বিশ্বের রহস্যময় ৫ নিষিদ্ধ স্থান

ভ্রমণ ডেস্ক
ভ্রমণ ডেস্ক ভ্রমণ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০১:৩২ পিএম, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১

দৃষ্টিনন্দন স্থানের সৌন্দর্য উপভোগ করতে সবাই চায়! এ কারণেই পর্যটকরা সবসময় নতুন নতুন গন্তব্যে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকেন। তবে রহস্যময় কিংবা ভয়ঙ্কর স্থানে যাওয়ার জন্যও কিন্তু অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীরা মুখিয়ে থাকেন।

জানেন কি? বিশ্বের বেশ কিছু নিষিদ্ধ স্থান রয়েছে, যেখানে পর্যটকদের যাওয়ার অনুমতি নেই। অনেকেই সেসব স্থানকে ভৌতিক বা রহস্যময় হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তবে কী আছে সেসব স্থানে? জেনে নিন তবে-

নর্থ ব্রাদার আইল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র

প্রতি বছর নিউইয়র্কে লাখ লাখ পর্যটকদের আনাগোনা ঘটে। সেখানকার প্রতিটি দর্শনীয় স্থানই পর্যটকদের আকৃষ্ট করে। তবে সেখানকার নর্থ ব্রাদার আইল্যান্ডে সবারই প্রবেশ নিষিদ্ধ।

ছোট্ট একটি দ্বীপ এলাকা। পুরো এলাকাটি আজ পরিত্যক্ত। জানা যায়, সেখানকার সব ঘর-বাড়ি পরিত্যক্ত হওয়ায় পর্যটকদের প্রবেশ নিষে সেখানে। যেকোনো সময় সেগুলো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হতে পারে। এ কারণেই না-কি এ দ্বীপে জনসাধারণের প্রবেশ নিষেধ।

jagonews24

ইতিহাস মতে, একসময় নর্থ ব্রাদার আইল্যান্ডেই গড়ে ওঠে কোয়ারেন্টাইন হাসপাতাল। ১৬১৪ সালে এক সংক্রমণ রোগ ছড়িয়ে পরে এ দ্বীপে। নর্থ ব্রাদার আইল্যান্ডের অতীত মৃত্যু এবং রোগের সঙ্গে জড়িত।

১৮৮০ সালে এবং পরে ১৯৪০ সালে এ অঞ্চলে সংক্রমক ব্যাধি ছড়িয়ে পড়লে আক্রান্ত ব্যক্তিদের এ দ্বীপে নির্বাসিত করা হয়। যারা মারা গিয়েছিল; তাদের সবাইকে এ দ্বীপেরই এক স্থানে মর্গ বানিয়ে সংরক্ষিত রাখা হয়েছিল।

পরবর্তীতে ১৯৫১ সালে স্থানটি মাদকাসক্তদের পুনর্বাসন কেন্দ্র হিসেবে চালু করা হয়। এরপর বিভিন্ন ভৌতিক ও রহস্যময় কারণে ১৯৬৩ সালে নর্থ ব্রাদার আইল্যান্ড পরিত্যক্ত হয়ে যায়।

নিউ ইয়র্ক সিটি পার্কস এবং এন্টারটেইনমেন্ট বিভাগের সম্পত্তি এ স্থানটি। বর্তমানে নানা প্রজাতির পাখির অভয়ারণ্য স্থানটি।

ভানগড়, রাজস্থান

রাজস্থানের ভানগড়ের নাম অনেকেই শুনেছেন নিশ্চয়ই! সেখানকার আলওয়ার জেলার আরাবল্লি পাহাড়ের সরিস্কায় রয়েছে ভানগড় কেল্লা। সপ্তদশ শতাব্দীতে রাজা মাধো সিং এই কেল্লা নির্মাণ করেন। একসময় রাজপরিবারের সদস্যদের কোলাহলে মুখরিত থাকত কেল্লাটি।

jagonews24

অথচ এখন কেল্লাটি না-কি ভুতুড়ে এক স্থান। এ কারণেই ভানগড় দুর্গে সন্ধ্যার পর প্রবেশ নিষেধ। রাতে এ দুর্গে কেউ প্রবেশ করলে প্রাণ নিয়ে আর বাইরে বের হতে পারেন না। লোকমুখে নানা কল্পকাহিনি ছড়িয়ে রয়েছে কেল্লাটি নিয়ে।

