দেশজুড়ে

ঘন কুয়াশা-মৃদু শৈত্যপ্রবাহে স্থবির কুড়িগ্রামের জনজীবন

কুড়িগ্রামে রাতভর বৃষ্টির মতো ফোঁটায় ফোঁটায় ঝরছে ঘন কুয়াশা। বিকেল গড়াতেই কুয়াশার দাপট শুরু হয়ে চলে পরদিন বেলা ১১টা পর্যন্ত। বেলা বাড়লেও সূর্যের দেখা মেলে না; আর দেখা মিললেও তা একেবারে তাপহীন। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া ও নিম্নআয়ের মানুষ।

শনিবার (৩ জানুয়ারি) জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই সঙ্গে বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৯ শতাংশ।

রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, গত কয়েকদিন ধরে এ জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। জানুয়ারি মাসজুড়ে শীতের প্রকোপ থাকবে। তবে তাপমাত্রা ওঠানামা করবে।

এদিকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশার প্রভাবে নিম্নআয়ের মানুষ বিপাকে পড়েছেন। কাজের সুযোগ কমে যাওয়ায় আয় ব্যাহত হচ্ছে। ঠান্ডায় বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সর্দি, কাশি, জ্বরসহ শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।

মোগলবাসা এলাকার রিকশাচালক মজিবর রহমান বলেন, সকালে রিকশা নিয়ে বের হলে যাত্রী পাওয়া যায় না। শীত কমার জন্য অপেক্ষা করলে দিনের অর্ধেক চলে যায়, ফলে আয়-রোজগার হয় না। তাই বাধ্য হয়েই এই হাড়কাঁপানো শীত উপেক্ষা করে রিকশা নিয়ে বের হতে হয়।

হাতিয়া ভবেশের কৃষক বাদশা মিয়া বলেন, টানা শীতের কারণে ধানের বীজতলা রোগাক্রান্ত হচ্ছে। পলিথিন দিয়ে ঢেকে রেখেও খুব একটা কাজ হচ্ছে না।

রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানানো হয়েছে, শৈত্যপ্রবাহকে সাধারণত তিন ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়—ভারী, মাঝারি ও মৃদু। বর্তমানে কুড়িগ্রামে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ চলছে এবং আগামী কয়েকদিন এই আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে।

রোকনুজ্জামান মানু/এমএন/এএসএম