রাতারগুলে লিচু মিয়ার গানে মুগ্ধ পর্যটকরা

ভ্রমণ ডেস্ক
ভ্রমণ ডেস্ক ভ্রমণ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০২:৪৪ পিএম, ০৩ নভেম্বর ২০২২

আজাহারুল ইসলাম

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি সিলেট। সিলেটজুড়ে চোখজুড়ানো যেসব স্পট আছে, তার মধ্যে অন্যতম রাতারগুল। দেশের সর্ববৃহৎ এ জলাবন ‘বাংলার অ্যামাজন’ নামেও পরিচিতি। সিলেটের সীমান্তর্বতী উপজেলা গোয়াইনঘাটের ফতেহপুর ইউনিয়নে অবস্থিত।

এ বনের দূরত্ব সিলেট শহর থেকে প্রায় ২৬ কিলোমিটার। বনটির আয়তন ৩ হাজার ৩২৫ দশমিক ৬১ একর। এর মধ্যে ৫০৪ একর অঞ্চলকে ১৯৭৩ সালে বন্যপ্রাণীদের অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

অনিন্দ্যসুন্দর বিশাল এ জলাবনে চারদিকে শান্ত পরিবেশ। এখানে ঘুরতে হয় নৌকায়। নৌকা ভ্রমণের সময় মাঝিদের গান আর বনের সৌন্দর্য যেন রূপ দেয় ষোলোকলায়। তাদের মধ্যে ব্যাপক সুপরিচিত মাঝি হলেন লিচু মিয়া।

jagonews24

তার আসল নাম দেলোয়ার হোসেন হলেও লিচু মিয়া নামেই ব্যাপক পরিচিত। বাড়ি নৌঘাটের আশেপাশেই। লিচুর বয়স ২৫ ছুঁইছুঁই। তবে এখনো অবিবাহিত। আরেকটু গুছিয়ে নিয়ে বসতে চান বিয়ের পিঁড়িতে।

হাতে বৈঠা, ডিঙি নৌকা চাপড়িয়ে খালি গলায় সুর তোলেন লিচু মিয়া। লিচুর গানে যে কোনো পর্যটক বিমোহিত হতে বাধ্য। গান তিনি জানেনও অনেক। সিলেটের স্থানীয়, লালনগীতি, বাউল গান, প্যারোডি, আধুনিকসহ বিভিন্ন ধরনের গান শুনে মুগ্ধ হন পর্যটকরা।

jagonews24

লিচু যখন গলা ছেড়ে গান ধরেন, অন্য নৌকার আরোহীরাও মনযোগী হয়ে শোনেন। সেইসঙ্গে তাদের তৈরি হয় আফসোস। ইস! যদি ওই নৌকাটায় উঠতে পারতাম! লিচু মিয়া যেমন পটু নৌকা চালানোয়; তেমনই গানেও।

ছোটবেলা থেকেই বৈঠা হাতে রাতারগুলে নৌকা চালান লিচু মিয়া। সময়ের পরিক্রমায় আর বয়স বাড়ার সঙ্গে বাড়ছে পরিচিতি। সেইসঙ্গে রাতারগুলের সঙ্গে তার যেন অন্যরকম এক সম্পর্ক। পুরো জলাবন তার নখদর্পণে। কোথায় কোন সৌন্দর্য লুকায়িত তা লিচু মিয়ার জানা। তাই পর্যটকদের পথ চেনানোর পাশাপাশি বন সম্পর্কে এবং বিভিন্ন গাছ, প্রাণী এবং পাখিসহ বিভিন্ন ধারণা দিয়ে থাকেন। পাশাপাশি পর্যটকদের ক্যামেরাম্যানও হয়ে ওঠেন তিনি।

jagonews24

প্রতিবাভান লিচু মিয়ার আয়ের উৎস নৌকা চালানো হলেও এতে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। কারণ পর্যটকদের দেওয়া নৌকা ভাড়ার অধিকাংশই সরকারি কোষাগার আর নৌকা মালিকদের কাছে চলে যায়। তাই নৌকা চালানো ছাড়া বিভিন্ন কাজের পাশাপাশি তিনি কনসার্টেও গান গেয়ে থাকেন।

দেশের আনাচে-কানাচে লুকিয়ে আছে এমন হাজারো লিচু মিয়া। এসব প্রতিভাবানকে সঠিক পরিচর্যা করা হলে দেশের অগ্রগতিতেও অবদান রাখতে পারবে।

লেখক: শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।

এসইউ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।