আমস্টার্ডাম ভ্রমণে ঘুরে দেখুন বিখ্যাত এসব ঐতিহাসিক স্থান

ভ্রমণ ডেস্ক
ভ্রমণ ডেস্ক ভ্রমণ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:৫৭ পিএম, ২৬ নভেম্বর ২০২২

সাইফুর রহমান তুহিন

উত্তর-পশ্চিম ইউরোপের দেশ নেদারল্যান্ডসের ভালো পরিচিতি আছে ফুটবল খেলার জন্য। তবে এর বাইরেও আছে ঘুরে দেখার মতো দারুণ সব জায়গা।

নেদারল্যান্ডসের রাজধানী শহর আমস্টার্ডাম শুধু তার জীবন্ত নৈশজীবনের জন্যই সুপরিচিত নয়, এখানে এমন কিছু বিখ্যাত ঐতিহাসিক স্থান আছে যেগুলো আপনাকে বাধ্য করবে সুদূর অতীতে ফিরে যেতে।

ইতিহাসপ্রেমীদের জন্য এটি এক বিস্ময়কর গন্তব্য। আমস্টার্ডামকে আদর করে ডাকা হয় ‘ওপেন এয়ার মিউজিয়াম’ কারণ শহরটির প্রায় প্রতিটি অংশই অতীত কালের বর্ণনা দিয়ে থাকে। অনেক বেশি ঐতিহাসিক স্থাপনা আছে শহরটিতে যেগুলোর কোনোটিই মিস করার মতো নয়।

এই লেখায় আপনাকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হবে আমস্টার্ডাম শহরের নির্বাচিত কিছু বিখ্যাত ঐতিহাসিক স্থাপনার সঙ্গে যেগুলো আপনাকে উপহার দেবে এক বিস্ময়কর অভিজ্ঞতা। আমস্টার্ডাম ভ্রমণে গিয়ে কী কী দেখবেন জেনে নিন-

jagonews24

উইলেট হলথুয়েসেন মিউজিয়াম

আমস্টার্ডাম শহরের হেরেনগ্রাচটে অবস্থিত এবং সপ্তদশ শতাব্দীর শেষদিকে নির্মিত এই জাদুঘর প্রাচীনকালের নাগরিকদের জীবনযাপনের কথা বর্ণনা করে। এখানে থাকা চিত্রকর্মগুলো আমস্টার্ডাম শহরের অতীত ও এর সংস্কৃতির বিভিন্ন নিদর্শন তুলে ধরে।

এর পাশাপাশি জাদুঘরটি হলো রাজকীয় পরিবারের ধনসম্পদের শোকেসের মতো এবং এটি উপস্থাপন করে কয়েক দশক ধরে চলে আসা জনপ্রিয় আলংকারিক স্টাইলকে।

বিশুদ্ধ অভ্যন্তরভাগ, বিশালাকৃতির বাগানসমূহ ও চমকপ্রদ স্থাপত্যকর্মের কারণে জাদুঘরটিতে বারবার যেতে মন চাইবে। এছাড়া জাদুঘরের অভ্যন্তরের প্রতিটি বাগানের ইতিহাস ব্যাখ্যা করার জন্য শর্ট ট্যুর পরিচালনা করা হয়।

jagonews24

ড্যাম স্কোয়ার

আমস্টার্ডামের অন্যতম প্রধান ঐতিহাসিক গন্তব্য ড্যাম স্কোয়ার গোটা বিশ্বের পর্যটকদের কাছে খুবই পছন্দের একটি জায়গা।

জায়গাটি এতোই জনপ্রিয় যে, সকাল থেকে রাত আপনি নিজেকে খুঁজে পাবেন অনেক মানুষের ভিড়ে। আমস্টেল নদীর তীরে অবস্থিত ড্যাম স্কোয়ার একটি বিশাল বাঁধ যা স্থাপিত হয়েছিলো ত্রয়োদশ শতাব্দীতে।

রাজকীয় প্রাসাদ, নিউয়ে কের্ক গীর্জা ও জাতীয় স্মৃতিসৌধের সমন্বয়ে গঠিত ড্যাম স্কোয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থান। ঐতিহাসিক স্থাপনা ছাড়াও আপনি ঘুরে দেখতে পারেন গোটা এলাকার ছবির মতো সুন্দর দৃশ্যাবলী।

jagonews24

অ্যানে ফ্রাংক হাউস

আমস্টার্ডামের এই বিশেষ স্থানের সঙ্গে জড়িয়ে আছে এক গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাস। এটি হলো সেই জায়গা যেখানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে অ্যানে ফ্রাংক ও তার পরিবার বেশ কিছুদিন লুকিয়ে ছিলেন। শুধু অ্যানে ফ্রাংকই নয়, আরও অনেকেই যুদ্ধ থেকে নিজেদের বাঁচাতে সেখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন।

