মালদ্বীপের শহরে নেই ধুলোবালি, গাড়িতে বাজে না হর্ন!

মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল
মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল , বিশেষ সংবাদদাতা মালদ্বীপ থেকে
প্রকাশিত: ০২:৪১ পিএম, ০৪ ডিসেম্বর ২০২১

হঠাৎ করে তাকিয়ে দেখি মিনিট দুয়েক আগেই যেখানে গ্রুপের সবাই দলবেঁধে দাঁড়িয়ে ছিল— তারা কেউ নেই। কিছুটা ঘাবড়ে গেলাম। তবে তারা সবাই হোটেলে চলে গেছে। মালে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভেতরে অদূরে একজন কর্মকর্তাকে বলতেই তিনি তথ্যকেন্দ্রে যাওয়ার পরামর্শ দিলেন। মোবাইল ফোনে হোটেলের নাম দেখে তথ্য কর্মকর্তাকে বলতেই তিনি একটি চিরকুটে ফোন নম্বর লিখে টেলিফোন সেট দেখিয়ে কথা বলতে পরামর্শ দিলেন। ফোন নম্বরে যোগাযোগ করতেই তিনি সেখানেই অপেক্ষা করতে বললেন। মালদ্বীপ বিমানবন্দরে নেমে ইমিগ্রেশনে কোনো ধরনের ঝামেলা ছাড়াই পার হয়ে বাইরে বের হতেই নীলাভ পানি দেখে মনটাই ভরে যায়। পাশে দাঁড়ানো এক সহকর্মীকে লাগেজ দেখতে বলেই সামনে গিয়ে সিনেমা ও টেলিভিশনে দেখা চিত্রের হুবহু মিল খুঁজে পেলাম।

road1

সারি সারি নারিকেল গাছ, সমুদ্রের পানির কোথাও স্বচ্ছ সবুজ আবার কোথাও নীলাভাব, পাড়ে সাদা বালুকা-রাশি। ছোট্ট জেটির সামনে ছোট ছোট স্পিডবোট টাইপের জাহাজ রয়েছে। বিভিন্ন দেশ থেকে আসা পর্যটকরা বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে জেটিতে যাচ্ছেন। জাহাজের কর্মীরা তাদের লাগেজ তুলে নিচ্ছেন। পর্যটকদের নিয়ে ছুটে যাচ্ছেন বিভিন্ন দ্বীপের নামিদামি কটেজে।

কথিত রয়েছে বিশ্বের বুকে যতগুলো সুন্দর দেশ রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম একটি দেশ হলো এ মালদ্বীপ। আরও বলা হয়, সমুদ্রের রানি হলো মালদ্বীপ। প্রথম দর্শনেই এ সৌন্দর্যের প্রেমে পড়ে গ্রুপ থেকে বিছিন্ন হওয়া। অবশ্য পরে ট্যুরগাইডরা এসে আমাকে নিয়ে যায়। তখন পর্যন্ত গাড়ি না আসায় গ্রুপের সঙ্গেই মাইক্রোবাসে হোটেলের উদ্দেশে রওয়ানা হই। মালদ্বীপের রাজধানী মালে শহর একেবারেই ধুলাবালিমুক্ত। হোটেলে আসতে আসতে দিগন্ত বিস্তৃত সমুদ্র আকাশ চোখে আরামের পরশ বুলিয়ে দেয়। শহরে প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলের ছড়াছড়ি। নির্দিষ্ট রাস্তায় গাড়িগুলো দ্রুতগতিতে ছুটে চলছে। হোটেল থেকে ১৫-২০মিনিটের রাস্তায় কোনো গাড়িতে হর্ন বাজানোর দৃশ্যে চোখে পড়েনি। শুধু তাই নয়, রাস্তাঘাটে ধুলোবালির কনাও চোখে পড়লো না।

road1

হুলহুমালে এলাকার হোটেলে পৌঁছে লাঞ্চ (দুপুরের খাবার) করতে করতেই বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামে। বাইরে বের হতেই প্রতিটি রাস্তা ও হোটেলে অসংখ্য বাংলাদেশি চোখে পড়ে। সামনে এগিয়ে যেতেই একজন বাংলাদেশি জানালেন সামনে হুলহুমালে নাইট মেলা বসেছে। সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত ঢুঁ মারতে পারেন। সেখানে গিয়ে চোখে পড়ে মেলার দোকানপাটের ৮০ শতাংশ বাংলাদেশি। কেউ মালিক কেউবা কর্মচারী। মালদ্বীপে বসবাসরত বাংলাদেশিরাই এ মেলার প্রধান ক্রেতা।

একাধিক বাংলাদেশি তরুণের সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়, তারা কেউ পাঁচ বছর কেউবা ১০ বছর ধরে মালদ্বীপে এসেছেন। অধিকাংশই হোটেলে চাকরি করেন। খেয়ে পরে বেশ ভালেই আছেন। যারা হোটেলে ছোট চাকরি করেন তারাও সব খরচ মিটিয়ে ৩০-৪০ হাজার টাকা বাড়িতে পাঠাতে পারেন।

road1

তারা জানান, মালদ্বীপ খুবই এক্সপেনসিভ শহর। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ধনীরা এখানে বেড়াতে এসে বিপুল পরিমাণ ডলার খরচ করেন। এখানে সবকিছুরই দাম বেশি। করোনাভাইরাসের কারণে পর্যটকের সংখ্যা কমে গেলেও বর্তমানে পর্যটকের আগমন বেড়েছে। মালদ্বীপে প্রায় দেড় হাজারেরও বেশি দ্বীপ রয়েছে। যাদের প্রচুর অর্থবিত্ত রয়েছে, তারা বিমানবন্দরে নেমেই সরাসরি বিভিন্ন দ্বীপের রিসোর্ট ও হোটেলে চলে যান। মালদ্বীপে রাস্তার পাশে অসংখ্য প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেল ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। দেশটিতে অধিকাংশ মালদ্বীপিয়ান নারীদের বোরকা ও হিজাব পরে শালীনভাবে রাস্তায় বের হতে দেখা যায়।

এমইউ/এমএএইচ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]