ধর্ম

পরিবারের জন্য ব্যয়ে সদকার সওয়াব

মুফতি ইফতেখারুল হক হাসনাইন 

অনেকে মনে করেন, সদকা মানে শুধু গরিব-মিসকিনদের দান করা বা মসজিদ-মাদ্রাসায় অর্থ দেওয়া। কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে নিজের পরিবারের জন্য খরচ করাও সদকা ও গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। কিছু হাদিসে এটাকে অন্যান্য দানের চেয়েও উত্তম বলা হয়েছে। কারণ পরিবারের ভরণ-পোষণ একটি ফরজ দায়িত্ব, পাশাপাশি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের নিয়ত করলে সদকার সওয়াবও লাভ হয়।

রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, যখন কোনো মুসলমান তার পরিবারের জন্য খরচ করে এবং এতে আল্লাহর কাছে সওয়াবের আশা করে, তখন তা তার জন্য সদকা হয়। (সহিহ বুখারি: ৫৩৫১, সহিহ মুসলিম: ১০০২)

অন্য এক হাদিসে এসেছে, তোমার পরিবারের জন্য যা খরচ করো, তার জন্যও তোমাকে সওয়াব দেওয়া হবে। এমন কি তোমার স্ত্রীর মুখে যে লোকমা তুলে দাও, সেটার জন্যও। (সহিহ বুখারি: ১২৯৫, সহিহ মুসলিম: ১৬২৮)

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ধরো তুমি একটি দিনার আল্লাহর রাস্তায় খরচ করলে, একটি দিনার কোনো গোলাম আজাদ করার জন্য ব্যয় করলে, একটি দিনার মিসকিনকে দান করলে এবং একটি দিনার পরিবারের জন্য খরচ করলে—এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সওয়াবের কাজ হলো পরিবারের জন্য খরচ করা। (সহিহ মুসলিম: ৯৯৫)

এই হাদিসগুলো থেকে বোঝা যায় যে, পরিবারের জন্য খরচ করা যেমন ফরজ দায়িত্ব, এতে অপরিসীম সওয়াবও রয়েছে। সন্তানের লেখাপড়া, খাওয়া-দাওয়া, পোশাক-আশাক, চিকিৎসা—সবকিছুই যদি আল্লাহর সন্তুষ্টির নিয়তে করা হয়, তাহলে তা ইবাদত এবং সদকা গণ্য হয়।

কোরআন মাজিদেও পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনের জন্য খরচ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, তারা তোমাকে জিজ্ঞাসা করে, তারা কী ব্যয় করবে? বল, তোমরা যে সম্পদ ব্যয় করবে, তা বাবা-মা, আত্মীয়, এতিম, মিসকিন ও মুসাফিরদের জন্য। আর যে কোনো ভাল কাজ তোমরা কর, নিশ্চয় সে ব্যাপারে আল্লাহ সুপরিজ্ঞাত’। (সুরা বাকারা: ২১৫)

এ আয়াতে স্পষ্ট যে, দান-সদকার প্রথম হকদার হলেন বাবা-মা ও দরিদ্র নিকটাত্মীয়রা। পরিবার ও আত্মীয়দের জন্য খরচ করা শুধু সদকা নয়, বরং আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করারও একটি মাধ্যম, যাতে দ্বিগুণ সওয়াব পাওয়া যায়।

তাই পরিবারের জন্য খরচ করার সময় আল্লাহর সন্তুষ্টির ও পরিবারের হক আদায়ের নিয়ত করুন—তাহলে প্রতিটি টাকা আপনার আমলনামায় সদকা হিসেবে লেখা হবে। এটি একটি সহজ ইবাদত, যা প্রতিদিন করা যায়। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে তাওফিক দিন! আমিন।

লেখক: মুহাদ্দিস, দারুল উলুম মাকবুলিয়া মাদরাসা, দেবিদ্বার, কুমিল্লা

ওএফএফ