লাসকক্স গুহা, ফ্রান্স

ফ্রান্সের লাসকক্স গুহাতেও জনসাধারণের প্রবেশ নিষেধ। তবে স্থানটি ভুতুড়ে নয়। ওই গুহার মধ্যে আদিম মানুষের আঁকা দেওয়াল চিত্র রয়েছে। সেগুলো যাতে নষ্ট না হয়, এ কারণেই প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

দক্ষিণ পশ্চিম ফ্রান্সের এ গুহার গায়ে আদিমানবদের আঁকা প্রায় ১৭ হাজার বছরের পুরোনো ছবি আবিষ্কৃত হয় ১৯৪০ সালে। যদিও প্রথম দিকে পর্যটকদের গুহায় প্রবেশের অনুমতি মিললেও অতিরিক্ত লোক প্রবেশের কারণে গুহার ভিতরের বাতাস আর্দ্র এবং গরম হতে থাকে।

jagonews24

কার্বন ডাই অক্সাইডের বৃদ্ধির ফলে বাড়তে থাকে দূষণের মাত্রা। ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে দেওয়ালের প্রায় ৬০০ প্রাচীন ছবি। অবশেষে ১৯৬৭ সাল থেকে গুহায় প্রবেশ নিষিদ্ধ করে ফ্রান্স সরকার। প্রায় ৫ দশক ধরে বন্ধ রয়েছে গুহাটি।

রাজার সমাধি

সরকারিভাবে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে চিনের ২১০ খ্রীষ্টপূর্বাব্দের রাজা কিন শি হুয়াং-এর সমাধিতেও। মৃত্যুর পর তার দেহের সঙ্গে ২০০০ সৈন্যের টেরাকোটার মূর্তিও কবর দেওয়া হয়েছিল।

এ রাজার সমাধি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল খুবই গোপন এক স্থানে। ১৯৭৪ সালে স্থানীয় কয়েকজন কৃষক হঠাৎই এ রহস্যময় টেরাকোটার সমাধির খোঁজ পান।

jagonews24

রাজার শেষ চিহ্ন নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় এ সমাধিতেও পর্যটকদের প্রবেশ নিষেধ। লোকমুখে শোনা যায়, এ সমাধির নীচে পানিতে না-কি বাস করে মৎস্যকন্যারা।

প্যারিসের ক্যাটাকম্ব

একের পর এক থরে থরে সাজানো রয়েছে কঙ্কালের খুলি। খুবই বিষ্ময়কর একটি স্থান। হাজার হাজার কঙ্কালের খুলি দিয়ে তৈরি করা হয়েছে প্যারিসের ক্যাটাকম্বের দেওয়াল। একসময় গণকবর দেওয়া হত এখানে।

এ ক্যাটাকম্বের পাশেই ছিল এক সমাধিস্থান। মৃতদেহের ভারে সমাধিস্থানটি ধসে পড়লে এ ক্যাটাকম্বের খোঁজ পায় বিশ্ব। ‘প্লেস দি গ্রেভে’র দাঙ্গায় নিহতদের এখানে কবর দেওয়া হয়েছিল।

jagonews24

কথিত আছে, সপ্তদশ শতকে এ ক্যাটাকম্বের ভেতরে নিখোঁজ হয়ে যান এক ব্যক্তি। যার মৃতদেহ পাওয়া যায় ১১ বছর পর। অষ্টদশ শতকে রাজপরিবারের সদস্যদের হত্যা করে ফেলা হয়েছিল ক্যাটাকম্বে।

রটনা রয়েছে, অতৃপ্ত আত্মাদের বাস ক্যাটাকম্বে। এ কারণে মানুষের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এ স্থানটি। প্যারিস সরকার স্থানটিকে অস্বাস্থ্যকর ঘোষণা করে সেখানে প্রবেশ নিষেধ করেছে।

ইনসাইডার/জেএমএস/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]