দেশজুড়ে

‎সরকারি পুকুরের মাছ ভাগাভাগি করে নিলেন ইউএনও-কর্মকর্তারা

‎গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে সরকারি পুকুর থেকে মাছ তুলে ইউএনও ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ভাগাভাগি করার অভিযোগ উঠেছে। সরকারি পুকুরের এসব মাছ গরীবদের মাঝে বিতরণ না করে নিজেরা ভাগবাটোয়ারা করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ‎এর আগে ‎বুধবার দুপুরে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের পুকুর থেকে এসব মাছ উত্তোলন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফফাত জাহান তুলি। পরে সন্ধ্যায় এসব মাছ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে ভাগাভাগি করে দেন ইউএনও। বিষয়টি জানাজানি হলে তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয়রা।‎‎জানা গেছে, উপজেলা পরিষদের বার্ষিক উন্নয়ন প্রকল্প (এডিপি) বরাদ্দের অর্থে প্রতিবছর এ পুকুরে মাছ অবমুক্ত করা হয়। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী মাছ উত্তোলনের পর তা গরীব, দুঃখী, দুঃস্থ, অসহায় মানুষ ও এতিমখানায় বিতরণের কথা থাকলেও অভিযোগ রয়েছে এবার সেটি অনুসরণ করা হয়নি।‎‎প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রশাসনের কর্মচারী ও আনসার সদস্যদের পাহারায় ভ্যানে করে মাছভর্তি বস্তা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সরকারি বাসভবনের সামনে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে মাছ ভাগ করে নেওয়া হয়।

‎‎নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মচারী বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে পরিষদের পুকুর থেকে মাছ উত্তোলন করা হয়। পরে এসব মাছ কর্মকর্তা ও অফিস স্টাফদের মধ্যে ৩২ জনের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। ইউএনও নিজেই এসব মাছ ভাগাভাগি করে দেন।‎‎স্থানীয়দের অভিযোগ, যেখানে দেশজুড়ে রাষ্ট্রীয় শোক পালিত হচ্ছে সেখানে এমন ‘হৈ-হুল্লোড়’ করে মাছ ধরা এবং তা গরীব-দুঃখীদের বঞ্চিত রেখে স্টাফদের মধ্যে ভাগ করে নেওয়া দুঃখজনক ও বিবেকবর্জিত। এতে প্রশাসনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তারা।‎‎এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, গত দুই বছর ধরে পুকুরের মাছ তোলা হয়নি। মাছ বড় হয়েছে কি না তা দেখার জন্য কিছু মাছ তোলা হয়েছিল। পরে যখন মাছ ধরা হবে তখন গরীব-দুঃখীদের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে।

আনোয়ার আল শামীম/আরএইচ/এমএস