শাওমিকে বাংলাদেশে পণ্য উৎপাদনের কেন্দ্রবিন্দু বানানোর আহ্বান

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:৫৪ পিএম, ২১ অক্টোবর ২০২১
প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্পখাত ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান

বহুজাতিক ইলেকট্রনিক্স কোম্পানি শাওমিকে বাংলাদেশে শুধু মোবাইল সেট নয় অন্য পণ্য উৎপাদনের কেন্দ্রবিন্দু বানানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্পখাত ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান।

তিনি বলেন, যেভাবে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, যেভাবে আমাদের বাংলাদেশের ডিজিটাল মার্কেট বাড়ছে, আমাদের ক্রয়ক্ষমতা যেভাবে বাড়ছে- শাওমিকে বলবো এখানে ম্যানুফ্যাকচারিং হাব বানানোর জন্য। যেন তারা এখান থেকেই এক্সপোর্ট শুরু করে।

বৃহস্পতিবার (২১ অক্টোবর) রাজধানীর বানানীর শেরাটন হোটেলে স্মার্টফোন প্রস্ততকারক প্রতিষ্ঠান শাওমির বাংলাদেশে স্থানীয়ভাবে স্মার্টফোন উৎপাদনের ঘোষণা সংক্রান্ত এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

 

অনুষ্ঠানে সালমান এফ রহমান বলেন, এখন শাওমির এই কারখানাটিতে ৯৯ শতাংশ বাংলাদেশি কাজ করছে। কিন্তু আপনারা জানেন বাংলাদেশ খুব দক্ষ। আপনারা শতভাগ বাংলাদেশি নিয়ে কাজ করতে পারবেন।

তিনি বলেন, তরুণ নেতৃত্ব ও শাওমির মতো তরুণ কোম্পানির ওপর আমাদের যথেষ্ট বিশ্বাস রয়েছে। এমন নতুন প্রজন্মের সব কোম্পানি ও উদ্যোক্তাই হচ্ছে বাংলাদেশের একেকটা সফলতা। ডিজিটাল বাংলাদেশ উদ্যোগের অংশ হিসেবে বাংলাদেশে শাওমির প্রথম উৎপাদন ইউনিট স্থাপনে আমরা অংশীদার হতে পেরে অনেক আনন্দিত। আমরা বিশ্বাস করি, এই অংশীদারত্বের মাধ্যমে দেশের তরুণদের জন্য আরও সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং বৈশ্বিকমানের ইলেকট্রনিক্স ম্যানুফ্যাকচারিং ইকোসিস্টেম প্রতিষ্ঠা হবে। বাংলাদেশে এমন সূর্যোদয়ের জন্য শাওমিকে স্বাগতম।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এক ভিডিও বার্তায় বলেন , আজকে আমার ও বাংলাদেশের জন্য একটা আনন্দের দিন। কারণ, শাওমির মতো একটা প্রখ্যাত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে কারখানা করতে যাচ্ছে। শাওমিকে ধন্যবাদ জানাই, যে তারা বাংলাদেশকে স্মার্টফোন উৎপাদনের জন্য বেছে নিয়েছে। আমদানিকারক দেশ থেকে স্মার্টফোন উৎপাদক দেশ হওয়ার জন্য আমরা বহুদিন থেকেই যুদ্ধ করছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে ডিজিটাল বাংলাদেশ ঘোষণা করেন, সেটার বাস্তবায়ন এখন দেখা যাচ্ছে। করোনার সময় ডিজিটাল ডিভাইসের গুরুত্ব আমরা বুঝেছি। শাওমি অনেক দূর এগিয়ে যাবে, এমনটাই আমাদের বিশ্বাস।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, এটি একটি মহৎ উদ্যোগ। স্থানীয়ভাবে স্মার্টফোন উৎপাদন কারখানা চালুর জন্য শাওমিকে অভিনন্দন। এটি ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে সহায়তা করবে। এর মাধ্যমে দেশ ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ উদ্যোগে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলো। আমার বিশ্বাস, এখন থেকে দেশের মানুষ একটি প্রতিযোগিতামূলক দামে বিশ্বমানের শাওমির সর্বশেষ সব উদ্ভাবনী পণ্য উপভোগ করতে পারবেন।

