পাতায়ার পথে, শুরুতেই দলছুট : ১২ আবার ১৩ হয় কী করে!

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৬:৫৯ পিএম, ২৩ নভেম্বর ২০১৯

হোয়্যার ইজ ইউর টিকিট? (তোমার টিকিট কোথায়?) থাই বাস কন্ডাক্টর পাতায়াগামী বাসে অতিরিক্ত একজন যাত্রী দেখে বিস্মিত চোখে ভাঙা ইংরেজিতে প্রশ্ন ছুড়ে দেয়। কেন তার বিস্ময়ভরা প্রশ্ন সে গল্প একটু পরে বলি।

আচ্ছা, একসঙ্গে একাধিক লোকের বিদেশ ভ্রমণ কি ঝামেলার নাকি ঝামেলাবিহীন? আর ভ্রমণযাত্রীদের সবাই যদি হয় রিপোর্টার তাও আবার ক্রাইম রিপোর্টার তবে কী ধরনের ভ্রমণ হবে? রাজধানীতে কর্মরত একজন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ায় কর্মরত একডজন সাংবাদিক ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্র্যাব) এর আয়োজনে আজ (শনিবার) চারদিনের ভ্রমণে সকালে ইউএস বাংলার আয়োজনে চলেছি থাইল্যান্ডে দুদিন পাতায়া ও দুদিন রাজধানী ব্যাংককে থাকার পরিকল্পনা। দুপুর আনুমানিক পৌনে ১টায় থাইল্যান্ডের সুবর্ণভূমি বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ। ঘণ্টা তিনেকও পার হয়নি, সুবর্ণভূমি বিমানবন্দরে নেমে ইমিগ্রেশন শেষ করার পর পরই নামার পর পরই বাঙালি চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ হতে শুরু করে। প্রায় সবাই পরিবার পরিজনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে মোবাইল সিম কেনায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এদিকে ভ্রমণের উদ্যোক্তা শাহিন আলম লাবলু ওরফে শাহিন হোটেলসহ সব আগাম আয়োজন করতে একদিন আগেই পাতায়াতে হাজির হয়। এয়ারপোর্টে নামার পর পরই একজনের মোবাইলে ফোন করে সিম কিনে সময় নষ্ট না করে বাসের টিকিট কাটতে অনুরোধ জানাতে থাকে।

সে জানায়, টিকিট কাটতে দেরি হলে বাসের দেরি হবে। কিন্তু কে শোনে কার কথা। ৩০০ বাথ (থাই মুদ্রা বাংলাদেশের ৩ টাকায় ১ বাথ) দিয়ে এক সপ্তাহের আনলিমিটেড মোবাইল সিম কিনে তবেই দিল খুশ। বিকেল সাড়ে ৩টায় বাস। একাত্তর টিভির পারভেজ ১২ জনের টিকিট গুনে গুনে কেটে সবাইকে নির্ধারিত সময়ে বাস স্টপেজের সামনে থাকার কথা বলে দেন। বাস ছাড়তে তখনও অনেকটা সময় বাকি। বিমানবন্দরের ভেতরে যে যার মতো করে ঘুরে দেখতে থাকে।

বিপত্তি বাঁধে বাসে ওঠার পর। একে একে সবাই বাসে উঠে সিটে বসে। আমাকে তখনও বসতে না দেখে জাগো নিউজের সহকর্মী আদনান রহমান আমাকে তার সিট ছেড়ে দিয়ে বলে উঠে, ভাই আমি অন্য সিটে বসছি। বিপত্তি বাঁধে তখনই। এবার আবার শুরুতে ফিরে যাই। বাস কন্ডাক্টরের প্রশ্নে ক্র্যাব সদস্যদের টনক নড়ে। গুনে দেখা যায় ১২ জন নয় আমরা গ্রুপে ১৩ জন। কারণ নিউজ২৪ এর রাশেদ নিজাম তো ইমিগ্রেশন থেকে বেরিয়েই ১২ জনের একটা গ্রুপ ছবি তুলে থাই ভ্রমণ শুরু হোক বলেছিল স্পষ্ট মনে আছে। ১২ কীভাবে ১৩ হলো তা খুঁজে বের করতে গিয়ে জানা গেল থাই ট্যুর নামে ফেসবুকে যে গ্রুপটি খোলা হয়েছে সেখানে ১২ জনই আছে। গত কয়েকদিন ভিসা ও টিকিটসহ যত আলাপ সবই ১২ জনকে নিয়ে। কিন্তু যমুনা টিভির তুহিন আবদুল্লাহ গ্রুপের বাইরে গতকালই বিমান টিকিট করে গ্রুপে অ্যাড হয়। কিন্তু সবার মগজে তখনও সেই ১২ জন রয়ে গিয়েছিল।

আমরা সবাই একসাথে পাতায়ার বাসে যেতে চাই। প্রশ্নকর্তা থাই বাস কন্ডাকটরকে প্রস্তাব দেয়া হলো আমরা আরও একজনের টিকিট বাবদ ১৩০ বাথ পরিশোধ করবো, সিটও চাই না, যে ১২ জন রয়েছে তারাই দাঁড়িয়ে বসে ম্যানেজ করে নেব। কিন্তু তৎনগদ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন বাস কন্ডাকটর। তার সাফ কথা, যত আসন ততজনই বসন (বসতে পারা)। এবার এ-ওর মুখ চাওয়াচাওয়ি শুরু করে। ভুল তো হয়েই গেছে এখন একা করে পরের বাসে কে যাবে?

সহকর্মী আদনান, সম্ভবত মোস্ট জুনিয়র উঠে বলে আমি পরের বাসে আসছি, আপনারা যান। ট্যুরে অন্যতম সিনিয়র সদস্য হিসেবে মনে হলো সেক্রিফাইসটা আমারই করা উচিত। সবাইকে আপাতত বিদায় জানিয়ে ফিরে এলাম টিকিটের জন্য বিমানবন্দরের বাস কাউন্টারে। ইতোমধ্যে ১২ জনের টিকিট কেটে ১৩ জনের যাত্রাচেষ্টার কথা কাউন্টারেও পৌঁছে গেছে।

টিকিট বিক্রেতা থাই মহিলা টিকিট হাতে দিয়ে সামনেই দাঁড়িয়ে থাকার এক প্রকার কড়া নির্দেশই দিলেন। তার ভাবখানা এমন আমিই সেই ব্যক্তি যে কি-না বিনা টিকিটে বাসে চড়ে বসেছিলাম। তাকে কি করে বলি- ‘আফাগো আমার কোনো দোষ নাই, সব দোষ আনলাকি থার্টিন...গুনতে ভুল করায়!’

যাই হোক গ্রুপের বাস ছেড়ে যাওয়ার ২০ মিনিট পর নির্ধারিত ৩টা ৫০ মিনিটে বাসটি পাতায়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। বাসের এক মহিলা কন্ডাকটর ঠিক ৬টায় পাতায়ায় পৌঁছাবে ও লাস্ট স্টপেজে কোথায় বাসটি থামবে তা জানালেন। যদিও তা বুঝতে পারিনি!

ইউরোপিয়ান এক টেকো মাথার ভদ্রলোক আমার পাশে বসে নাক টেনে ঘুমাচ্ছে। আর আমি একা চলেছি পাতায়ার পথে। জানি না আর কী দুর্ভোগ বা মিষ্টি ভোগান্তি ভ্রমণকালীন চারদিনে অপেক্ষা করছে।

চলবে...

এমইউ/এসএইচএস/এমএস

বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস নিয়ে লিখতে পারেন আপনিও - [email protected]