চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতার মুখে তাইওয়ান তার সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও প্রতিরক্ষা শক্তি বাড়াতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে জানিয়েছেন স্বায়ত্ত্বশাসিত অঞ্চলটির প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) নতুন বছরের ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।
বেইজিংয়ের সাম্প্রতিক সামরিক মহড়ার অংশ হিসেবে তাইওয়ানের দিকে রকেট নিক্ষেপের পর প্রেসিডেন্ট লাই বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন দেখছে—তাইওয়ানের জনগণের নিজেদের রক্ষার দৃঢ়তা কতটা রয়েছে।
তাইপের প্রেসিডেন্সিয়াল কার্যালয় থেকে সরাসরি সম্প্রচারিত ভাষণে লাই বলেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমার অবস্থান সব সময় স্পষ্ট—জাতীয় সার্বভৌমত্ব দৃঢ়ভাবে রক্ষা করা এবং জাতীয় প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করা।
এ সময় তিনি তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা বাজেট ৪০ বিলিয়ন ডলার বাড়ানোর প্রস্তাবে বিরোধী দলগুলোর সমর্থন চান। তবে বিরোধী দল নিয়ন্ত্রিত পার্লামেন্টে রাজনৈতিক অচলাবস্থার কারণে প্রস্তাবটি আটকে রয়েছে।
চীনের ২০২৭ সালের মধ্যে তাইওয়ান দখলের সক্ষমতা অর্জনের প্রস্তুতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এক প্রতিবেদনের প্রসঙ্গে লাই বলেন, চীন তার লক্ষ্য নির্ধারিত সময়ে অর্জন করতে পারবে কি না, সেটা এক বিষয়। তবে ২০২৬ সাল তাইওয়ানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে, তবে সেরা ফলের আশাও রাখতে হবে।
চীনের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে লাই বলেন, সমতা ও মর্যাদার ভিত্তিতে বেইজিংয়ের সঙ্গে সংলাপ ও সহযোগিতায় তাইওয়ান আগ্রহী। তবে শর্ত হলো—চীনকে তাইওয়ানের অস্তিত্ব স্বীকার করতে হবে এবং তাইওয়ানের জনগণের গণতান্ত্রিক ও স্বাধীন জীবনযাপনের আকাঙ্ক্ষাকে সম্মান করতে হবে।
তাইওয়ান একটি গণতান্ত্রিকভাবে শাসিত ভূখণ্ড হলেও চীন এটিকে নিজেদের অংশ বলে দাবি করে এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের হুমকিও দিয়ে আসছে। তাইপে বরাবরই এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
প্রেসিডেন্ট লাইয়ের ভাষণের পর চীন কড়া প্রতিক্রিয়া জানায়। চীনের তাইওয়ান বিষয়ক দপ্তরের এক মুখপাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম সিসিটিভিকে বলেন, লাই চিং-তে তাইওয়ানের জনগণকে বিভ্রান্ত করছেন এবং আন্তর্জাতিক জনমতকে ভুল পথে চালিত করার চেষ্টা করছেন।
মুখপাত্রের ভাষায়, লাই চিং-তের বক্তব্য মিথ্যা, দায়িত্বজ্ঞানহীন দাবি, শত্রুতা ও বিদ্বেষে ভরা।
লাইয়ের ভাষণ আসে চীনের ‘জাস্টিস মিশন ২০২৫’ নামে বৃহৎ সামরিক মহড়ার মাত্র দুই দিন পর। ওই মহড়ায় চীন তাইওয়ানের দিকে কয়েক ডজন রকেট নিক্ষেপ করে এবং দ্বীপটির আশপাশে বিপুল সংখ্যক যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে। এতে ইউরোপীয় কমিশন ও যুক্তরাজ্যসহ পশ্চিমা মিত্রদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়।
তাইপে এই মহড়াকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি ও স্পষ্ট উসকানি বলে নিন্দা জানায়। বুধবার গভীর রাতে বেইজিং জানায়, মহড়া শেষ হয়েছে, তবে চীনা সেনাবাহিনী তাদের যুদ্ধ প্রস্তুতি আরও জোরদার করবে।
এদিকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নতুন বছরের ভাষণে আবারও বলেন, তাইওয়ানের সঙ্গে চীনের ‘পুনঃএকত্রীকরণ’ ঠেকানো যাবে না।
সূত্র: রয়টার্স
এমএসএম