বৃষ্টিতে পর্যটকরা ছুটছেন বোয়ালিয়া ঝরনায়

উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি মিরসরাই (চট্টগ্রাম)
প্রকাশিত: ০২:০০ পিএম, ০৪ অক্টোবর ২০২২

ঝরনার জনপদ হিসেবে সারা দেশে আগে থেকে সুপরিচিত চট্টগ্রামের মিরসরাই। সব সময় পর্যটকরা বিভিন্ন ঝরনায় গেলেও এবার বৃষ্টিতে অনেকেই ছুটছেন বোয়ালিয়া ঝরনায়। প্রতিদিন কিশোর, যুবকদের পদচারনায় মুখর এই ঝরনা। এই ঝরনার ছোট-বড় অন্তত ৪টি শাখা ঝরনা আছে।

বোয়ালিয়া ঝরনার আলাদা বৈশিষ্ট হলো আকৃতি অদ্ভুত ধরনের। এর আকৃতি অনেকটা ব্যাঙের ছাতার মতো ও বোয়াল মাছের মাথার মতো বিধায় হয়তো এই ঝরনার নাম হয়েছে বোয়ালিয়া। মিরসরাই-ফটিকছড়ি সড়কের রেললাইন পার হয়ে ব্র্যাক অফিসের উত্তর পাহাড়ে এই ঝরনার অবস্থান।

পাহাড়ের পাদদেশে গাড়ি রেখে দুই কিলোমিটার হাঁটলেই ঝরনার রূপ ধরা দেবে। ঝরনার উপরে আরো ছোট ছোট ঝরনা আছে। তবে বোয়ালিয়ার উপরে যাওয়াটা খুবই বিপজ্জনক।

বৃষ্টিতে পর্যটকরা ছুটছেন বোয়ালিয়া ঝরনায়

সম্প্রতি বোয়ালিয়া ঝরনায় বেড়াতে যান মিরসরাইয়ের ফেনাপুনি এলাকার ১৮ জনের একদল তরুণ। তাদেরই একজন সিহাব উদ্দিন শিবলু বলেন, ‘প্রতি বছর এই সময়ে গ্রামের ছেলেরা মিলে ঘুরতে যাই। আমাদের গ্রাম থেকে বোয়ালিয়া ঝরনার দুরত্ব ৬-৭ কিলোমিটার হলেও কখনো যাওয়া হয়নি। এবার সুযোগ মিস করিনি। সবাই মিলে দারুন উপভোগ করেছি।’

অনেকটা ক্লান্ত শরীর নিয়ে ঝরনা থেকে ফেরার পথে মিরসরাই কলেজ রোড়ের মুখে কথা হয় পুরান ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা কলেজ ছাত্র রিংকুর সঙ্গে। রিংকু জানান, তারা ৫ বন্ধু বোয়ালিয়া ঝরনায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে রাতে বাস যোগে রওয়ানা দেন।

ভোরে মিরসরাই সদরে নেমে প্রথমে সিএনজি অটোরিকশা যোগে পাহাড়ের পাদদেশে যান। সেখানে থেকে হেঁটে ঝরনায় গিয়ে সবাই মিলে গোসল করেন। তাদেরই একজন আরাফাত বলেন, পাহাড়ি প্রাকৃতিক ঝরনাগুলো সত্যি অসাধারণ।

বৃষ্টিতে পর্যটকরা ছুটছেন বোয়ালিয়া ঝরনায়

ঝরনায় ঘা ভেজালে অনেক হালকা লাগে। অন্যরকম অনুভুতি। এর আগে গত বছর খৈয়াছড়া ঝরনায় বেড়াতে আসেন তারা। মিরসরাইয়ের নাজিরপাড়ার মির্জা আরিফ বলেন, গত শুক্রবার বন্ধুরা সহ গিয়েছিলাম মিরসরাই সদর দিয়ে ভিতরে বোয়ালিয়া ঝরনায়। পাহাড়ের পাদদেশে ফরেস্ট মসজিদে জুমা আদায় করে পায়ে হেঁটে সবাই মিলে ঝিরিপথ ধরে যাই ঝরনাতে।

ঝরনাতেই কলাপাতায় হয়েছে দুপুরে বিরিয়ানি ভক্ষণ। সব বন্ধুরা মিলে ফিরে যাই যেন সেই স্কুলের জীবনে। দুরন্তপনায়, দস্যিপনায়, আড্ডা আর আনন্দে কাটে সুন্দর কিছু মুহুর্ত। সব মিলিয়ে অসাধারণ একটি দিন। আর অসাধারণ অপরূপ সৃষ্টি। পাহাড়, ঝরনার অপূর্ব নৈসর্গিক সৌন্দর্য।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মিরসরাইয়ের অন্যান্য ঝরনায় এ বছর ইজারার মাধ্যমে টিকিট সংগ্রহ করে যেতে হলেও বোয়ালিয়া ঝরনা ইজারার আওতায় নেই। বোয়ালিয়া ঝরনায় যেতে টিকেটের প্রয়োজন হয় না।

বৃষ্টিতে পর্যটকরা ছুটছেন বোয়ালিয়া ঝরনায়

তাই এবার এখানে পর্যটকরা বেশি যাচ্ছেন। তবে সিএনজি অটোরিক্সা চালক ও ব্যাটারি চালিত রিক্সা চালকরা ভাড়া বেশি নিচ্ছেন বলে একাধিক পর্যটক অভিযোগ করেছেন।

কীভাবে যাবেন বোয়ালিয়া ঝরনায়?

দেশের যে কোনো প্রান্ত থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিরসরাই সদরে গাড়ি থেকে নামতে হবে। এরপর মিরসরাই বাজার হয়ে পূর্ব দিকে সিএনজি অথবা ব্যাটারিচালিত রিকশা যোগে পাহাড়ের পাদদেশে গিয়ে নামতে হবে।

সেখান থেকে ছড়া ধরে কিংবা মানুষের তৈরি পাহাড়ি পথ ধরে কিছুটা হাঁটলেই বড় ছড়া পাওয়া যাবে। সেখান থেকে একটু উত্তরে গেলে বোয়ালিয়া ঝরনা পাওয়া যাবে।

বৃষ্টিতে পর্যটকরা ছুটছেন বোয়ালিয়া ঝরনায়

কোথায় থাকবেন ও খাবেন?

মিরসরাই সদরে পার্কইন রেষ্টুরেন্ট, আলিফ রেস্টুরেন্ট, বারইয়ারহাটে কাশবন ও গ্রিনপার্ক রেষ্টুরেন্ট আছে। তবে থাকা ও খাওয়ার জন্য মিরসরাইয়ে কোনো আবাসিক হোটেল নেই।

বৃষ্টিতে পর্যটকরা ছুটছেন বোয়ালিয়া ঝরনায়

পর্যটন স্পট থেকে ৫০ মিনিটের পথ চট্টগ্রাম শহরের একেখাঁন ও অলংকার মোড়ে রয়েছে মায়ামী রিসোর্ট ও রোজভিও আবাসিক হোটেল।

এম মাঈন উদ্দিন/জেএমএস/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।