‘নারীরা আজ কোথাও নিরাপদ না’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:৩৫ পিএম, ২৮ ডিসেম্বর ২০২০

করোনাকালে নারী ও শিশু নির্যাতনের মাত্রা ক্রমবর্ধমান হারে বেড়েছে মন্তব্য করে বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আইনজীবী সালমা আলী বলেছেন, ‘আজ নারীরা বাসের মধ্যে নিরাপদ না। ঘরের মধ্যে নিরাপদ না। নারীরা কোথাও নিরাপদ না। এর পেছনে রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে। সে জায়গা থেকে আমাদের অনুরোধ, আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।’

‘একইসঙ্গে আমাদের দায়িত্ব হবে মানুষের মধ্যে ও কমিউনিটি পর্যায়ে সচেতনতা তৈরি করা। সেখানে রাজনৈতিক দলগুলোকে বিশেষ করে যারা দেশ চালাচ্ছে তাদের এমপি থেকে শুরু করে স্থানীয় চেয়ারম্যানকে একই রকম দায়িত্ব পালন করতে হবে।’

সোমবার (২৮ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত ‘নারী ও শিশু নির্যাতনের বর্তমান প্রেক্ষাপট-২০২০: বিশ্লেষণ ও করণীয়’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

সালমা আলী বলেন, ‘সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সহিংসতার রূপ পরিবর্তিত হচ্ছে এবং বাংলাদেশের নারী ও শিশুরা এর প্রধান শিকার হচ্ছেন।’

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির এক হিসাব অনুযায়ী চলতি বছরের ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে শুধু নারী ও শিশু সংক্রান্ত মামলার সংখ্যা অন্তত ১৮ হাজার ২২১টি।

এসময় নারী, শিশু ও অন্যান্য নির্যাতন বন্ধে সংগঠনটির পক্ষে লিখিত বক্তব্যে ১১টি সুপারিশ তুলে ধরেন সালমা আলী। সুপারিশগুলো হলো- ১. ধর্ষণের শিকার নারী ও শিশুদের জন্য সার্বিক আইনি সহযোগিতার ব্যবস্থা এমনভাবে করতে হবে, যেখানে তাদের কেন্দ্রবিন্দুতে রেখে সুরক্ষা বলয় নিশ্চিত করা হয়। ২. দ্রুত বিচার এবং সাক্ষী সুরক্ষার পাশাপাশি আধুনিক ফরেনসিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে মামলাগুলোর যথাযথ তদন্ত নিশ্চিত করা। ৩. তদন্তকার্য রাজনৈতিক ও প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত রাখতে হবে এবং আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষের সব স্তরে প্রশিক্ষিত কর্মী থাকতে হবে। ৪. উচ্চ আদালতে নারী নির্যাতন সংক্রান্ত সব মামলার বিচার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দ্রুত সম্পন্নের জন্য আলাদা কোর্ট প্রয়োজন। ৫. মানব পাচার সংক্রান্ত মামলার বিচার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দ্রুত সম্পন্নের জন্য ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ানো যেতে পারে।

৬. প্রতিবন্ধী নারী ও শিশুদের সামগ্রিক তথ্য-উপাত্ত সংরক্ষণের জন্য যথাযথ মনিটরিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। ৭. প্রান্তিক গোষ্ঠীর (প্রতিবন্ধী, হিজড়া) জন্য বৈষম্যহীন আইনি পরিষেবা নিশ্চিত করা। ৮. আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, শ্রম পরিদর্শক এবং অভিবাসন কর্মকর্তাসহ কর্মকর্তাদের পাচারের মামলার শনাক্তকরণ এবং পরিষেবাগুলোতে ভুক্তভোগী রেফারেলসহ প্রশিক্ষণ বাড়ানো।

৯. সব কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে কার্যকরী কমিটি গঠন। ১০. নারী শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০০ সংশোধিত-২০২০ এ সব ধরনের ধর্ষণকে আওতাভুক্ত করার জন্য পেনিট্রেশনের একটি সংজ্ঞা যুক্ত করতে হবে, যাতে করে ধর্ষণের শিকার বা ধর্ষণ অপরাধের মধ্য দিয়ে যাওয়া ব্যক্তির যোনি, মলদ্বার বা মুখে যৌনাঙ্গ পেনিট্রেশনসহ বিভিন্ন বস্তুর বা অপরাধীর শরীরের অন্য অঙ্গের পেনিট্রেশন অন্তর্ভুক্ত হয়।

১১. সাক্ষ্য আইনের ১৫৫ (৪) ধারা এবং এ সংক্রান্ত অন্যান্য ধারা সংশোধনের মাধ্যমে ধর্ষণ মামলার বিচারে অভিযোগকারীর চরিত্রগত সাক্ষ্যের গ্রাহ্যতা বন্ধ করতে হবে।

সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জোবায়দা পারভিনের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সমিতির নির্বাহী সদস্য অ্যাডভোকেট জাকিয়া আনার কলি। এসময় তৃতীয় লিঙ্গের ইভান আহমেদ কথা, যৌনকর্মী হেনা, গৃহকর্মী আকতারী ও অভিবাসী শ্রমিক আসমাসহ অন্যরা নিজদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

এওয়াইএইচ/ইএ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]