মালদ্বীপের প্রেমে পড়ে গেছো নাকি?

মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল
মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল , বিশেষ সংবাদদাতা মালদ্বীপ থেকে ফিরে
প্রকাশিত: ১০:০৪ এএম, ০৮ ডিসেম্বর ২০২১

‘ব্যাপারটা কী? মালদ্বীপের প্রেমে পড়ে গেছো নাকি? চোখ তো দেখি ভারত মহাসাগরের নীলাভ পানি থেকে সরছেই না।’বেসরকারি ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের আমন্ত্রণে দুরাত-তিনদিন মালদ্বীপের হুলহুমালেতে কাটিয়ে দুদিন আগে দেশে ফিরে এলেও এখনও দেশটির নানা স্মৃতি মানসপটে ভাসছে। বিশেষ করে ভারত মহাসাগরের স্বচ্ছ নীলাকাশ, কোথাও গাঢ় নীলাভ আবার কোথাও কালচে নীলাভ জলরাশি, মুড়ি মুড়কির মতো মিনিট খানেক পর পর সি-প্লেন উড়ে যাওয়া, ছোট বড় বিশাল জাহাজ ও দ্রুত গতিতে স্পিডবোটের বিভিন্ন আইল্যান্ডে ছুটে যাওয়া, মহাসাগরের মধ্যে সাদা চিকচিকে বালুর ঢিবি, পানির নীচে স্বচ্ছ টলমলে প্রবাল, রঙ্গিন মাছের দলবেঁধে ছুটে চলা, পাখিদের কিচির মিচির শব্দ করে দলবেঁধে উড়ে চলা এবং মহাসাগরের বুক চিরে বিছিন্ন দ্বীপে সারি সারি নারিকেলসহ বিভিন্ন সবুজ গাছ গাছালিবেষ্টিত কটেজগুলোর অপরুপ দৃশ্য কিছুতেই চোখ থেকে সরছেনা।

মোবাইল ফোন ও অ্যাকশন ক্যামেরায় তোলা ছবিগুলো ঘুরে ঘুরে বার বার দেখতে থাকায় সহধর্মিনী ও ছেলেমেয়েরা মজা করে মালদ্বীপের প্রেমে পড়ে গেছি কিনা এমন প্রশ্ন করছে। সত্যি কথা বলতে মহামারি করোনায় দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে ঘরবন্দী থাকার পর মালদ্বীপের মতো এমন অপরুপ সৌন্দর্য়মন্ডিত দেশটিতে ভ্রমণ মনকে চাঙ্গা করার জন্য টনিক হিসেবে কাজ করেছে। বিশেষ করে মহাসাগরের নীলাভ স্বচ্ছ পানির দৃশ্য কিছুতেই মন থেকে মুছতে চাইছে না।

maldive-4.jpg

সফর দুই রাত তিন দিনের হলেও আসা ও যাওয়ায় দুদিন পার! সেই অর্থে ভালো করে মালদ্বীপ দেখা হয়েছে মাত্র একদিন। ট্যুর গাইড অপারেটর আহমেদ সিরাজ ও চাংকির কাছ থেকে জানা গেল মালদ্বীপের সহস্রাধিক দ্বীপে রয়েছে দারুন সব কটেজ। মালদ্বীপে যারা ঘুরতে আসেন তাদের অধিকাংশেরই টাকা পয়সার অভাব নেই, বলতে গেলে টাকা পয়সা খরচ করার জায়গা পান না। আর তাইতো প্রতিদিন ৫০ হাজার ডলার ভাড়ার সর্বোচ্চ মূল্যের কটেজও সবসময় বুকড থাকে। সবচেয়ে দামি এ হোটেলটি নীলাভ পানির সমুদ্রের নীচে নির্মিত হয়েছে। তবে ৭০০ থেকে ৮০০ ডলারেরও কটেজ রয়েছে। যারা বেশি ধনী তারা এয়ারপোর্ট থেকে সি-প্লেনে সরাসরি আইল্যান্ডে চলে যান। আর তাইতো মিনিট দুই পর পর সি-প্লেন ছুটে যেতে দেখা যায়। এছাড়া ইউরোপ আমেরিকা থেকে বড় বড় জাহাজ নিয়ে অনেকে মালদ্বীপে চলে আসেন। মহাসাগরের বুকে জাহাজ নিয়ে ঘুরে বেড়ান।

