‘প্লিজ লিভ নাথিং বাট ইউর ফুট স্টেপ’

মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল
মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল , বিশেষ সংবাদদাতা মালদ্বীপ থেকে
প্রকাশিত: ০১:০৬ পিএম, ০৪ ডিসেম্বর ২০২১

মোরগ ডাকলে নাকি ভোর হয়। খুব ভোরে ঘুম ভেঙে জানালা দিয়ে বাইরের রাস্তায় বৃষ্টির পানি জমে থাকতে দেখি। সারাদিনের ভ্রমণে ক্লান্তশরীর নিয়ে বিছানায় ঘুমোতে যাওয়ায় রাতে একদফা বৃষ্টি হয়েছে টেরই পাইনি। তাই সকালের সমুদ্র সৈকত ও শহরের পরিবেশ দেখতে বাইরে বের হই।

হোটেলের অদূরে সমুদ্র সৈকতে যেতেই চোখে পড়ে একটি দোলনার ওপরের সাইনবোর্ড। তাতে লেখা ‘প্লিজ লিভ নাথিং বাট ইউর ফুট স্টেপ’ (তোমার পায়ের ছাপ ছাড়া কিছুই ফেলে যেও না)। অপার সৌন্দর্যের দ্বীপরাষ্ট্র মালদ্বীপ দেখতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে পর্যটকরা ছুটে আসেন। ভ্রমণকালে কত স্মৃতি নিয়ে ফেরেন তারা। মালের হুলহুমালে এলাকার সমুদ্র সৈকতে লেখা এ সাইনবোর্ডটির লেখাও মনে রাখার মতো একটি বাক্য।

mal1

পূর্বাকাশে তখনও সূর্য ওঠেনি। সমুদ্র সৈকতে ঝিরিঝিরি হাওয়া বইছে। সারি সারি নারকেল গাছের পাতাগুলো এদিক-সেদিক হেলছে, দুলছে। গাওগেরামের বাড়িতে যেভাবে ভোরবেলা মোরগের ডাক শোনা যায়, সেভাবেই কয়েকটি ডাক শোনা যায়।

অদূরে প্রাতঃভ্রমণে বের হওয়া কয়েকজন পর্যটককে সৈকতের সাদা বালুতে দৌড়াতে দেখা যায়। বৈঠা হাতে একজন পর্যটক দ্রুত গতিতে বোট চালিয়ে সামনে এগিয়ে যান। কূল-কিনারাহীন গভীর সমুদ্রের মাঝখান থেকে পূর্ব আকাশে ডিম্বাকৃতির সূর্য উঠতে দেখা যায়। সূর্যের লালচে আভা ছড়িয়ে পড়ে সমুদ্রে একটি রেখার আকৃতি ধারন করে। এ এক অভূতপূর্ব দৃশ্য।

mal1

সাদা বালু মাড়িয়ে সমুদ্র সৈকত ধরে হাঁটতে হাঁটতে সামনে এগিয়ে যেতে সাত সকালে একটি পর্যটক পরিবারের কয়েকজন নারী, পুরুষ ও শিশু। তাদের কয়েকজন সমুদ্রের পানিতে ও কয়েকজনকে সৈকতের কাছাকাছি সমুদ্রে তৈরি করা সুইমিংপুলে নেমে সাতার কাটতে দেখা যায়। রাতের বেলায় চোখে পড়লেও এটি যে সুইমিংপুল তা ঠাহর করতে পারিনি বা কল্পনাও করিনি। মালের এ সৈকতে পানি ও সাদা বালু মাড়িয়ে উপরে উঠেই গোসল ও হাত-পা ধোয়ার সুব্যবস্থা রয়েছে। সমুদ্র সৈকত থেকে পায়ে হাটা পথে অদূরে শহর দেখতে বের হই। রাস্তাঘাট ভীষণ ফাঁকা। সারি সারি মোটরসাইকেল রাস্তায় পার্কিংয়ে রাখা। কয়েকজন পর্যককে রাস্তায় জগিং করতেও দেখা যায়।

মালে শহরে মোটরসাইকেলই অন্যতম প্রধান বাহন। এখানে হর্ন ছাড়া গাড়ি চলার কারণে রাস্তাঘাটে হই চই, হট্টগোল নেই। রাস্তাঘাট ভীষণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। স্বল্প সময়ে ঘুরতে গিয়ে কোথাও ট্রাফিক বা অন্য কোনো পুলিশ সদস্য চোখে পড়েনি। এখানকার বাসিন্দারা নিয়ম মেনে রাস্তায় চলাচল করেন। একটু সময় গড়াতেই রাস্তাঘাটে বাসসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করতে শুরু করে। কিন্তু হর্ন কানে না আসায় মনে হলো যেন এখননো ভোরই হয়নি!

এমইউ/ইএ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]