বিস্ময়ে চোখ ছানাবড়া : আগুনে ঝলসানো হচ্ছে আস্ত কুমির!

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৬:২৯ পিএম, ২৫ নভেম্বর ২০১৯

আগুনে পোড়া গ্রিলের শিকে তাকিয়ে আছি। আস্ত একটা কুমিরকে আগুনে ঝলসানো হচ্ছে। বিস্ময়ে চোখ ছানাবড়া। দেশে গ্রিলে মুরগি ঝলসাতে দেখেছি। কিন্তু এভাবে পাতায়াতে গোটা কুমির গ্রিলে ঝুলতে দেখবো তা কল্পনাও করিনি! শুধু আমি না আমার মতো আরও অনেকেই দেখলাম মুরগি ভাজা খুব এনজয় করছে। কেউ কেউ দোকানির অনুমতি নিয়ে ভিডিও করে নিচ্ছেন। কৌতূহলবশত দোকানির কাছে আস্ত গ্রিল কুমিরের দাম জানতে চাইলে তিনি জানান, গোটা কুমির ফ্রাইয়ের দাম ২ হাজার ৫০০ বাথ। বাংলাদেশি টাকায় সাড়ে ৭ হাজার টাকা। চাইলে আমি দেড়শ টাকায় একটা অংশ নিয়ে ট্রাই করতে পারি বলে সহাস্যে জানালেন দোকানি।

পাশের টার্কিশ আইসক্রিমের দোকান থেকে সজোরে কাচের গ্লাস ভাঙার শব্দ শোনা যাচ্ছে। এটি বিশেষ ধরনের ঘণ্টি, যা বাজিয়ে ক্রেতাদের মনোযোগ আকর্ষণ করেন দোকানি। এ দোকানে বাথ দিলেই সাথে সাথে আইসক্রিম দেন না। জাদুকরি কায়দায় কখনও কখনও আইসক্রিমের বদলে কোনের খালি বিস্কুট, কখনওবা টিস্যু ধরিয়ে দেন। আবার কখনও কেজি দশেক ওজনের আইসক্রিম কিনে দেয়ার ভঙ্গি করেন। পর্যটকরা যেন অনেক দিন স্মৃতি ধরে রাখতে পারেন সেজন্য পাতায়াজুড়ে এ আয়োজন।

একটু এগিয়ে যেতেই ফুট মাসাজের দোকান। পাতায়াতে একটু পরপরই মাসাজের দোকান চোখে পড়ে। দোকানের সামনে মেয়েরা দাঁড়িয়ে থেকে লম্বা সুরে মাসাজ বলে পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

অদূরে একটি ছোট্ট শিশু ও তার মা ফিশ ফুট মাসাজ করছিল। মাসাজের দোকানে একুরিয়ামের মতো কাচের বাক্সে ছোট ছোট মাছ ছেড়ে রাখা হয়েছে। পর্যটকরা এ পানিতে হাঁটু পর্যন্ত পা ডুবিয়ে রাখেন আর মাছগুলো দল বেঁধে এসে পায়ের বিভিন্ন স্থানে ঠোকর মারে। ছোট্ট মেয়েটি ভয়ে বারবার পানি থেকে পা তুলে নিচ্ছে। এ দৃশ্য দেখে তার মা হেসে কুটিকুটি। ডোন্ট অরি ডোন্ট ওরি বলে মেয়েকে নির্ভয়ে পানিতে পা ডুবাতে বলছিলেন। দোকানির সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়, দৈনিক কমবেশি ২৫ হাজার বাথ রোজগার হয়।

আরও একটু এগিয়ে যেতেই আনুমানিক ৬০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধাকে হাই ভলিউমের মিউজিকের সঙ্গে উদ্দাম নৃত্য করতে দেখা যায়। আমাদের দেশে এ বয়সী বৃদ্ধা নাচা তো দূরের কথা ঝেড়ে কাঁশতেও ভয় পান!

পাতায়াতে ড্যান্স ও ডিসকো বারের অভাব নেই। রাস্তায় তরুণ-তরুণী নির্বিশেষে পর্যটকদের একটি বারের জন্য সেখানে ঢুঁ মারার জন্য অনুরোধ জানাতে থাকেন। যে কেউ ভেতরে প্রবেশ করে ফ্রি ড্যান্স দেখতে পারেন।

ক্লাবগুলোতে কেন ফ্রি প্রবেশ করার জন্য তরুণ-তরুণীরা বার বার অনুরোধ জানান জানতে চাইলে কেরালার এক যুবক জানান, তাদের প্রত্যেককে চাকরির অংশ হিসেবে কমপক্ষে ৬০ জন পর্যটককে ক্লাবে প্রবেশ করাতে হয়। ৬০ জনের ওপর কেউ পাঠাতে পারলে বোনাস পান।

ভেতরে প্রবেশ করে কেউ বিয়ার, মদ ও সিসা অর্ডার করলে সেটাই বোনাস তাদের জন্য। ক্লাবভেদে অবশ্য ভিন্নতাও রয়েছে। কোথাও কোথাও প্রবেশ ফিও রয়েছে।

পাতায়ার প্রতিটি রাত জমজমাট ও আনন্দমুখর থাকলেও জীবিকার তাগিদে অনেককেই প্রতি রাতে জীবনযুদ্ধে নামতে দেখা গেছে। বিশেষ করে নাইটক্লাব ও ডিসকো বারের সামনে ফুল বিক্রেতারা অসহায় দৃষ্টিতে পর্যটকদের ফুল কিনতে অনুরোধ জানান।

এমইউ/এসএইচএস/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]