‘প্লিজ ছবি তুলবেন না, আমার স্বামী ছবি তোলা পছন্দ করেন না’

মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল
মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৩:৩৩ পিএম, ০১ ডিসেম্বর ২০১৯

‘প্লিজ ছবি তুলবেন না, আমার স্বামী ছবি তোলা পছন্দ করেন না।’ সানগ্লাস পরিহিত সুদর্শনা নারী ড্রাইভার স্পষ্ট ইংরেজিতে ছবি তুলতে নিষেধ করলেন।

ব্যাংককের হোটেল থেকে সুবর্ণভূমি বিমানবন্দরে কিছুক্ষণ আগেই গ্রাবের (উবারের মতো) ভাড়া গাড়িতে রওনা হয়েছি। শেষে সেভেন ইলেভেন সুপার স্টোরে ঢুঁ মারায় শেষ মুহু্র্তে তড়িঘড়ি করে সিটে এসে বসে পড়ায় চালকের দিকে দৃষ্টি পড়েনি। তাছাড়া ভারী লাগেজ পেছনে অনায়াসে তুলে রাখতে দেখে চালক পুরুষ বলেই ধারণা করেছিলাম।

thai

সঙ্গে থাকা একজন বললেন, ‘আপনি খুব সুন্দর, আপনি কি বিবাহিত না কি অবিবাহিত? আমরা স্মৃতি হিসেবে ছবি তুলে রাখতে চাই।’ ভদ্রমহিলা ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘মাত্র দুই বছর আগে বিয়ে হয়েছে তাদের। তার স্বামী ছবি তোলা পছন্দ না করায় তিনি এ কাজটি পারতপক্ষে করেন না।‘

thai

নারী ড্রাইভারের কথা শুনে এবার আড়চোখে তাকাতে বাধ্য হলাম। কারণ চারদিনের সংক্ষিপ্ত সফরে ব্যাংককে এসে মনে হয়েছে ‘ফ্রি সেক্স’ দেশ হিসেবে নারীরা পোশাক-আশাক ও কথাবার্তায় একটু বেশিমাত্রায় খোলামেলা। কিন্তু এ গাড়ির ড্রাইভার তার ব্যতিক্রম। সাদা শার্ট, কালো প্যান্ট ও চোখে চশমা পরিহিত সম্ভবত থাই (বার্মিজ) ড্রাইভারের সঙ্গে সামনের সিটে বসা আমাদের একজন খাতির জমানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হলেন। ড্রাইভারের দৃষ্টি সামনের রাস্তায়। কথাও কম বলেন। শুধু একবার জানান, সকালের এ সময়টাতে সিটিতে যানজট থাকে। নির্দিষ্ট ভাড়ার বাইরে ফ্লাইওভারে গেলে (অতিরিক্ত ৭৫ বাথ পরিশোধ করতে হবে) যানজটবিহীনভাবে বিমানবন্দরে পৌঁছানো যাবে। আমরা সম্মতি দিলে গাড়ি ফ্লাইওভার দিয়ে ছুটে চলে।

ভাড়ায় যে গাড়িটিতে আমরা ফিরছি, সেটির ভেতরের পরিবেশ দেখে টাশকি খাওয়ার মতো অবস্থা! শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত গাড়ি, গাড়িতে বেশ বড় সাইজের টিভি স্ক্রিনে মিস্টার বিন প্রোগ্রাম চলছে। ড্রাইভারের পেছনেই ফ্রিজ, ছোট টেবিলে চকলেট, বিস্কুট, বাদামসহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী। মোবাইল চার্জ দেয়ার সুইচ বোর্ড। এরকম গাড়িতে চড়ার মজাই আলাদা বলে মন্তব্য করেন একজন।

thai

ফ্লাইওভার দিয়ে আসায় আমরা দ্রুত বিমানবন্দরে পৌঁছে গেলাম। ভদ্রমহিলা গাড়ি থামিয়ে দ্রুত লাগেজ নামিয়ে রাখলেন। ভাড়ার টাকার সঙ্গে অতিরিক্ত ফ্লাইওভারের টাকা যোগ করে টাকা বুঝে নিলেন। চলে যাওয়ার আগে গাড়িতে কেউ কিছু ফেলে গেছেন কি না তা দেখে নিতে বললেন। বিদায় নেয়ার সময় ছবি তুলতে নিষেধ করার জন্য ‘সরি’ বললেন। চারদিনের সফরে ব্যতিক্রমধর্মী নারী ড্রাইভারের দেখা পাওয়া ছিল স্মৃতিময়।

বিমানবন্দরে নেমে বোর্ডিং কার্ড নেয়ার সময়ও সবার মুখে ড্রাইভার সম্পর্কে আলোচনা অব্যাহত থাকল। ইমিগ্রেশনে দীর্ঘলাইন। সব শেষ করে চেপে বসেছি ইউএস-বাংলার ছোট এয়ারক্রাফটে। বিমান ছাড়ার কিছুক্ষণ পর যে খাবার দেয়া হলো তাতে দেশি স্বাদের গন্ধ পেলাম। খাওয়ার পর একটু চোখ বন্ধ করতেই চারদিনে পাতায়া ও ব্যাংককের অনেক স্মৃতি মনে পড়ল। মনে পড়ল নারী ড্রাইভারের সেই কথা, ‘প্লিজ ছবি তুলবেন না, আমার স্বামী ছবি তোলা পছন্দ করেন না।’

এমইউ/এসআর/জেআইএম

বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস নিয়ে লিখতে পারেন আপনিও - jagofeature@gmail.com