দেশজুড়ে

বনদস্যুদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দাতাদের খুঁজে বের করা হবে

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, সরকার সুন্দরবনকে একটি নিরাপদ স্থান হিসেবে দেখতে চায়। সুন্দরবনে জেলে, বাওয়ালী ও ব্যবসায়ীরা যাতে নিরাপদে কাজ করতে পারে। পাশাপাশি সুন্দরবনকে পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় ও নিরাপদ জোন হিসেবে গড়ে তুলতে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। মঙ্গলবার বিকেলে বাগেরহাটের মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের ইঞ্জিনিয়ারিং জেটিতে বনদস্যু মাস্টার বাহিনীর ১০ সদস্যের আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।সুন্দরবনে অন্যান্য বনদস্যু বাহিনীকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে মাস্টার বাহিনীর মতো আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সুন্দরবনসহ এ অঞ্চলের সুরক্ষার জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। ফলে তাদের তৎপরতা কোনোভাবেই বৃদ্ধি করতে পারবে না। বনদস্যুদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দাতাদের খুঁজে বের করা হবে। আর এই অঞ্চলকে ঝুঁকিমুক্ত করা হবে। তিনি বলেন, আত্মসমর্পণকারী বনদস্যুদের আইনি সহায়তা দেয়া হবে। তারা ভঙ্ককর জীবন থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে। কোস্টগার্ডের জন্য চারটি আধুনিক নৌযান কেনা হয়েছে। খুব শিগগিরই এ অঞ্চলের কোস্টগার্ডের সঙ্গে জেলে, বাওয়ালীদের নিরাপত্তা ও সুন্দরবনসহ সাগর উপকূলকে নিরাপদ রাখতে এগুলো যুক্ত হবে। পাশাপাশি র‌্যাবকে শক্তিশালী করা হচ্ছে, এক কথায় প্রধানমন্ত্রীর কমিটমেন্ট অনুযায়ী সুন্দরবনকে সুরক্ষার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সব ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হবে। বনদস্যুদের অস্ত্র ও গুলি সমর্পণ অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, র‌্যাবের উপ-প্রধান কর্নেল আনোয়ার, খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামান, র‌্যাব-৬ এর কমান্ডার খোন্দকার রফিকুল ইসলাম, র‌্যাব-৮ এর কমান্ডার ফরিদুল আলম, অপারেশন অফিসার মেজর আদনান কবীর, বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মো. জাহাংগীর প্রমুখ।এর আগে রোববার ভোরে বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবনের চাদঁপাই রেঞ্জের চরাপুটিয়া এলাকায় ৫১টি বিভিন্ন ধরনের দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও প্রায় ৫ হাজার রাউন্ড বিভিন্ন ধরনের গোলাবারুদ তারা র‌্যাবের কাছে জমা দেয়। র‌্যাব-৮ এর অপারেশন অফিসার মেজর আদনান কবীর জানান, আত্মসমর্পণকারী দস্যুদের বিরুদ্ধে অর্ধ-শতাধিক মামলা রয়েছে। তাদের পুলিশে সোপর্দ করা হবে।

আত্মসমর্পণকারীরা হলেন, বাহিনীর প্রধান মোস্তফা শেখ ওরফে কাদের মাস্টার (৪৭), সেকেন্ড ইন কমান্ড সোহাগ আকন (৩৭), ফজলু শেখ (৩৫), সোলায়মান শেখ (২৮), মো. শাহিন শেখ (২৮), মো. হারুন (২৪), মো. আরিফ সরদার (২২), মো. আসাদুল ইসলাম (২৭), সুমন সরকার (৩৪) ও মো. সুলতান খান (৫৮)।র‌্যাব সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরবন দাঁপিয়ে বেড়ানো বনদস্যু মাস্টার বাহিনী তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নেয়। সে মতে তারা বেসরকারি টিভি চ্যানেলের সিনিয়র সাংবাদিক মহসিন উল হাকিমের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আত্মসমর্পণের জন্য লিখিত আবেদন করেন। এরই অংশ হিসেবে মঙ্গলবার বিকেলে বনদস্যু মাস্টার বাহিনীর প্রধানসহ ১০ সদস্য ৫২টি অস্ত্র, ৫ হাজার গুলি ও ট্রলারসহ অন্যান্য উপকরণ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের হাতে তুলে দেয়। শওকত আলী বাবু/এআরএ/এবিএস/এমএএস