ধর্ম

বিয়ের খুতবা ও আনুষঙ্গিক বিধান

ইসলামে বিয়ের আকদের মজলিসে খুতবা পাঠ করা সুন্নত। রাসুল (সা.) বিয়ের আকদ অর্থাৎ ইজাব-কবুলের আগে খুতবা পাঠ করতেন। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিস থেকে জানা যায়, রাসুল (সা.) বিয়ের সময় খুতবা পাঠ করতে শিখিয়েছেন অর্থাৎ ইজাব কবুলের আগে আল্লাহর হামদ ও সানা পড়া এবং পবিত্র কোরআনের তিনটি আয়াত পড়া; আয়াতগুলো হলো, যথাক্রমে সুরা নিসা: ১, সুরা আলে ইমরান: ১০২ এবং সুরা আহজাব: ৭০, ৭১। (সুনানে আবু দাউদ) এ ছাড়া বিয়ের ব্যাপারে ইসলামের দিক নির্দেশনা ও পাত্র-পাত্রীর উদ্দেশে নসিহতও বিয়ের খুতবার অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

আরবি বিয়ের খুতবা 

إِنَّ الْحَمْدَ لِلَّهِ نَحْمَدُهُ وَنَسْتَعِينُهُ وَنَسْتَغْفِرُهُ وَنُؤْمِنُ بِهِ وَنَتَوَكَّلُ عَلَيْهِ، وَنَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ شُرُورِ أَنْفُسِنَا وَمِنْ سَيِّئَاتِ أَعْمَالِنَا، مَنْ يَهْدِهِ اللَّهُ فَلَا مُضِلَّ لَهُ، وَمَنْ يُضْلِلْ فَلَا هَادِيَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إِلٰهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ سَيِّدَنَا وَمَوْلَانَا مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ، الَّذِي أُرْسِلَ إِلَى النَّاسِ كَافَّةً بَشِيرًا وَنَذِيرًا، وَدَاعِيًا إِلَى اللَّهِ بِإِذْنِهِ سِرَاجًا وَقَمَرًا مُنِيرًا، أَمَّا بَعْدُ فَأَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ، بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ

قَالَ تَعَالَى: يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ وَقَالَ تَعَالَى: يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ، وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا، وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً، وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ، إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا وَقَالَ تَعَالَى: يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا، يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ، وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ، وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا

وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ: إِذَا تَزَوَّجَ الْعَبْدُ فَقَدِ اسْتَكْمَلَ نِصْفَ الدِّينِ، فَلْيَتَّقِ اللَّهَ فِي النِّصْفِ الْبَاقِي وَقَالَ ﷺ: النِّكَاحُ مِنْ سُنَّتِي، فَمَنْ رَغِبَ عَنْ سُنَّتِي فَلَيْسَ مِنِّي وَقَالَ: تَزَوَّجُوا الْوَدُودَ الْوَلُودَ، فَإِنِّي مُكَاثِرٌ بِكُمُ الْأَنْبِيَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ

বিয়ের খুতবার বাংলা উচ্চারণ

ইন্নাল হামদা লিল্লাহি নাহমাদুহু ওয়া নাস্তাঈনুহু ওয়া নাস্তাগফিরুহু ওয়া নু’মিনু বিহি ওয়া নাতাওয়াক্কালু ‘আলাইহি। ওয়া না‘ঊযু বিল্লাহি মিন শুরূরি আনফুসিনা ওয়া মিন সাইয়িআতি আ‘মালিনা। মান ইয়াহদিহিল্লাহু ফালা মুদিল্লা লাহু, ওয়া মান ইউদলিল ফালা হাদিয়া লাহু। ওয়া আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, ওয়া আশহাদু আন্না সাইয়্যিদানা ওয়া মাওলানা মুহাম্মাদান ‘আবদুহু ওয়া রাসূলুহু, আল্লাযী উরসিলা ইলান নাসি কাফফাতান বাশীরাঁও ওয়া নাযীরাঁও, ওয়া দা‘ইয়ান ইলাল্লাহি বিইযনিহি সিরাজাঁও ওয়া কামারাম মুনীরা। আম্মা বা‘দ; ফাআ‘ঊযু বিল্লাহি মিনাশ শাইত্বানির রাজীম। বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম।

