গেছে। ওয়ার্ল্ডের (Wired) এডিটর ইন চিফ নিকোলাস থমসন সম্প্রতি এক নিবন্ধে বলেছেন: ‘প্লাটফর্মটির (টিকটকের) ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। এটি নিষিদ্ধ করা হবে গণতন্ত্রের মূলনীতিকে হত্যা করার শামিল। গণতন্ত্রের দুটি মৌলিক মূল্যবোধ—স্বাধীন মত ও স্বাধীন বাজার—একই সঙ্গে কোরবানি দেওয়ার ঘটনা সত্যিই বিরল।’

যুক্তরাষ্ট্রে টিকটকের চেয়েও অধিক অনিশ্চিত উইচ্যাটের ভাগ্য। টিকটক কেনা-বেচা নিয়ে মাইক্রোসফটের সঙ্গে আলোচনা চলছে। হয়তো শেষ পর্যন্ত মাইক্রোসফটের সংসারে গিয়ে টিকটক যুক্তরাষ্ট্রে বেঁচে থাকবে ভিন্ন পরিচয়ে। কিন্তু উইচ্যাট নিয়ে সে ধরনের কোনো আলোচনা চলছে না। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যদি নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকেন এবং আদালত (আশা করা যায় উইচ্যাটের মাতৃ-কোম্পানি টেনসেন্ট প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের বিরুদ্ধে মামলা করবে) যদি উইচ্যাটের পক্ষে রায় না দেয়, তবে আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে উইচ্যাট যুক্তরাষ্ট্রে নিষিদ্ধ হবে। ব্যাপারটা প্রায় ২ কোটি মার্কিনির জন্য হবে বেদনাদায়ক ও বিরম্বনামূলক। এই দুই কোটি মানুষ দীর্ঘকাল ধরে অ্যাপটি ব্যবহার করে আসছে। এখন যদি তারা হঠাৎ আর অ্যাপটি ব্যবহার করতে না পারেন, তবে মুশকিলে পড়বেন। বিশেষ করে এক্ষেত্রে বেশি ঝামেলায় পড়বেন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী সেসব চীনা, যাদের পরিবারের এক বা একাধিক সদস্য চীনে বাস করেন। তাদের জন্য পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম সহজ মাধ্যম উইচ্যাট। অ্যাপটি নিষিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় তারা চিন্তিত। অনেকে বিকল্প চিন্তা করতেও শুরু করেছেন। একজন চীনা লিখেছেন, তিনি চীনে তার পিতামাতার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ই-মেইল ব্যবহার করবেন। ই-মেইল উইচ্যাটের মতো স্মার্টফোন অ্যাপের বিকল্প নয়!

শুধু যোগাযোগের জন্যই উইচ্যাট অ্যাপটি ব্যবহার করা হয়- তা নয়। বিশ্বব্যাপী প্রায় ১০০ কোটি মানুষ অ্যাপটি ব্যবহার করে। আমিও অ্যাপটি ব্যবহার করি। সত্যি কথা বলতে কি, চীনে আমার মতো অসংখ্য প্রবাসীর জীবনেও এ অ্যাপটি অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। বার্তা আদান-প্রদান, ভিডিও ও অডিও কল, কেনাকাটা, অর্থ আদান-প্রদান, বাস-ট্রেন-প্লেনের টিকিট কাটা- বহু কাজ এ অ্যাপটি দিয়ে সহজে করা যায়। এ মুহূর্তে চীনে যদি এ অ্যাপটি অচল হয়ে যায়, তাহলে আমার জীবনও অচল হয়ে যাবে— অন্তত যতদিন এর বিকল্প না পাওয়া যাবে, ততদিন! আমার ভাগ্য ভালো যে, চীনে এই অ্যাপ নিষিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা নেই। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের ২ কোটি ব্যবহারকারী আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের পর অ্যাপটি হয়তো ব্যবহার করতে পারবেন না। এতে শুধু তারা মুশকিলে পড়বেন- তা নয়। এ নিষেধাজ্ঞার নেতিবাচক ফল আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও পড়বে বলে অনেকের আশঙ্কা। উইচ্যাট নিষিদ্ধ হলে এশিয়ায়, বিশেষ করে চীনে গণহারে মার্কিন পণ্য বর্জনের ঘটনা ঘটতে পারে। বিষয়টি নিয়ে কোনো কোনো মার্কিন কোম্পানি ইতোমধ্যে উদ্বেগও প্রকাশ করেছে।

লেখক: বার্তা সম্পাদক, চায়না মিডিয়া গ্রুপ
([email protected])

এএ/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]