এরপরই বাড়িটিকে জাদুঘরে রূপ দেওয়া হয়। সেখানকার শোকেসগুলোতে পাওয়া যাবে পুরোপুরি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আবহ। এই জাদুঘরে গেলে দেখতে পাবেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে লুকিয়ে থাকা মানুষদের বিভিন্ন কাগজপত্র, আলোকচিত্র, ঐতিহাসিক সামগ্রী ও ছবি।

জাদুঘরের ভেতরে একটি প্রদর্শনী আছে, যা চিত্রায়িত করে ইহুদিদের কালো তালিকাভুক্তিকে। এই স্থানের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো এখানেই সংরক্ষিত আছে অ্যানে ফ্রাংকের লেখা বিখ্যাত ডায়েরিটি।

jagonews24

পর্তুগিজ সিনাগগ

পর্তুগিজ সিনাগগ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৬৭০ খ্রিস্টাব্দে যখন পর্তুগিজ ও ইহুদি পরিবার আমস্টার্ডামে পালিয়ে আসে নিজেদেরকে যুদ্ধ থেকে বাঁচানোর জন্য। এটি এমন একটি কাঠামো যা স্তুপীকৃত কাঠের আকৃতিতে তৈরি যার সঙ্গে আছে কাঠের তৈরি ছাদ আর লোহার জানালা।

স্থানটি অনেকগুলো ছোট ছোট ভবন দ্বারা পরিবেষ্টিত। যখন ইহুদিরা নির্বাসন থেকে নিজেদেরকে বাঁচাতে চাচ্ছিলো, তখন আমস্টার্ডাম তথা নেদারল্যান্ডসই ছিলো একমাত্র জায়গা যেখানে তারা শান্তিতে ধর্মচর্চা করতো।
ক্রমান্বয়ে ইহুদিরা এখানে বসবাস ও নিজেদেরকে বাঁচানোর জন্য একটি সিনাগগ তৈরি করেন। পরবর্তী সময়ে এর নাম হয়ে যায় পর্তুগিজ সিনাগগ। আমস্টার্ডামের ইহুদি সম্প্রদায়ের কিছু প্রতীকচিহ্ন আছে যা এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভ্রমণ গন্তব্য বানিয়েছে।

jagonews24

অস্ট ইন্ডিসচ হুইস

১৬০২ খ্রিস্টাব্দে উদ্বোধন করা অস্ট ইন্ডিসচ হুইস শক্তিশালী ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সদর দপ্তর হিসেবে ব্যবহৃত হতো। এশিয়ার সাথে বাণিজ্যিক কর্মকান্ড সম্পাদন করা ছিলো কোম্পানিটির মুখ্য উদ্দেশ্য।

সদর দপ্তরের অভ্যন্তরে বিশালাকৃতির হলরুমসমূহ, প্রশাসনিক ভবনসমূহ, বড় গুদাম ও চত্বর নির্মাণ করা হয়েছিলো। ভবনটির নকশা করেছিলেন খ্যাতিমান ডাচ ভাস্কর হেনড্রিক দে কেইসার। ভবনটি তৎকালীন সময়ের উচ্চবংশীয় লোকদের বিলাসিতা ও উন্নত রুচির পরিচয় তুলে ধরে।

এটি এখন একটি জাতীয় স্মৃতিসৌধ, যা তুলে ধরে ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিভিন্ন কর্মকাণ্ডকে। এখানে গেলে আবিষ্কার করতে পারবেন অতীতের ডাচ জনগোষ্ঠীর চমৎকার সোনালী অতীতকে। বর্তমানে ভবনটির মালিকানা আমস্টার্ডাম বিশ্ববিদ্যালয়ের।

jagonews24

হোমো মনুমেন্ট

বিশ্বের অন্যতম বিখ্যাত ঐতিহাসিক স্থাপনা হলো হোমো মনুমেন্ট যা অনেকটা ত্রিভুজাকৃতিতে নির্মিত। এটি একটি প্রতীকী অবকাঠামো, যা নির্দেশ করে আমস্টার্ডামের তিনটি বিখ্যাত জায়গাকে। আর সেগুলো হলো ড্যাম স্কোয়ারে অবস্থিত ন্যাশনাল ওয়ার মেমোরিয়াল, সিওসি আমস্টার্ডাম ও দ্য অ্যানে ফ্রাংক হাউস।

এই স্মৃতিস্তম্ভ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে নির্যাতিত ও কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে পাঠানো হতভাগ্য সমকামী লোকজনকে নিবেদিত। বর্তমানে কঠিন সময় পার করা সমকামী সম্প্রদায়ের প্রতিও সম্মান প্রদর্শন করে এটি। এটিই বৃহত্তম ও প্রথম স্মৃতিস্তম্ভ, যা নির্মিত হয়েছিলো সমকামী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য।

লেখক: ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক ও ফিচার লেখক।

জেএমএস/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।