ডিসেম্বরে খুলছে মালয়েশিয়ায় পর্যটনের দুয়ার

আহমাদুল কবির
আহমাদুল কবির আহমাদুল কবির , মালয়েশিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১২:০৯ পিএম, ০৫ অক্টোবর ২০২১

ঢেলে সাজানো হচ্ছে মালয়েশিয়ার পর্যটনখাত। ডিসেম্বরেই দেশটির সব পর্যটন স্পট বিদেশিদের জন্য খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। এর আগে ৯০ শতাংশ মানুষকে টিকা দেওয়ার পর খুলবে পর্যটনের দুয়ার।

সম্প্রতি এমনটি জানান দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইসমাইল সাবরি ইয়াকুব। এরই মধ্যে পর্যটন স্পটগুলোতে চলছে পরিষ্কার- পরিচ্ছন্নতার কাজ। সম্প্রতি মালয়েশিয়ার আন্দামান সাগরে ১০৪টি দ্বীপ নিয়ে গঠিত লংকাউই দ্বীপমালা স্থানীয় পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে দেশটির উপকূলীয় এলাকা থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরের এই দ্বীপমালায় এখন শুধু টিকাগ্রহীতা অভ্যন্তরীণ পর্যটকদেরই ভ্রমণের অনুমতি মিলছে।

jagonews24

দেশটির সরকার অভ্যন্তরীণ পর্যটকদের জন্য শিগগিরই তিওম্যান দ্বীপ, জোহর, মেলাকা ও বোর্নিও দ্বীপ খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে। দেশটির পর্যটন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চতুর্থ ধাপের পরিকল্পনায় বিদেশি পর্যটকদেরও ভ্রমণের সুযোগ দেওয়া হবে।

এদিকে, প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থনীতি হুমকির মুখে পড়েছে। চাকরি হারিয়ে বেকার হয়েছেন লাখ লাখ মানুষ। ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়েছে পর্যটন-শিল্পসহ সব ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্য। গত দেড় বছরে মালয়েশিয়ায় পর্যটকদের আনাগোনা একেবারে নেই বললেই চলে। ফলে ধস নামে দেশটির পর্যটন-শিল্পে।

jagonews24

শুধু মালয়েশিয়াই নয়, বিশ্বের প্রায় সব দেশেই পর্যটকদের আনাগোনা কমে যায় বলে জানিয়েছে দেশটির ট্যুরিজম প্রোমোশন বোর্ড।

ট্যুরিজম প্রোমোশন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালে মালয়েশিয়ায় পর্যটকের সংখ্যা ছিল দুই কোটিরও বেশি। করোনা মহামারির কারণে গত বছরের জানুয়ারি থেকে সেই সংখ্যা কমেছে ৭৮ দশমিক ৬ শতাংশ। মহামারিতে পর্যটনখাতে আয় কমেছে প্রায় ৮১ শতাংশ। ২০১৯ সালে পর্যটন খাতে দেশটির আয় ছিল ৬৬ দশমিক ১ বিলিয়ন রিঙ্গিত। পর্যটন খাতে নিম্নমুখী প্রবণতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে মাথাপিছু পর্যটক ব্যয়ও কমেছে সেখানে।

এদিকে ধুকতে থাকা পর্যটনখাত চাঙ্গা করতে সম্প্রতি ১০ বছর মেয়াদি নতুন একটি পরিকল্পনা নিয়েছে মালয়েশিয়া। এক সময় এশিয়ার অন্যতম পর্যটন আকর্ষণের এই দেশটি গত বছর ১০ হাজার কোটি রিঙ্গিত বা দুই হাজার ৪৬১ কোটি ডলার লোকসান গুনেছে এ খাতে।

jagonews24

২০১৯ সালে দেশটিতে দুই কোটি ৮০ লাখ পর্যটক আগমনের পর ‘ভিজিট মালয়েশিয়া ২০২০’-এর আওতায় তিন কোটি পর্যটক লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছিল। ২০১৯ সালে পর্যটনখাত থেকে তাদের আয় হয়েছিল ২৪ হাজার দুই কোটি রিঙ্গিত, যা দেশটির জিডিপির ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ। কিন্তু মহামারি নিয়ন্ত্রণে গত বছরের মার্চে শুরু হওয়া লকডাউনে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো মালয়েশিয়ার পর্যটনখাতও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

দীর্ঘদিন পর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এ দেশটির জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রগুলো আবারও পর্যটকদের হাতছানি দিচ্ছে।

এআরএ/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]