৮ বছর ধরে গাছে বাস করছেন তিনি!

ভ্রমণ ডেস্ক
ভ্রমণ ডেস্ক ভ্রমণ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০২:৩৯ পিএম, ২৬ এপ্রিল ২০২২

বিশ্বের অনেক স্থানেই হয়তো ট্রি হাউজ দেখে থাকবেন! তবে সেসব ট্রি হাউজে পর্যটকরা শখ করে কয়েক মিনিট থেকে কয়েক ঘণ্টা সময় কাটাতে ভালোবাসবেন।

তাই বলে দিনে পর দিন গাছে চড়ে দিন যাপন করা বেশ কষ্টকর বটে। একদিন দুদিন নয় বরং দীর্ঘ ৮ বছর ধরে গাছে বসবাস করে সবাইকে অবাক করে দিয়েছেন ফরমান আলী।

jagonews24

পাকিস্তানের ২৮ বছর বয়সী এই ব্যক্তি গাছে বাস করায় ‘টারজান’ নামে পরিচিত হয়ে উঠেছেন। কয়েক সপ্তাহ আগে তার ট্রি হাউজের একটি ফুটেজ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পরে ফরমান আলী রাতারাতি ভাইরাল হয়ে উঠেছেন।

এরপর থেকে অনেকেই তার ট্রি হাউজ দেখতে সেখানে ভিড় জমাচ্ছেন। তবে শখের বসে কিন্তু ফরমান এই ট্রি হাউজে বসবাস করছেন না। অভাবের দরুন গাছে বাসা বাঁধতে হয়েছে তাকে। বাবা-মা দুজনকেই হারানোর পর তিনি আবাসন সংকটে পড়েন।

jagonews24

কিছুদিন রাস্তায় থাকার পরে তিনি সিদ্ধান্ত নেন গাছে বাসা তৈরি করবেন। যাতে কেউ তাকে বিরক্ত না করেন, আর তাকেও যেন গৃহহীন না থাকতে হয়। সরকারি সম্পত্তির একটি গাছে নিজের থাকার জায়গা বানান ফরমান।

ফরমান আলী গাড়ি ধোয়া, ঝাড়ু দেওয়া, মানুষের ঘরের বাইরে পরিষ্কার করা কিংবা অন্যদের জন্য মুদিখানার বাজার কেনাকাটা কিংবা কুলি-মজুরি করে জীবিকা নির্বাহ করেন।

jagonews24

তার বেশিরভাগ ক্লায়েন্টই তাকে ঠান্ডা পানি ও খাবারের জন্য অর্থ প্রদান করে। তার রোজগার এতো অল্প যে, তা দিয়ে একটি বাড়ি ভাড়া নেওয়ারও সামর্থ্য নেই।

সম্প্রতি ফরমান আলী আন্তর্জাতিক ভিডিও নিউজ অ্যাজেন্সি রুপ্টলির এক সাক্ষাৎকারে জানান, তিনি দিশা না পেয়ে গাছে বসবাস শুরু করেন।

jagonews24

তার বাবা-মা মারা যাওয়ার পর অনেক আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতদের কাছ থেকে সাহায্যের জন্য তাদের কাছে গিয়েছিলেন, তবে কেউই তাকে সাহায্য করেননি।

ফরমান আলী জানান, বাতাস ও বৃষ্টির হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করতে তিনি বাঁশ, কাঠ ও পুরোনো দরজা ও কাপড় দিয়ে গাছের ঘর তৈরি করেছেন।

jagonews24

একটি অস্থায়ী বিছানা ছাড়াও, মুখ ধোয়ার জন্য একটি সিঙ্ক, রান্না ও পানি গরম করার জন্য একটি ছোট ওভেন, একটি ছোট ও ব্যাটারিচালিত লাইট ও ফোনের জন্য একটি চার্জারও স্থাপন করেছেন।

দারিদ্রতার কারণে ফরমান আলীর স্ত্রীও একসময় তাকে ছেড়ে চলে যান। বেশ কয়েকবার তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে সাহায্যের জন্য আবেদন চেয়েছেন, তবুও তিনি আশ্রয়স্থল পাননি।

সূত্র: অডিটি সেন্ট্রাল

জেএমএস/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]