‘নারী-শিশু নির্যাতনকারীদের শাস্তি পেতেই হবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:৩৯ পিএম, ০৬ অক্টোবর ২০২০

মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা বলেছেন, নারী ও শিশু নির্যাতন সম্পূর্ণরূপে রোধ করতে সরকার বদ্ধপরিকর। দ্রুত বিচারের মাধ্যমে এদের শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। নারী-শিশু নির্যাতনকারী ও ধর্ষকদের শাস্তি পেতেই হবে। সরকারের পাশাপাশি সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সমাজ থেকে নারী ও শিশু নির্যাতন দূর করা হবে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে জাতীয় কন্যা শিশু দিবস উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় অনলাইনে যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর ও জাতীয় কন্যা শিশু এডভোকেসি ফোরামের যৌথভাবে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পারভিন আক্তার। আলোচনা সভায় বক্তৃতা করেন জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান চেমন আরা তৈয়ব, অতিরিক্ত সচিব ফরিদা পারভীন, শিশু একাডেমির মহাপরিচালক জ্যোতি লাল কুরী ও জাতীয় কন্যা শিশু এডভোকেসি ফোরামের সম্পাদক নাসিমা আক্তার জলি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, নারী-শিশু নির্যাতনকারী ও ধর্ষকের কোনো রাজনৈতিক, সামাজিক কিংবা পারিবারিক পরিচয় নেই। পরিবার ও সমাজ থেকে ধর্ষণকারীদের বর্জন করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে চিরতরে বহিষ্কার করতে হবে। সিলেট ও নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের ঘটনায় নির্যাতনকারী ও ধর্ষকদের গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের নামে মামলা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কন্যা শিশুর জীবনের শুরু ভালো হলে পরিবার সমাজ ও দেশ উপকৃত হয়। শিশুদের উন্নয়নের মাধ্যমে সমাজ থেকে বৈষম্য দূর করা যায়। কন্যা শিশুর নিরাপত্তা ও সুরক্ষায় সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি করা হয়েছে। ঝরে পড়া রোধ ও উপস্থিতির হার বৃদ্ধির জন্য ছাত্রীদের উপবৃত্তি প্রদান করা হচ্ছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে ছাত্রীদের হার ছাত্রদের তুলনায় বেশি। স্কুল-কলেজসমূহে স্বাস্থ্যসম্মত ওয়াশ ব্লক নির্মাণ করা হয়েছে। যেকোনো বিপদে তাৎক্ষণিক সহয়তার জন্য ন্যাশনাল হেল্প লাইন ১০৯ চব্বিশ ঘণ্টা চালু রয়েছে।

জাতিসংঘের উচ্চ পর্যায়ের সম্মেলনে কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ ৫০ শতাংশ করার অঙ্গীকার করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আজকের কন্যা শিশুই ২০৪১ সালে নারীর ৫০-৫০ কর্মসংস্থান নিশ্চিত করবে। প্রধানমন্ত্রীর এই অঙ্গীকার বিশ্বব্যাপী নারীর সমতা, ক্ষমতায়ন ও অগ্রগতি অর্জনে মুক্তির সনদ হিসেবে বিবেচিত হবে।

মহিলা বিষয়ক অধিদফতরের মহাপরিচালক পারভিন আক্তার বলেন, সরকার কন্যা শিশুর উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। যার মাধ্যমে সমতাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা হবে।

জাতীয় কন্যা শিশু এডভোকেসি ফোরামের সম্পাদক নাসিমা আক্তার জলি বলেন, শুধু আইন দিয়েই নারী ও কন্যা শিশুর প্রতি সহিংসতা রোধ করা যাবে না। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সমাজ থেকে কন্যা শিশুর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য দূর করতে হবে।

আলোচনা সভায় দেশের ৩৯টি সংগঠন ও ১২টি জেলা থেকে প্রতিনিধিরা সংযুক্ত ছিলেন। এছাড়া শতাধিক আলোচক, প্রিন্ট ও ইলেট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধি আজকের আলোচনা সভায় যোগদান করেন। এ বছর ‘আমরা সবাই সোচ্চার, বিশ্ব হবে সমতার’ প্রতিপাদ্যে জাতীয় কন্যা শিশু দিবস উদযাপন করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৪ সালে শিশু আইন প্রণয়ন করেন। যা ১৫ বছর পরে ১৯৮৯ সালে জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদ প্রণয়ন করে। ২০০০ সালে কন্যা শিশু দিবসের সূচনা করে বাংলাদেশ। জাতিসংঘ ২০১১ সালে কন্যা শিশু দিবস পালন করে। শিশুর উন্নয়ন, সুরক্ষা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ সব সময় অগ্রগামী।

এমইউএইচ/এমএসএইচ/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]