আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী ভেনেজুয়েলা: মাদুরো

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো বলেছেন, মাদক পাচার ও তেল ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসতে তার সরকার প্রস্তুত। তার সরকারের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপ বাড়ার কয়েক সপ্তাহ পর তিনি এ কথা বলেন।

ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মাদুরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে যেখানেই হোক, যখনই হোক তিনি সংলাপে বসতে প্রস্তুত।

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক বক্তব্য প্রসঙ্গে প্রশ্ন এড়িয়ে যান মাদুরো। ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় একটি নোঙর স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে—যা দেশটির ভেতরে প্রথম হামলা এবং এটি নাকি সিআইএ পরিচালিত।

গত তিন মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ক্যারিবীয় সাগর ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক পাচারের সন্দেহে বিভিন্ন নৌযানে হামলা চালাচ্ছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষিত মাদকবিরোধী যুদ্ধ-এর অংশ হিসেবে এখন পর্যন্ত ৩০টির বেশি নৌযানে হামলা চালানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক জলসীমায় ২ সেপ্টেম্বর প্রথম হামলার পর থেকে এসব অভিযানে ১১০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

সবশেষ হামলাটি হয় বুধবার। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, মাদক বহনের অভিযোগে দুটি নৌযানে হামলা চালানো হলে এতে পাঁচজন নিহত হন।

সোমবার ট্রাম্প বলেন, ভেনেজুয়েলার মাদকবাহী নৌযানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ডক এলাকায় যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে, যাতে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটে।

সিএনএন ও নিউইয়র্ক টাইমস সূত্রের বরাতে জানায়, ওই বিস্ফোরণটি সিআইএর ড্রোন হামলায় ঘটেছে। বিষয়টি নিশ্চিত হলে এটি হবে ভেনেজুয়েলার ভেতরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম পরিচিত সামরিক অভিযান।

তবে সাক্ষাৎকারে মাদুরো এ বিষয়ে সরাসরি কিছু বলেননি। হামলার সত্যতা স্বীকার বা অস্বীকার প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে হয়তো কয়েক দিনের মধ্যে কথা বলা যেতে পারে।

মাদক পাচারের পাশাপাশি তেল ও অভিবাসন ইস্যুতেও আলোচনায় আগ্রহ প্রকাশ করেন মাদুরো।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক—বিশেষ করে ফেন্টানিল ও কোকেন—প্রবেশ ঠেকাতে জোর দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

এ ছাড়া মাদুরোকে ধরিয়ে দেওয়ার তথ্যের জন্য ঘোষিত পুরস্কারের অঙ্ক দ্বিগুণ করেছেন ট্রাম্প এবং মাদুরোর সরকারকে ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’ (এফটিও) ঘোষণা করার কথাও জানিয়েছেন।

মাদুরো জোর দিয়ে দাবি করেছেন, তিনি কোনো মাদকচক্রের নেতা নন। তার অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র মাদকবিরোধী যুদ্ধ-কে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে তাকে ক্ষমতা থেকে সরাতে এবং ভেনেজুয়েলার বিশাল তেলসম্পদের দখল নিতে চাইছে।

মাদকবিরোধী বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক মাদক পাচারে ভেনেজুয়েলার ভূমিকা তুলনামূলকভাবে সীমিত।

ভেনেজুয়েলার প্রতিবেশী কলম্বিয়া বিশ্বের সবচেয়ে বড় কোকেন উৎপাদক হলেও, এর বেশিরভাগ যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছায় অন্য পথ দিয়ে, ভেনেজুয়েলা হয়ে নয়।

কোনো প্রমাণ না দেখিয়েই ট্রাম্প মাদুরোর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন যে তিনি কারাগার ও মানসিক হাসপাতাল খালি করে সেখানকার বন্দিদের যুক্তরাষ্ট্রে পাঠিয়েছেন।

২০১৩ সাল থেকে অর্থনৈতিক সংকট ও দমন-পীড়নের কারণে প্রায় ৮০ লাখ ভেনেজুয়েলান দেশ ছেড়ে পালিয়েছে বলে ধারণা করা হয়, যাদের একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্রে গেছে।

এদিকে, নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত তেলবাহী জাহাজ ভেনেজুয়েলায় যাতায়াতের বিষয়েও কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

সূত্র: বিবিসি

এমএসএম