৪ ডিসেম্বর (শনিবার) ডে ট্যুরে জাহাজে করে ঘুরে বেড়ানোর সময় কখনও পানির রং স্বচ্ছ টলমলে নীলাভ আবার কখনও কালচে-নীলাভ চোখে পড়ে। কোথাও কোথাও এসে দুই পানির রং যে বদলে যাচ্ছে সে পার্থক্যে খুব সহজেই বোঝা যায়।

maldive-4.jpg

ট্যুর অপারেটর আহমেদ সিরাজের কাছে মহাসাগরের পানির নীলাভ ও কালচে- নীলাভ রংয়ের পার্থক্য জানতে চাইলে তিনি জানান, যেখানে পানির গভীরতা খুব বেশি সেখানকার পানির রং কালচে-নীলাভ। আর যেখানে প্রবাল রয়েছে সেখানে পানির গভীরতা খুবই কম। কালচে-নীলাভ পানি সর্বনিম্ন ৭০ থেকে ৮০ ফুট গভীর আর নীলাভ পানির গভীরতা মাত্র ৫ থেকে ১০ ফুট।

ভারত মহাসাগরে পর্যটকদের সেবা প্রদানের জন্য ট্যুর অপারেটররা মালদ্বীপিয়ানদের প্রাধান্য দেন। আহমেদ সিরাজ নামে এক ট্যুর অপারেটর জানান, সাগরের নীল জলরাশির যেমন অপরূপ রূপ রয়েছে তেমনি ঝড়ের সময় ভয়ার্ত রূপও রয়েছে। মহাসাগরে জাহাজ বা স্পিডবোটে পর্যটকদের সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার সময় প্রধানত দুটি বিষয়- মহাসাগরের স্রোত ও আবহাওয়া সম্পর্কে যাদের ভালো জ্ঞান রয়েছে তাদেরকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়।। কারণ ঘূর্ণিঝড়সহ নানা বিরূপ অবস্থা মোকাবিলায় মহাসাগরের স্রোত ও আবহাওয়া সম্পর্কে অভিজ্ঞ হতে হবে।

সংক্ষিপ্ত সফরে কোনো দেশ সম্পর্কে খুব বেশি জানা না গেলেও গণমাধ্যমকর্মী হিসেবে সার্বিক পর্যবেক্ষণে মালদ্বীপকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন দ্বীপরাষ্ট্র মনে হয়েছে। এখানকার রাস্তাঘাটে ধুলোবালির ছিটেফোঁটা নেই। সড়কে মোটরসাইকেল অন্যতম প্রধান বাহন। এছাড়া ব্যক্তিগত গাড়ি ও জনগণের জন্য সুন্দর সুন্দর বাস রয়েছে।

maldive-4.jpg

তবে দেশটিতে ছোট বড় হোটেল ও কটেজ, খাবার দাবার ও জিনিসপত্রের দাম অনেক বেশি। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ট্যুর অপারেটর আহমেদ সিরাজ বলেন, সবকিছুর দাম বেশি হওয়ার কারণ মালদ্বীপে অধিকাংশ পণ্য বিদেশ থেকে আমদানি করে আনতে হয়। তাছাড়া প্রতিটি পণ্যে সরকারকে ট্যাক্স পরিশোধ করতে হয়। হোটেল ও রিসোর্টে যাত্রী প্রতি প্রতিদিন তিন ডলার এবং সার্বিকভাবে ১২ শতাংশ ট্যাক্স দিতে হয়। ট্যাক্স ছাড়াও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও খাবার দাবারের খরচ মিটিয়ে খুব বেশি মুনাফা হয় না বলে তিনি জানান।

তবে মালদ্বীপে যারা ঘুরতে আসেন তারা টাকা খরচ করতেই আসেন। অনেকে পর্যটক আছেন যারা টাকা খরচ করার জায়গা পান না। তারা নামিদামি কটেজে উঠে টাকার বিনিময়ে সব প্রকার আনন্দ উপকরণ পেয়ে থাকেন। মুসলিম প্রধান দেশ মালদ্বীপে শহর এলাকায় মুসলিম রীতি-নীতি মেনে চললেও দ্বীপগুলোতে বিদেশি পর্যটকদের বিনোদনের জন্য সব ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানান আহমেদ সিরাজ।

এমইউ/কেএসআর/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]