ডিজিটাইজেশন দেশে সাংবাদিকতায় অভাবনীয় পরিবর্তন এনেছে: মন্ত্রী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:৪৪ পিএম, ২৫ নভেম্বর ২০২১

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, ডিজিটাইজেশনের প্রভাবে বিশ্বের প্রচলিত প্রচার মাধ্যম হিসেবে পত্রিকা, রেডিও এবং টেলিভিশন সাংবাদিকতায় অভাবনীয় পরিবর্তন সূচিত হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, ইউটিউব ও অন্যান্য যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত বা প্রচারিত কনটেন্টগুলো প্রকাশ করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি ডিজিটাল যুগের দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আগামীদিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিজেকে প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান।

বৃহস্পতিবার (২৫ নভেম্বর) ঢাকায় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগ আয়োজিত ‘মিডিয়া কনভারজেন্স’ শীর্ষক এক সেমিনারে অনলাইনে যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ আহ্বান জানান মন্ত্রী।

করোনাকালে সাংবাদিকতা আগের ধারায় ছিল না এবং করোনা-পরবর্তী সময়েও তা আর আগের জায়গায় ফিরে যাবে না বলে উল্লেখ করেন মোস্তাফা জব্বার। তিনি বলেন, ডিজিটাইজেশন পুরো সভ্যতা থেকে কাগজের অ্যানালগ অস্তিত্ব বিদায় দেবে। স্বাভাবিক জীবন-যাপনের জন্য ডিজিটাল যন্ত্র ব্যবহার জানতেই হবে। এ জন্য ডিজিটাল বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন নেই। বেঁচে থাকার জন্য ডিজিটার যন্ত্র ব্যবহার জানতেই হবে। কে কী বিষয় নিয়ে লেখাপড়া করছে সেটা বিবেচ্য নয়। পাঠ্যপুস্তকের অর্জিত জ্ঞান লাভের পাশাপাশি প্রকাশ দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন কম্পিউটার প্রযুক্তি বিকাশের অগ্রদূত মোস্তাফা জব্বার।

ডিজিটাল যুগে বসবাস করার জন্য বাংলাদেশ সক্ষমতা অর্জন করেছে উল্লেখ করে মোস্তাফা জব্বার বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিশনারি নেতৃত্বে এবং তার তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের পরামর্শে ডিজিটাল বাংলাদেশ আজ বাস্তবায়নের দ্বারপ্রান্তে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ অতীতের তিনটি শিল্পবিপ্লব মিস করায় শত শত বছরের পশ্চাৎপদতা অতিক্রম করে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের নেতৃত্বের জায়গায় উপনীত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

সেশন চেয়ার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা, মিডিয়া এবং যোগাযোগ বিভাগের উপদেষ্টা ও দৈনিক আজকের পত্রিকার সম্পাদক অধ্যাপক ড. গোলাম রহমান, ইউনিভার্সিটি সায়েন্স মালয়েশিয়ার স্কুল অব কমিউনিকেশনের সহযোগী অধ্যাপক জুলিয়ানা আব্দুল ওয়াহাব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক মফিজুর রহমান, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কাজী এম আনিছুল ইসলাম এবং গ্রিন ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা ও মিডিয়া কমিউনিকেশন বিভাগের চেয়ারপারসন ড. শেখ মোহাম্মদ শফিউল ইসলাম। অনুষ্ঠানে ‘স্ট্রিমিং টিভি অ্যান্ড নিউ ভিউয়িং কালচার’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জুলিয়ানা আব্দুল ওয়াহাব।

অধ্যাপক ড. গোলাম রহমান যতদিন বাংলা হরফ, বাংলা ভাষা কম্পিউটারে থাকবে ততদিন মোস্তাফা জব্বারের নাম অমর হয়ে থাকবে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বাংলা প্রিন্টিংয়ের বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সূচনা আমাদের বাংলা ভাষার বিকাশের জন্য একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক।

এইচএস/এমএএইচ/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]