ফেসবুক থেকে এক বছরে ৪৮৮৮ কনটেন্ট সরাতে পেরেছে বিটিআরসি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:৪৪ পিএম, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২১

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক থেকে এক বছরে মাত্র চার হাজার ৮৮৮টি লিংক সরাতে পেরেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।

পর্নোগ্রাফি, সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী, সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক কিংবা ধর্মীয় বিষয়ে উসকানিমূলক ও উগ্রবাদী কনটেন্টের জন্য ১৮ হাজার ৮৩৬টি রিপোর্ট পেলেও সবগুলো সরানো যায়নি। ফেসবুক থেকে লিংক সরানো হয়েছে মাত্র ২৫ দশমিক ৯৫ শতাংশ কনটেন্টের।

সোমবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিটিআরসির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। এসময় ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বক্তব্য দেন।

এ বিষয়ে বিটিআরসির চেয়ারম্যান শ্যামসুন্দর সিকদার বলেন, গত এক বছরে ইউটিউব নিয়ে ৪৩১টি রিপোর্ট এসেছে। এর মধ্যে ৬২টি রিমুভ করা সম্ভব হয়েছে। তবে ওয়েবসাইট বা লিংক বন্ধ করার ক্ষেত্রে শতভাগ সফলতা দেখিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এক হাজার ৬০টি ওয়েবসাইটের ব্যাপারে অভিযোগ পাওয়ার পর সবগুলোই বন্ধ করেছে বিটিআরসি।

এ ব্যাপারে আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিবরণ দিয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, বর্তমানে সবচেয়ে বড় অপরাধের ক্ষেত্র হচ্ছে ইন্টারনেট। ইন্টারনেট এমন একটি ক্ষেত্র যেখানে আসলে কারও পক্ষেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না। কোনো প্রযুক্তি দিয়ে ফেসবুক বন্ধ করে দেওয়ার পরেও অন্য আরেকটি প্রযুক্তি দিয়ে ফেসবুক ইউজ করা যায়। এই অবস্থার মধ্যে অসহায়ত্ব প্রকাশ করা ছাড়া আমাদের বিকল্প কোনো রাস্তা থাকে না। আপনারা ভিপিএনের কথা শুনেছেন ও এই ভিপিএন অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটা জিনিস। এটা অপরাধ করার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।

এ বিষয়ে বিটিআরসির চেয়ারম্যান শ্যামসুন্দর সিকদার আরও বলেন, ফেসবুক, গুগল, ইউটিউব তাদের নিজস্ব মান অনুযায়ী চলে। আমরা চাইলেই এ দেশ থেকে এগুলো বন্ধ করতে পারি না। আমরা শুধু অনুরোধ করতে পারি। কিন্তু তাদের স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী এগুলো নাকি বন্ধ করার নীতিমালায় পড়ে না। তাই তারা বন্ধ করে না।

এর আগে গতকাল (৫ সেপ্টেম্বর) জেকেজি হেলথ কেয়ারের চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা আরিফ চৌধুরী, চিত্রনায়িকা পরীমনিসহ বিভিন্ন ব্যক্তির ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিও ও প্রতিবেদন ভাইরাল হওয়া ঠেকাতে বিটিআরসির ব্যর্থতায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার ভার্চুয়াল বেঞ্চ এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার ক্ষুণ্ণ করে এমন ছবি, ভিডিও বা প্রতিবেদন বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম থেকে সরানোর নির্দেশনা চেয়ে করা রিটের শুনানিতে আদালত বলেন, বিটিআরসি কী করে? তাদের কি প্রতিনিয়ত নির্দেশনা দিয়ে এসব বন্ধ করতে হবে? মনে হয় এতে বিটিআরসি আনন্দ অনুভব করে? দেখতে ভালো লাগে। আমরা সন্তান-সন্ততি নিয়ে থাকি না? আমাদের পরিবার আছে না? সব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায় কেন?

এইচএস/এআরএ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]