শাওমি বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার জিয়াউদ্দিন চৌধুরী বলেন, স্থানীয়ভাবে স্মার্টফোন উৎপাদনের মধ্য দিয়ে শাওমি আরও এগিয়ে গেলো। সে সঙ্গে বাংলাদেশও এই খাতে সামনের দিনগুলোতে আরও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ রাখতে পারবে। বাংলাদেশকে আকর্ষণীয় ম্যানুফ্যাকচারিং হাব হিসেবে গড়ে তোলার রূপকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যে দূরদর্শী ভিশন, সেখান থেকেই আমরা স্থানীয়ভাবে স্মার্টফোন উৎপাদনে আগ্রহী হয়েছি। স্থানীয়ভাবে স্মার্টফোন উৎপাদনের মধ্য দিয়ে দেশের বাজারে দীর্ঘস্থায়ী কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, সেই সঙ্গে দেশে আরও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও আমরা অবদান রাখতে পারছি। বাংলাদেশের মানুষের জীবনমানকে উন্নত করতে ভূমিকা রাখতে পেরে আমরা সত্যিই উচ্ছ্বসিত।

দেশে বছরে ৩০ লাখ স্মার্টফোন তৈরি করবে শাওমি
শাওমি বাংলাদেশে স্থাপিত কারখানায় প্রতিবছর ৩০ লাখের কাছাকাছি স্মার্টফোন তৈরি করবে। ৫৫ হাজার বর্গফুট আয়তনের এ কারখানায় প্রাথমিক অবস্থায় প্রায় এক হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ডিবিজি টেকনোলজি বিডি লিমিটেডের সঙ্গে বাংলাদেশে স্মার্টফোন তৈরি করবে শাওমি। ডিবিজি একটি গ্লোবাল ইএমএস কোম্পানি, তাদের ম্যানুফ্যাকচারিং বিজনেস রয়েছে বিশ্বব্যাপী। বিভিন্ন দেশের স্বনামধন্য কিছু ব্র্যান্ড ও কনজ্যুমার ইলেকট্রনিক্স পণ্য তাদের কারখানায় তৈরি হয়। ডিবিজি হংকং স্টক এক্সচেঞ্জে পাবলিক লিস্টেড কোম্পানি।

শাওমির অনন্য ও উদ্ভাবনী ধারণা, ডিরেক্ট-টু-কাস্টমার ব্যবসায়িক মডেল স্মার্টফোন শিল্পে যুগান্তকারী ভূমিকা রেখেছে। স্মার্টফোন উৎপাদনের মাধ্যমে বাংলাদেশের বাজারে আরও দীর্ঘমেয়াদে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে শাওমি। এমন বিনিয়োগ ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ কার্যক্রমে আরও অনেক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানকে সংযুক্ত করবে এবং বাংলাদেশকে বিশ্বের কাছে একটি ম্যানুফ্যাকচারিং হাব হিসেবে পরিচিত করাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, কৌশলগত কারণেই শাওমি গাজীপুরকে বেছে নিয়েছে কারখানা স্থাপনের জন্য। সেখানে দক্ষ শ্রমশক্তি, শক্তিশালী সাপ্লাই চেইন রয়েছে- ফলে সবকিছুর সমন্বয়েই একটি প্রযুক্তি কোম্পানি হিসেবে শাওমি জায়গাটিকে বেছে নিয়েছে।

শাওমি বাংলাদেশে কারখানাটিতে রেডমি সাব-ব্র্যান্ডের স্মার্টফোন দিয়ে শুরু করছে ফোন উৎপাদন, যেটি আগামী নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর ধীরে ধীরে শাওমির অন্য স্মার্টফোনের পাশাপাশি পোকোর ফোনও তৈরি হবে এই কারখানায়।

এইচএস/এমআরআর/কেএসআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]