ভ্রমণের নেশাকেই পেশা বানিয়েছেন সামির

বেনজির আবরার
বেনজির আবরার বেনজির আবরার , ফিচার লেখক
প্রকাশিত: ০৩:৩২ পিএম, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২১

ঘুড়ে বেড়াতে পছন্দ করেন তিনি। এ শুধু সাধারণ মানুষের ঘুড়ে বেড়ানো নয়, দেশ-বিদেশকে এক করে চলা এক মানুষ। বলছি ‘দ্য ট্র্যাভেল গ্রুপ’ এর প্রতিষ্ঠাতা ও চিফ কো-অর্ডিনেটর সামিরের কথা। জাগোনিউজের সঙ্গে আলাপনে উঠে আসে তার নানা কথা।

জাগোনিউজ২৪: আপনার সম্পর্কে বলুন।

সামির: ‘দ্য ট্র্যাভেল গ্রুপ’ নামক একটি ছোট্ট ট্র্যাভেল অ্যাজেন্সি আছে। আমাদের প্রতিষ্ঠান থেকে মূলত দেশ ও দেশের বাইরে বিখ্যাত সব ট্যুরিষ্ট ডেস্টিনেশানে পাবলিক ইভেন্ট করা হয়। যেখানে দেশের নানা প্রান্তের নানা বয়সের মানুষ যুক্ত হন। আমাদের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো সারা বিশ্বের মানুষকে ভ্রমণের আনন্দ দেওয়া।

jagonews24

এছাড়াও আমরা ট্র্যাভেল রিলেটেড সকল ধরনের কাজ করে থাকি যেমন- ভিসা প্রসেসিং, রেন্ট-এ-কার সার্ভিস, এয়ার টিকেট, হলিডে প্যাকেজ, কর্পোরেট ট্যুর, কাষ্টমাইজ ট্যুর প্যাকেজ, পিকনিক, রিভার ক্রুজ, মেডিকেল ট্যুরিজম ইত্যাদি। মোটকথা আমরা ট্র্যাভেল রিলেটেড সব ক্ষেত্রে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে থাকি।

জাগোনিউজ২৪: ভ্রমণ নিয়ে আপনার আগ্রহ কবে মাথায় আসলো?

সামির: ছোটবেলা থেকেই আমার ভ্রমণের নেশা মাথায় চেপে বসে। একটি মজার গল্প শেয়ার করছি। আমি তখন দশম শ্রেণির ছাত্র। টেষ্ট পরীক্ষা শেষ। ফাইনাল পরীক্ষার প্রস্তুতি চলছে। হঠাৎ ঘুরতে যাওয়ার নেশা মাথায় উঠলো। কি আর করার? ব্যাচমেটদের সাথে প্ল্যান করে ট্যুর আয়োজন করে ফেললাম।

jagonews24

এ খবর প্রিন্সিপালের কানে গেলে, তিনি জানিয়ে দেন ট্যুরে গেলে আমাদেরকে টিসি দিয়ে বের করে দেবেন। ভ্রমণ যার নেশা তাকে কি আর থামানো যায়? সব চিন্তা মাথায় নিয়েই ভ্রমণে বেড়িয়ে পড়ি।

ফিরে এসে তার চড়া মূল্য দিতে হলেও মনে কোনো আফসোস ছিল না। আমি একজন মেডিকেল প্রফেশনাল হয়েও ভ্রমণের প্রতিই বেশি ঝোঁক ছিল। তাইতো এই নেশাকেই এখন পেশা বানিয়ে ফেলেছি।

জাগোনিউজ২৪: টিটিজি এখন বিশাল অংকের মানুষের আস্থার নাম। কীভাবে দেখছেন বিষয়টাকে? শুরুতে এমন ভেবেছিলেন?

jagonews24

সামির: আমার অ্যাজেন্সির নাম হচ্ছে ‘দ্য ট্র্যাভেল গ্রুপ’। যাকে সংক্ষেপে টিটিজি বলেই সবাই চেনে। আলহামদুলিল্লাহ, টিটিজি সত্যি বিশাল এক পরিবার তৈরি করেছে। টিটিজি ট্র্যাভেল জগতে অনেক মানুষের আস্থার জায়গা তৈরি করে চলেছে। দিন দিন আমাদের কর্ম পরিধি ও ব্যাপ্তি বেড়েই চলেছে।

টিটিজি’র অগ্রযাত্রায় আমরা যেমন সত্যি অনেক বেশি আনন্দিত ঠিক তেমিই অনেক বেশি চ্যালেঞ্জ মনে করছি। ট্যুরিজম অনেকটা সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। এখানে প্রতিটা মানুষের একটি আস্থার জায়গা থাকে। আমরা চেষ্টা করেছি সেবার সর্বোচ্চমান নিশ্চিত করতে।

জাগোনিউজ২৪: দেশের বাইরেও আপনার রিসোর্ট আছে জানলাম। বিষয়টা নিয়ে যদি বলতেন?

সামির: ট্যুরিজমের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হচ্ছে হোটেল কিংবা রিসোর্ট। টিটিজি থেকে বর্তমানে দেশের বাইরেও অনেক কর্পোরেট ট্যুর হয়েছে। শুরু থেকেই আমাদের লক্ষ্য ছিল, দেশ কিংবা বিদেশে নিজস্ব রিসোর্ট/হোটেল নেওয়া। যাতে আমাদের সেবার মান আরও উন্নত হয়।

jagonews24

সেই লক্ষ্যেই ভারতে টিটিজি পার্টনারশিপ রিসোর্ট নেওয়া হয়েছে। তবে করোনার কারণে সে কাজে এখনও যেতে পারিনি। এছাড়াও ভারতের শিলিগুড়িতে টিটিজির একটি চমৎকার অফিস প্রস্তুত করা হচ্ছে। সিকিমেও আমাদের পার্টনারশিপে একটি দারুন রিসোর্ট নেওয়া হয়েছে।

আমাদের সব রিসোর্ট ও অফিস ভারতীয় পার্টনার দ্বারা পরিচালিত হবে। আমরা বিদেশে আমাদের সম্মানীত অতিথিদের সর্বোচ্চমানের সার্ভিস নিশ্চিত করতে।

এছাড়াও মালেশিয়া, থাইল্যান্ড, নেপাল, ভুটান, সিঙ্গাপুর, দুবাই, তুরস্ক, মালদ্বীপ, ইজিপ্টসহ নানা দেশের লাক্সারি হোটেল এর বুকিং পার্টনার হিসেবে কাজ শুরু করেছি। টিটিজি থেকে যে কেউ চাইলেই ওয়ানস্টপ সার্ভিস পাবে।

jagonews24

জাগোনিউজ: করোনাকালে কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পর্যটন খাত? সংকট উত্তরণের উপায়?

সামির: করোনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পর্যটন খাত। লাখ লাখ মানুষ বেকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। এই ক্ষতি পুষিয়ে ওঠার নয়। অনেক হোটেল/রিসোর্ট ব্যাবসায়ীদের পথে বসিয়েছে। অনেক ট্র্যাভেল এজেন্সি এরই মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে।

এটি জাতীয় সংকট বলেই মনে করছি। সঠিক পরিকল্পনা ও উদ্যোগই পারে একমাত্র মুক্তির উপায়। সরকারকে এই খাতের দিকে দৃষ্টি দিতে হবে। এই ক্ষতি মোকাবেলায় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া অতীব জরুরি।

jagonews24

জাগোনিউজ২৪: তরুন উদ্যোক্তাদের জন্য আপনার পরামর্শ।

সামির: ট্যুরিজম একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। এখানে মানুষদের প্রয়োজন সঠিকমানের সার্ভিস। ট্যুরিজম একটি বিশাল সম্ভাবনাময় খাত। যদি সঠিক পরিকল্পনা ও সার্ভিস দেওয়ার মনমানষিকতা থাকে তাহলে এই সেক্টরে ভালো করা সম্ভব। নতুন যারাই এই সেক্টরে কাজ করতে আসবেন, তারা অবশ্যই জেনে ও বুঝে তবেই পা বাড়াবেন।
এ বিষয়ে এখন অনেকগুলো কোর্স আছে। চাইলে সেগুলো করে নিজেকে আরো বেশি দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারবেন। অনেক বেশি টেক ওরিয়েন্টেড হতে হবে। যোগাযোগের পরিধি বাড়ানোর জ্ঞান থাকতে হবে। লিডারশিপ কোয়ালিটির বিকল্প নেই।

ট্যুরিজমে প্রচুর মিস-ম্যানেজমেন্ট হওয়ার চান্স থাকে, সেগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখার স্বক্ষমতা তৈরি করতে হবে। আর মনে রাখতে হবে, সর্বোচ্চ স্তরের স্বপ্ন দেখতে হবে। কারণ আপনার স্বপ্নই আপনাকে গন্তব্যে নিয়ে যাবে। মানুষ স্বপ্নের চেয়েও বড়।

জেএমএস/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]