কালা তাআলা ইয়া আইয়ুহাল্লাযীনা আমানুত্তাকুল্লাহা হাক্কা তুক্বাতিহি ওয়া লা তামূতুন্না ইল্লা ওয়া আনতুম মুসলিমূন। ওয়া কালা তাআলা ইয়া আইয়ুহান নাসুত্তাকূ রব্বাকুমুল্লাযী খালাক্বাকুম মিন নাফসিও ওয়াহিদাহ, ওয়া খালাক্বা মিনহা যাওজাহা, ওয়া বাসসা মিনহুমা রিজালান কাসীরাঁও ওয়া নিসা’আ। ওয়া কালা তাআলা ইয়া আইয়ুহাল্লাযীনা আমানুত্তাকুল্লাহা ওয়া কূলূ কাওলান সাদীদা, ইউসলিহ লাকুম আ‘মালাকুম ওয়া ইয়াগফির লাকুম যুনূবাকুম, ওয়া মান ইউতি‘ইল্লাহা ওয়া রাসূলাহু ফাক্বাদ ফাজা ফাওযান ‘আযীমা।

ওয়া কালা রাসুলুল্লাহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইযা তাযাওয়াজাল ‘আবদু ফাক্বাদিসতাকমালা নিসফাদ্দীন, ফালইয়াত্তাকিল্লাহা ফিন্নিসফিল বাক্বী। ওয়া কালা রাসুলুল্লাহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আন্নিকাহু মিন সুন্নাতী, ফামান রাগিবা ‘আন সুন্নাতী ফালাইসা মিন্নী। ওয়া কালা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাযাওয়াজুল ওয়াদূদাল ওয়ালূদ, ফাইন্নী মুকাসিরুম বিকুমুল আম্বিয়া’আ ইয়াওমাল ক্বিয়ামাহ।

বিয়ের খুতবার বাংলা অনুবাদ

নিশ্চয়ই প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তার প্রশংসা করছি। তাঁর সাহায্য প্রার্থনা করছি এবং তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আমরা আমাদের নফসের অকল্যাণ থেকে এবং আমাদের খারাপ কর্মগুলো থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হেদায়াত করেন তাকে কেউ বিভ্রান্ত করতে পারেনা, আর আল্লাহ যাকে বিভ্রান্ত করেন তাকে কেউ হেদায়াত দিতে পারেনা এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং মোহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসুল।

হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে সত্যিকারভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে তোমরা মৃত্যুবরণ করো না। (সুরা আলে ইমরান: ১০২)

হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো যিনি তোমাদেরকে একটি প্রাণ থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকেই তার জোড়াকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। ভয় করো যার নামে তোমরা একে অপরের নিকট জিজ্ঞাসা করো এবং সতর্ক থাকো রক্ত আত্মীয়তার বন্ধন সম্পর্কে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের উপর তিক্ষ্ম দৃষ্টি রাখেন। (সুরা নিসা: ১)

হে মুমিনগণ! আল্লাহকে ভয় করো এবং সত্য কথা বলো। তিনি তোমাদের কর্মক্ষেত্র ত্রুটি মুক্ত করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে তারা অবশ্যই মহাসাফল্য অর্জন করে। (সুরা আহজাব: ৭০, ৭১)

আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, বান্দা যখন বিয়ে করে তখন সে তার অর্ধেক দ্বীন পূর্ণ করে নেয়। অতএব তাকে তার উচিত অবশিষ্ট অর্ধেক দ্বীনের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করা। (সহিহুত তারগিব ওয়াত তারহিব)

রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, নিকাহ আমার সুন্নত। যে ব্যক্তি আমার সুন্নত থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, সে আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়। তিনি (সা.) আরও বলেছেন, আপনারা স্নেহশীলা ও সন্তানপ্রসূ নারীদেরকে বিয়ে করুন; কেননা কেয়ামতের দিন আমি আপনাদের সংখ্যা নিয়ে গর্ব করব। (মুসনাদে আহমদ)

বিয়ের খুতবা অপরিহার্য নয়

বিয়ের আকদের সময় খুতবা পড়া ওয়াজিব নয়। খুতবা আকদের অপরিহার্য অংশ নয়। কোনো বিয়ের মজলিসে যদি খুতবা না পড়া হয় বা হাদিসে বর্ণিত হামদ-সানা ও আয়াতগুলো যথাযথভাবে না পড়া হয়, তবুও বিয়ে শুদ্ধ হয়ে যাবে।

আকদের জন্য অপরিহার্য হলো, দুজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে ইজাব ও কবুল করা অর্থাৎ এক পক্ষ ইজাব করা বা প্রস্তাব দেওয়া, আরেক পক্ষ গ্রহণ করা বা কবুল করা। সাধারণত বিয়ের ইজাব বা প্রস্তাব করা হয় কনেপক্ষের তরফ থেকে আর বর প্রস্তাব কবুল করেন। অভিভাবক যদি কনের সম্মতি নিয়ে দুজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে নিজে বা যিনি বিয়ে পড়াবেন তার মাধ্যমে প্রস্তাব দেন এবং বর ‘কবুল করলাম’ বলেন, তাহলে বিয়ে হয়ে যাবে।

ওএফএফ