নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের বিষয়ে উল্লেখ নেই ইশতেহারে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:৪৯ পিএম, ২০ ডিসেম্বর ২০১৮

রাজনৈতিক দল ও জোটের নির্বাচনী ইশতেহারে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো বক্তব্য নেই- এমন অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় সুফিয়া কামাল ভবনে রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ইশতেহার নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আয়শা খানম বলেন, নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে সব সময় আমাদের রাজনৈতিক দল ও জোটগুলো একটু কৌশলী ভূমিকা নেয়। এবার ইশতেহারেও তার প্রতিফলন দেখেছি আমরা। যেকোনো নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট কোনো বক্তব্য নেই। এ ছাড়া জাতীয় সংসদে নারীর ফলপ্রসূ সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করতে কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে তারও কোনো ব্যখ্যা নেই ইশতেহারে।

আয়শা খানম ছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু, আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক রেখা চৌধুরী প্রমুখ।

মহিলা পরিষদের সভাপতি জানান, রাজনীতিতে নানা কৌশল থাকবে এটা স্বাভাবিক। কিন্তু এখন সেই কৌশনের নামে দেশে উগ্র ও নীতিহীন রাজনীতি চলেছে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ড. ইনাম আহমেদ চৌধুরীর আওয়ামী লীগে যোগ দেয়ার প্রসঙ্গ টেনে নারী নেত্রী বলেন, বর্তমানে আদর্শ চেতনা বলতে রাজনীতিতে কিছু নেই। ৩০ বছর ধরে একটি দলের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করছে সেই ব্যক্তি অন্য দলে যোগ দিচ্ছে। আবার তাকে সেই দলের নেত্রী ফুল দিয়ে বরণ করে নিচ্ছেন।

তিনি বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে শূন্য সহিংসতা ঘোষণার অঙ্গীকার আমরা ইশতেহারে আশা করেছিলাম। কিন্তু আওয়ামী লীগ ও বাম গণতান্ত্রিক জোটের ইশতেহারে বিষয়টি উল্লেখ নেই। তবে ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহারে নারী নির্যাতনকে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছে বলে জানান তিনি। এ ছাড়া বর্তমান সরকার গৃহীত নারী উন্নয়ন নীতি বাস্তবায়নে কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বা প্রতিশ্রুতি ২০১৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে নেই। এটি কেন নেই তার কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি দলগুলো।

আয়শা খানম আরও বলেন, আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল রাজনৈতিক কৌশলের নামে কোনক্রমেই রাজাকার, জামায়াত, যুদ্ধাপরাধী, স্বৈরাচার, ঋণখেলাপি, নারী নির্যাতনকারী, মাদকব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী, দুর্নীতিবাজ, গডফাদারদের সঙ্গে কোনো ঐক্য না করা ও মনোনয়ন না দেয়ার। কিন্তু আমাদের এ দাবি দলগুলো মানেনি। এবারও জামায়াতের ২৫ জন মনোনয়ন পেয়েছেন। এ ছাড়া অনেক স্বৈরাচার, ঋণখেলাপি, সন্ত্রাসী জোটগুলোর প্রার্থী হয়েছে।

এসআই/এনএফ/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :